মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫

চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলা ধামাচাপা দিতে প্রবাসীর বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা’ অভিযোগ

শামীম হাসান
চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলা ধামাচাপা দিতে প্রবাসীর বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা’ অভিযোগ

ফরিদগঞ্জে হোসেন আলী নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে লাগাতার হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মো. আওলাদ শেখ ও খোকন শেখের বিরুদ্ধে। উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্তরা সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে, আইনের অপব্যবহার ও প্রশাসনকে বারবার বিভ্রান্ত করে চলেছেন। নিরপরাধ এই পরিবারের বিরুদ্ধে আদালত ও থানায় একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ও অপহরণের অভিযোগ :

অনুসন্ধানে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী হোসেন আলীর ছোট ভাই মো. ওসমান আলী নয়নের তত্ত্বাবধানে ঢাকার মুগদা থানার মান্ডা এলাকায় একটি পাকা বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ চলছে। এই কাজের শুরু থেকেই মো. আওলাদ শেখ ও তার সহযোগী খোকন শেখ কৌশলে চাঁদাবাজির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তারা একটি সন্ত্রাসী চক্রকে ব্যবহার করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ওই নির্মাণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত মো. আরিফ হোসেন ও মো. মেহেদী হাসানকে অপহরণ করে ১১ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণের এই ঘটনায় মো. আওলাদ শেখ গংয়ের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে স্থানীয় সালিসে তারা তা স্বীকারও করেন। পরবর্তীতে ফরিদগঞ্জ থানায় সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ভুক্তভোগী মো. আরিফ হোসেন বাদী হয়ে আদালতে সিআর মামলা (নম্বর: ৩২০/২৫) দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত খোকন শেখের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। এই ঘটনার পর থেকেই আওলাদ শেখ নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক নাটকীয় অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন।

মিথ্যা মামলা ও ভাঙচুরের নাটক :

মো. আওলাদ শেখ চাঁদপুর সদর থানায় একটি সি.আর মামলা (নম্বর: ৭৭৬/২০২৬) দায়ের করে অভিযোগ করেন যে, মালয়েশিয়া প্রবাসী হোসেন আলী, তার ভাই মো. ওসমান আলী নয়ন ও মো. হাসান শেখ গত ২২ ও ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। পাশাপাশি তার মুরগির খামারের তিন শতাধিক মুরগি মেরে ফেলা এবং বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে আওলাদ শেখের এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, শরীফ হোসেন ও ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আওলাদ শেখের বাড়িতে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তাদের বাড়ির এজমালি সম্পত্তির একটি পরিত্যক্ত ঘর আওলাদ শেখ নিজেই সরিয়ে নিয়ে হোসেন আলী গংয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছেন। এমনকি তার বাড়িতে কখনোই কোনো মুরগির খামার ছিল না। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পর তিনি এখন ফরিদগঞ্জ থানায় আরও একটি নতুন অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পক্ষগুলোর বক্তব্য :

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. আওলাদ শেখের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে খোকন শেখের স্ত্রী সাথী বেগম দাবি করেন, গত ১২ অক্টোবর রাতে তাদের বসতঘরের জানালায় কে বা কারা ইট মেরেছে, তবে তারা কাউকে দেখেননি।

মালয়েশিয়া প্রবাসীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, “আওলাদ শেখ ও খোকন শেখ গং বিনা কারণে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। সন্তানদের নিয়ে আমাদের সবসময় আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। আমরা সরকার ও বিচার বিভাগের কাছে এর সঠিক প্রতিকার চাই।”

প্রবাসী হোসেন আলী মুঠোফোনে জানান, “আমি গত ২০ বছর ধরে প্রবাসে রয়েছি। মাত্র ১০ দিনের ছুটি কাটিয়ে গত বছরের ২ জুলাই আমি পুনরায় মালয়েশিয়ায় চলে আসি। অথচ আওলাদ শেখ আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযোগে দাবি করেছেন যে, চলতি বছরের ২২ ও ২৩ মার্চ আমি দেশে থেকে তার ক্ষতি করেছি! অথচ ওই সময়ে আমি মালয়েশিয়ায় সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছিলাম এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আওলাদ শেখ একজন পেশাদার প্রতারক ও ব্ল্যাকমেইলার। একজন প্রবাসী হিসেবে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে আনীত সকল মিথ্যা অভিযোগের সঠিক তদন্ত দাবি করছি।”

প্রশাসনের বক্তব্য :

ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বোরহান উদ্দিন মজুমদার বলেন, “মো. আওলাদ শেখের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধ রয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”

চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পরিদর্শক মো. খাইরুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আওলাদ হোসেন শেখের দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এছাড়া ঢাকা মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদ হোসাইন বলেন, “আওলাদ হোসেন শেখ গংয়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকালে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।”

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়