প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ১৯:৩৫
গ্রাহক ও অফিসের টাকা নিয়ে পালালো এনজিও 'দিশা'র মাঠ কর্মী

ফরিদগঞ্জ উপজেলার এনজিও গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও ডেভলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ফর সোস্যাল এডভান্সমেন্ট (দিশা)-এর মাঠকর্মী মোজাম্মেল হক।
|আরো খবর
সম্প্রতি সাজুদা বেগম নামে জনৈক এনজিও গ্রাহক নতুন করে ঋণ নিতে আসলে জানতে পারেন এনজিও কর্মী মোজাম্মেলের লাপাত্তার খবর। এর আগেই সাজুদা বেগম এবং তার স্বামী অভিযুক্তের কাছে পূর্বের ঋণের টাকা পরিশোধ করে এবং ধার হিসেবে বাড়তি টাকাও নেয়।
জানা গেছে, পৌর এলাকার বড়ালী গ্রামের সাজুদা বেগমের স্বামী তাজুল ইসলামের কাছ থেকে ঋণ পরিশোধ বাবদ ৬৭ হাজার ও ধার বাবদ ৭০ হাজার (লভ্যাংশ প্রতি হাজারে দৈনিক ৯ টাকা করে দেয়ার আশ্বাসে) নেয়। সাজুদা বেগম দম্পতি নতুন লোনের আশায় পূর্বের ৯০ হাজার টাকার ৭ কিস্তি একত্রে ৬৭ হাজার টাকা মাঠকর্মী মোজাম্মেল হকের নির্দেশে বিকাশে ধাপে ধাপে পরিশোধ করেন। লোন পরিশোধ করে নতুন করে ২ লক্ষ টাকা লোন নিতে অফিসে এসে জানতে পারেন মোজাম্মেল হক প্রতারণা করে পালিয়েছেন।
উপায়ন্তর না পেয়ে তাজুল ইসলাম শাখা ব্যবস্থাপক রতন মুহরী ও মাঠকর্মী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
শাখা ব্যবস্থাপক রতন মুহরী বলেন, সাজুদা দম্পতি বিকাশে যে টাকা দিয়েছেন তা আমাদের অন্যান্য সদস্যের হিসেবে জমা হয়েছে। তাদের হিসেবে জমা হয়নি। মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে, আমরা চূড়ান্ত হিসাব দাঁড় করাচ্ছি। এ পর্যন্ত তার ৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে, এই তথ্য ধীরে ধীরে আরো বাড়বে। গত ১০ এপ্রিলের পর থেকে সে উধাও হয়ে গেছে।'দিশা'র এরিয়া ম্যানেজার নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আমাদের মাঠকর্মীদের বিকাশে টাকা জমা দেয়ার একটা টার্গেট ছিলো, হেড অফিস বিকাশের ৩০ লক্ষ টাকা কমিশন পেয়েছে। মোজাম্মেল হক ছিলো অফিস সহকারী। তাকে আমি চাকরি দিয়েছি। তার খোঁজ দিতে পারলে পুরস্কার দেয়া হবে।
মাঠকর্মী মোজাম্মেল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ থাকাতে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। অফিস তথ্য মতে, পলাতক মোজাম্মেল হকের পিতা আ. সাত্তার, গ্রাম মাধনগর, পো. বাগমারা, জেলা- রাজশাহী। সে দীর্ঘদিন ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখায় কর্মরত ছিলো।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।








