প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৯:১০
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ পাচ্ছেন ৫ লেখক ও সংগঠক

শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সাহিত্য মঞ্চ, চাঁদপুর প্রবর্তিত ‘মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’ পাচ্ছেন এই সময়ের বরেণ্য ৫ লেখক ও সংগঠক। বাংলা সাহিত্যকর্মে তাঁদের প্রয়াসকে সম্মান জানিয়ে ৫টি শাখায় এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) দুপুরে সাহিত্য মঞ্চের এক সভায় পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন সাহিত্য মঞ্চের সাবেক সভাপতি, সাহিত্য সম্মেলন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক, কবি ও অনুবাদক মাইনুল ইসলাম মানিক।
|আরো খবর
পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন : কবি আইয়ুব সৈয়দ (কবিতায়), গল্পকার ও লেখক দিলারা মেসবাহ (কথাসাহিত্যে), প্রাবন্ধিক ও গবেষক মামুন সিদ্দিকী (প্রবন্ধ ও গবেষণায়), শিশুসাহিত্যিক অমল সাহা (শিশু সাহিত্যে), লেখক ও সংগঠক গাজী গিয়াস উদ্দিন (সংগঠক)।
এ প্রসঙ্গে সাহিত্য মঞ্চের সাবেক সভাপতি, সাহিত্য সম্মেলন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মানিক বলেন, সাহিত্য বিষয়ক কার্যক্রমের পাশাপাশি ২০২০ সাল থেকে চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের নামে সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করেছে সাহিত্য মঞ্চ। ইতোমধ্যে প্রখ্যাত লেখক জাহিদ হায়দার, মাসুদুজ্জামান, নাসিমা আনিস, সুমনকুমার দাশ, প্রশান্ত মৃধা, মাহমুদ কামাল, ফারুক হোসেন, সরকার আবদুল মান্নান, আহমেদ রিয়াজ, শেখ ফিরোজ আহমদ, জুনান নাশিত, মনসুর আজিজ, রুমা মোদক, নাহিদা নাহিদ, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন (মরণোত্তর) এবং সংগঠক হিসেবে কাজী শাহাদাত ও ইলিয়াস ফারুকী এ পুরস্কার লাভ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ৫টি শাখায় ‘মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’ ঘোষণা করা হলো। এই ৫জন গুণী লেখক ও সংগঠককে সম্মান জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গৌরববোধ করছি।
সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি আশিক বিন রহিম বলেন, ২০১৮ সালে সাহিত্য মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম করে যাচ্ছি। যার মধ্যে আবৃত্তি, উচ্চারণ ও বানান বিষয়ক কর্মশালা, কবিতা সন্ধ্যা, লেখক-পাঠক মৈত্রী প্রহর, লেখকের গল্প, কবিতা প্রহর, জোৎস্না উৎসব, পাঠ পর্যালোচনা, বই পাঠ এবং সাহিত্য সম্মেলন উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্যে 'মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার' প্রদান করছি। আগামী ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলনে সম্মানিত সম্মানিত লেখকের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।'
সাহিত্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সাদ আল-আমিন জানান, আগামী ১২ জুন চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও উৎসবমুখর ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। স্থান হচ্ছে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন মিলায়তন। এ আয়োজনে আমরা দেশের সর্বস্তরের লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, এ বছর কবিতায় 'মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫' পাওয়া কবি আইউব সৈয়দ একাধারে কবি লেখক, গবেষক ও উপস্থাপক। জন্ম ১৯৫৬ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান এবং এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৩টি। উল্লেখযোগ্য গ্ৰন্থ : স্বপ্নের স্মারকলিপি (কবিতা), কখনো ছন্দ কখনো দ্বন্দ্ব (কবিতা), শঙ্খ নদীর না (ছড়া), দোলার জন্য (ছড়া), আমার ছড়া, দুই কন্যার ছড়া, একুশের ছড়া, একাত্তরের ছড়া, চেনা জানার ছড়া, খেয়ালী ছড়া, ভোরের কোলে আলোর হাসি (কিশোর কবিতা)। এ ছাড়া একাধিক গবেষণা ও ছড়াগ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। বর্তমানে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক ত্রৈমাসিক হরিকেল। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের গ্রন্থনাসহ উপস্থাপকের দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কর্ণফুলী সাহিত্য পুরস্কার, শিল্পতরু সাহিত্য পুরস্কার, কনফিডেন্স সিমেন্ট বিশেষ সম্মাননা ও দাগ সম্মাননা অর্জন করেন।
