শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৯

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের প্রথম দিনে জেলেশূন্য নদী

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের প্রথম দিনে জেলেশূন্য নদী
অনলাইন ডেস্ক

সাগর থেকে নদীতে আসা মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছে ২২ দিনের দেশব্যাপী মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে পদ্মা ও মেঘনার চাঁদপুর অংশে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্যপট। নদীতে নেই কোনো মাছ ধরার নৌকা, তীরের মৎস্য আড়তগুলো ফাঁকা, আর ব্যস্ততম ঘাটগুলোতে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে একযোগে মাঠে নেমেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড এবং পুলিশ।

চাঁদপুরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় প্রথম দিন থেকেই কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে সরকারি নির্দেশনা। চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পুরাণবাজার রনাগোয়াল, বহরিয়া ও হরিণাসহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়—মাছ কেনাবেচার চিরচেনা হাঁকডাক উধাও। আড়ত এবং জেলে নৌকাগুলো নদীর তীরবর্তী খালে বাঁধার দৃশ্য চোখে পড়ে। কাজ বন্ধ থাকায় শত শত ঘাট-শ্রমিক এখন অলস সময় পার করছেন। আড়তদার ও শ্রমিকদের মতে, উপার্জন বন্ধ হয়ে পড়লেও ইলিশের স্থায়ী সম্পদ রক্ষায় তারা সরকারি নির্দেশ মেনে চলছেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্স শহরের সব বরফকল আগামী ২২ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে দেশীয় জলাশয়ে চাষ করা মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

মা ইলিশ রক্ষায় প্রথম দিন চাঁদপুর সদরে ৩টি, হাইমচরে ২টি এবং মতলব উত্তর ও দক্ষিণে ১টি করে মোট ৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালনা করা হয় ১টি মোবাইল কোর্ট এবং পর্যবেক্ষণ করা হয় ১২টি মাছঘাট। দিনভর অভিযানে একটি অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, অভয়াশ্রম এলাকায় জেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের তিনটি বিশেষ দল ২৪ ঘণ্টা টহলে রয়েছে।

নদীতে জেলেদের সচেতন করতে চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের পক্ষ থেকেও চালানো হচ্ছে সতর্কতামূলক মাইকিং।

মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ২২ দিন পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশসহ যে কোনো মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রি ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেদের জীবিকানির্বাহ নিশ্চিত করতে সরকার নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিশেষ প্রণোদনার চাল বিতরণ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলায় মেঘনা উপকূলীয় এলাকার নিবন্ধিত ৪২ হাজার ৭৯০টি জেলে পরিবারকে এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে জেলা তথ্য অফিস।

মৎস্য বিভাগের আশা, এই কঠোর নজরদারি ও সরকারি প্রণোদনার সঠিক বাস্তবায়নে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে, যা দেশের সার্বিক ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়