বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২১

রমজানে ক্রয়মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রয়

ফরিদগঞ্জের শাহআলম এখন সকলের অনুকরণীয়

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
ফরিদগঞ্জের শাহআলম এখন সকলের অনুকরণীয়

পবিত্র মাহে রমজান মানে নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস। সরকার গত ক'বছর টিসিবির মাধ্যমে কমদামে কিছু নিত্যপণ্য বিক্রি করলেও তা শুধু কার্ডধারীরাই পাচ্ছে। ফলে বিপুল জনগোষ্ঠীকে উচ্চমূল্যে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে। আর মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা ফুলে ফেঁপে আরো ধনী হচ্ছে। তবে সেসব থেকে অনেক দূরে গ্রামের নিভৃত পল্লীর একজন শাহ আলম। গত কয়েক বছর ধরে প্রথমে এক টাকা লাভে এবং পরবর্তীতে ক্রয় মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি করে আলোড়ন তুলেছেন। ইবাদতের এই মাসে ব্যবসা বাদ দিয়ে সেবার মনমানসিকতার কারণে ইতোমধ্যেই শাহ আলম জেলা পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর দেখাদেখি ফরিদগঞ্জের ক'টি স্থানে রমজানে ১ টাকা লাভে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।

অনুকরণীয় এ ব্যবসায়ী শাহআলমের বাড়ি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্য চরকুমিরা গ্রামে। তিনি তাঁর মুদি দোকানে

৮টি পণ্য বিক্রি করছেন বিনা লাভে। যেমন : ছোলা (বুট), খেসারির ডাল, বেসন, মুড়ি, চিড়া, চিনি, খেজুর ও সয়াবিন তেল। এসব পণ্যের মূল্য তালিকা তিনি তার দোকানে সাঁটিয়ে দিয়েছেন। মূল্য তালিকা দেখে ক্রেতারা হাসিমুখে পণ্য ক্রয় করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন, কাউসার হোসাইন, জহিরুল ইসলামসহ আরো ক'জন বলেন, সারাদেশে যেখানে পবিত্র রমজান মাস আসলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, ছোট ব্যবসায়ী হলেও আমাদের এলাকার মুদি দোকানদার শাহআলম রোজাদারদের জন্যে উদারতা দেখিয়ে চলছেন। আগে তিনি ২ বছর ক্রয় মূল্য থেকে মাত্র ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করতেন। গত বছর থেকে তিনি শুধু ক্রয় মূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন।

মুদি ব্যবসায়ী শাহআলম জানান, বছরের অন্য ১১ মাস ব্যবসা করি, তাতেও লাভ কম করার চেষ্টা করি। এতে কাস্টমার বেশি আসে। রমজান মাস আসলে মুুসলিম

দেশগুলোতে পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়া হয়, যেন মানুষ এবাদত করতে কষ্ট না হয়। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এলাকার গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, দু বছর কেনা দাম থেকে ১ টাকা লাভে বিক্রি করেছি। গত বছর ও এ বছর ক্রয়মূল্যে রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় ৮টি পণ্য বিক্রি করছি।

এদিকে শাহআলমের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে মন্তব্য করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, অন্য ব্যবসায়ীরা এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে। ফরিদগঞ্জের শাহ আলম পুরো দেশের জন্যে অনুকরণীয় হোক-- এটা বড়ো চাওয়া।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়