কথাসাহিত্যে 'মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫' পাওয়া দিলারা মেসবাহ একাধারে কথাসাহিত্যিক, রম্যলেখক, শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সংগঠক ও কলামলেখক। তিনি পাবনার দিলালপুর গ্ৰামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা- তাসাদ্দুক হোসেন খান লোহানী, মা বদরুন্নেসা লোহানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। দিলারা মেসবাহ সত্তর দশক থেকে লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৪৩ টি। সম্পাদনা ৫ টি। প্রান্তিক মানুষ ও জনপদে বিষয়ে তাঁর মূল মনোযোগ। লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন কমর মুশতরী স্মৃতি পুরষ্কার, বগুড়া লেখক চক্র পদক (কথাসাহিত্য), পদক্ষেপ সাহিত্য পুরষ্কার, নূরজাহান পদক (সামগ্রিক সাহিত্যে), লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার, রাইটার্স ক্লাব সম্মাননা (শিশু সাহিত্য), কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার ইত্যাদি।
প্রবন্ধ ও গবেষণায় 'মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫' পাওয়া মামুন সিদ্দিকী ১৯৭৮ সালের ৩ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগে 'ব্যারিস্টার আবদুর রসুল : জীবন ও রাজনীতি' বিষয়ে এম. ফিল করেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগে ‘বাঙালির সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ধারা : ১৯০১-১৯৪৭’ বিষয়ে পিএইচডি গবেষণারত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ২৮টির অধিক। যার মধ্যে রয়েছে : মুক্তিযুদ্ধের অজানা ভাষ্য, শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক, ভাষাসংগ্রামী মাহবুব উল আলম চৌধুরী, কুমিল্লায় ভাষা আন্দোলন, বাঙালির সংস্কৃতি সাধনা, বেলতলী গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস : কুমিল্লা জেলা, মুক্তিযুদ্ধে সংবাদপত্র : আমোদ, ১৯৭১ : স্বাদু সান্নিধ্য, রবীন্দ্রনাথ : গল্পসল্প। সম্পাদিত বই : মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদন, মুক্তিযুদ্ধের উপেক্ষিত বীর যোদ্ধারা, কুমিল্লার সমাজ ও সংস্কৃতি।
শিশুসাহিত্যে 'মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫' পাওয়া অমল সাহা বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈত্রিক নিবাস চাঁদপুরে। দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকা ও সাহিত্যপত্রে ছোটদের জন্যে নিয়মিত গল্প লিখেছেন। তবে পরিচিতি পেয়েছেন হাসির গল্প লেখক হিসেবে। এ পর্যন্ত তাঁর ১৩ টি বই প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ : সস্তায় হাতি কেনা, পঞ্চানন কাকুর গাড়ি, বিলু মামার দাঁত কপাটি, স্বাধীনতা আমার রঙিন ঘুড়ি, বিরহী বন্দর, আমাদের জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ইত্যাদি।
এ বছর লেখক ও সংগঠক হিসেবে 'মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার' পাচ্ছেন গাজী গিয়াস উদ্দিন। তিনি ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর সদরের গন্ধর্বপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে একজন সাংবাদিক, কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সংগঠক। পিতা মরহুম হারিছ উদ্দিন আহমেদ, মা মরহুমা সায়েরা খাতুন। গাজী গিয়াস উদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে বিএ অনার্স ও এম এ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। মাসিক পত্রিকা 'বাংলা আওয়াজ' -এর সম্পাদক। তালিকাভুক্ত গীতিকার বাংলাদেশ বেতার ঢাকা। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : হরিৎ পান্ডুলিপি (কাব্য), স্ক্যান্ডাল (গল্প), গোপনে লুকানো (কাব্য), অকথিত (কাব্য), নান্দনিক পৃথিবী (কাব্য), ব্যভিচার (মিনি উপন্যাস) এবং লক্ষ্মীপুরের স্মরণীয় বরণীয় (জীবনীগ্রন্থ), প্রবন্ধ ও কবিতা সংগ্রহ এবং সমসাময়িক প্রবন্ধ, রহস্যের জহরমালা (সংগীত গ্রন্থ)। তিনি নোয়াখালী লেখক ফোরাম সম্মাননা এবং ঢাকা কালচারাল সোসাইটি কর্তৃক আল্লামা ইকবাল এওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।








