প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৮
দেশের শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে চান্দ্রা শিক্ষিত বেকারের মো. জসিম উদ্দিনের জাতীয় সমবায় পদক অর্জন

৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসে দেশের শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে চাঁদপুর চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ‘জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০২৫’ অর্জন করেছেন।
রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছ থেকে তিনি এ পদক গ্রহণ করেন। শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক, চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
মো. জসিম উদ্দিন এর আগেও ২০০৮ সালে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে জাতীয় সমবায় পুরস্কার পান। দীর্ঘ দু দশকেরও বেশি সময় ধরে সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এবারের সমবায় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, সচিব ড. রফিকুল মোহামেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির।
পুরস্কার বিতরণ শেষে অনুষ্ঠানস্থলে প্রদর্শিত বিভিন্ন সমবায় স্টল পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি।
অনুষ্ঠানে সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করা, দুর্নীতিমুক্তকরণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, "দুর্নীতির কারণে দেশের অধিকাংশ সমবায় সমিতির কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। অথচ সমবায় আন্দোলনের রয়েছে দীর্ঘ ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস। এই আন্দোলনকে সফল করতে হলে সংগঠনগুলোকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।"
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনে স্বাধীনতাবোধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, "তিনি সমবায়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ষাটের দশকে সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ ড. আখতার হামিদ খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে 'বার্ড'-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব দিয়ে এই আন্দোলনকে গতিশীল করেছিলেন।" একইসঙ্গে সমবায় উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা তুলে ধরে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে এ খাত আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সমবায় সমিতিগুলোকে এনজিওদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "দেশে এনজিও খাতের সাফল্যের কারণে সমবায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তাই এমন নীতি ও কাঠামো তৈরি করতে হবে যেন সমবায় সমিতিগুলো সক্ষমতা অর্জন করে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে।"
উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বিপণনে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় যৌথভাবে 'সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি' গঠন করে পণ্য বিপণনে সহায়তা করতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "সমবায়ের মূল ভিত্তিই হলো একতা। নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।"
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দৃষ্টান্ত টেনে সফল সমবায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "আপনারা সমবায় আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে শুধু ধরে রাখলেই চলবে না, এটিকে আরও বিস্তৃত করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।"








