মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০২

নৌযান শুমারি নিয়ে অবহিতকরণ সভায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক

নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে

স্টাফ রিপোর্টার।।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি ২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুরে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। নৌযান শুমারি ২০২৬-এর উদ্দেশ্য, আওতা, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মানিক হোসেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান নৌযান শুমারি সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর, নৌযান মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী নৌযান শুমারির মূল গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের একটি নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। এ তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চাঁদপুরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে শুমারি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ ডাটাবেইজ তৈরির লক্ষ্যে এ শুমারি পরিচালনা করা হচ্ছে। নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি নৌযান নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেও এ ডাটাবেইজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুমারির আওতায় দেশের বিভিন্ন জলসীমায় চলাচলকারী সবধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মধ্যে ডাম্প বার্জ, অন্য নৌযানের মাধ্যমে টেনে বা ধাক্কা দিয়ে পরিচালিত নৌযান এবং থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক ও রিসোর্টের জলাশয়ে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও স্পিডবোটও রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌযান এবং সাধারণ ইঞ্জিনবিহীন নৌকা এ শুমারির আওতায় থাকবে না। চাঁদপুরে ৮ হাজার ১৭৪ নৌযানের প্রাথমিক তথ্য শুমারির প্রস্তুতি হিসেবে গত ৪ থেকে ১৭ মে দেশব্যাপী লিস্টিং কার্যক্রম পরিচালনায় মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। এর মাধ্যমে নৌযান ঘাটের অবস্থান ও নৌযানের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে চাঁদপুর জেলায় ১৬টি জোন, ১৪৯টি ঘাট ও ১৫৭টি গণনা এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলায় ১১২জন গণনাকারী মাঠপর্যায়ে নৌযান শুমারির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

লিস্টিং কার্যক্রমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলায় ঘাটভিত্তিক ৪ হাজার ৮০৪টি এবং খানাভিত্তিক ৩ হাজার ৩৭০টি—সব মিলিয়ে ৮ হাজার ১৭৪টি ইঞ্জিনচালিত নৌযানের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন, নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, চাঁদপুর কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার, চাঁদপুর জেলা বালুবাহী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, চাঁদপুর ফিশিং কান্ট্রি বোট মালিক সমিতি, চাঁদপুর জেলা সিমেন্টবাহী ট্রলার বাল্কহেড মালিক সমিতি, জেলা তথ্য অফিসার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি ২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুরে অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়