প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫২
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে চাঁদপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদান এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চাঁদপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুর শহরের বায়তুল আমিন মসজিদ চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
|আরো খবর
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চাঁদপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আয়োজন এবং সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। নৌ কমান্ডো বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মিয়া পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, আবুল বাশার, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল মাস্টার, সদস্য সচিব মো. সানাউল্লাহ খান, শাহরাস্তি উপজেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, হাজীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, কচুয়া উপজেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলাম, হাইমচর উপজেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক বকাউল এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা।
বক্তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমরা তাঁর কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এই জঘন্য কাজের সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দিলেও ট্রেনিং জমা দিইনি। দেশের যে কোনো প্রয়োজনে আমরা আবারও অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত রয়েছি। আগামী দিনে দেশের প্রয়োজনে আমাদের সন্তানরাও লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করবে। সুতরাং কেউ যেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করার দুঃসাহস না দেখায়।”
স্বাধীনতাবিরোধী সকল কর্মকাণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। বিকেল ৩টা থেকে পৌনে ৪টা পর্যন্ত চলা এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। শপথ চত্বর থেকে বের হওয়া মিছিলটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।








