প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯
এবারের বিশ্বকাপ ব্রাজিলের ঘরেই উঠবে
-----প্রলয় চন্দ্র দে

হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলার কৃতী সন্তান, ক্রীড়া সংগঠক এবং মনেপ্রাণে ফুটবলপ্রেমী, হাসিখুশি মানুষ প্রলয় চন্দ্র দে
|আরো খবর
বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় বিশ্ব ফুটবলের রাজা প্রয়াত কালো মানিক খ্যাত পেলের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করেছেন ঠিক এভাবে--
এ বিশ্বকাপ কেমন হতে পারে তা অগ্রিম বলা কঠিন। তবে আমি যেহেতু ব্রাজিল সমর্থক, তাই আমি আশা করি এবারের বিশ্বকাপ ব্রাজিলের ঘরেই উঠবে। বিশ্বকাপ জয়ে সামনে কেমন বাধা আসতে পারে এবং সেই বাধা কীভাবে ব্রাজিল মোকাবেলা করবে সেটার একটা নিজস্ব ধারণা তুলে ধরা যাক।
ইতিহাস বলে, বিদেশি কোচের অধীনে আজ পর্যন্ত কোনো দল বিশ্বকাপ জেতেনি। আনচেলত্তি কি পারবেন ব্রাজিলের এই ঐতিহাসিক খরা কাটাতে?
গ্রুপ পর্ব : একচ্ছত্র আধিপত্য
গ্রুপ পর্বেই ব্রাজিলের দেখা হচ্ছে মরক্কোর সাথে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইটা মূলত এই দু দলের মধ্যেই হবে। তবে গ্রুপ পর্বে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে ভিনিসিয়ুস-রাফিনহাদের আক্রমণভাগই শেষ পর্যন্ত গ্রুপ সেরা হবে। মরক্কোর শক্তিশালী ডিফেন্সের বিপক্ষে ব্রাজিলকে ধৈর্য ধরে খেলতে হবে। তবে আক্রমণভাগের ব্যক্তিগত দক্ষতার কারণে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম ফেভারিট।
প্রেডিকশন : ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে যাবে।
রাউন্ড অফ ৩২ : ব্রাজিল বনাম জাপান (বা সুইডেন/নেদারল্যান্ডস)!
নক-আউটের প্রথম বাধা সম্ভবত এশিয়ান জায়ান্ট জাপান। গ্রুপ এফ-এর রানার্স-আপ হিসেবে তারা আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। জাপান মূলত গতি এবং কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর নির্ভরশীল। ভিনির অসাধারণ ড্রিবলিং, রাফিনহার গতি আর ইগোর থিয়াগোর ফিনিশিংয়ের সামনে জাপানি ডিফেন্স তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়বে। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের বৈচিত্র্যই এখানে মূল অস্ত্র।
স্কোর প্রেডিকশন : ব্রাজিল ৩-১ জাপান।
রাউন্ড অফ ১৬ : ব্রাজিল বনাম নরওয়ে (বা ইকুয়েডর/আইভরি কোস্ট)।
এখানে আসল পরীক্ষা শুরু হবে! নরওয়ের হয়ে হল্যান্ডের মতো ফিজিক্যাল জায়ান্ট থাকলে এয়ারিয়াল ও কাউন্টারে বিপজ্জনক হতে পারে। গ্যাব্রিয়েল মাগালহাইস, মার্কিনহোসের মতো সলিড ডিফেন্সিভ লাইনই এখানে ব্রাজিলের বড়ো শক্তি হবে। হলান্ডকে আটকাতে পারলে ব্রাজিলের অ্যাটাক সহজেই ম্যাচ বের করে নেবে। নেইমার ফিট থাকলে সৃজনশীলতা বাড়বে, আর দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তির বেঞ্চ স্ট্রেংথ ডেডলক ভাঙ্গবে।
স্কোর প্রেডিকশন : ব্রাজিল ২-০ নরওয়ে।
কোয়ার্টার ফাইনাল : ব্রাজিল বনাম ইংল্যান্ড (অথবা মেক্সিকো!)
ব্রাজিল ভক্তদের মনে সবচেয়ে বড়ো যে ভয়টা কাজ করে, তা হলো কোয়ার্টার ফাইনাল। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল বারবার এই স্টেজ থেকেই বাদ পড়েছে। এই স্টেজটা যেন সেলেসাওদের জন্যে একটা অদৃশ্য দেওয়াল। কিন্তু এবার ডাগআউটে কার্লো আনচেলত্তির মতো কুল-মাথার মাস্টারমাইন্ড থাকায় ভয় পাচ্ছি না।
ইংল্যান্ডের শক্তিশালী মিডফিল্ড ও ফুল-ব্যাকদের বিপক্ষে ক্যাসেমিরো-ব্রুনো গিমারায়েসের-পাকুয়েতার মতো ডুয়েল-উইনিং মিডফিল্ডাররা মাঝমাঠের দখল নেবে। যদি অঘটন ঘটে মেক্সিকো আসে, তাহলেও ব্রাজিলের আক্রমণভাগের কোয়ালিটি অনেক বেশি। কোয়ার্টার থেকে বাদ পড়ার অতীত ইতিহাস এবার বদলে দেবে ব্রাজিল।
স্কোর প্রেডিকশনন : ব্রাজিল ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমি-ফাইনালে উঠবে।
সেমিফাইনাল : ব্রাজিল বনাম নেদারল্যান্ডস বা ইংল্যান্ডের মতো ইউরোপিয়ান শক্তির নাম সামনে আসতে পারে।
সেমি-ফাইনাল মানেই ফিফটি-ফিফটি গেম। নেদারল্যান্ডসের ফিজিক্যালিটি ও ভার্জিল ভ্যান ডাইকের মতো ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে গ্যাব্রিয়েল-মার্কিনহোসের এরিয়াল লড়াই হবে তুমুল। আর ইংল্যান্ডের সাথে পড়লে তাদের ট্যালেন্ট ভরা অ্যাটাকিং লাইন ব্রাজিলের ডিফেন্সকে চাপে ফেলবে। তবুও আমি মনে করি ব্রাজিলের অ্যাটাকাররা নিজস্ব দক্ষতায় ম্যাচটা বের করে আনবে।
স্কোর প্রেডিকশন : ব্রাজিল ১-০ নেদারল্যান্ডস।
গ্র্যান্ড ফাইনাল : ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা বা স্পেন
হেক্সা জয়ের শেষ বাধা! ফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্স, মেসির আর্জেন্টিনা বা লামিন ইয়ামালের স্পেনের মতো হেভিওয়েট দল আসলে সেটা হবে স্বপ্নের ফাইনাল। এমবাপ্পের স্পিডের বিপক্ষে ওয়েসলি-রাফিনহার ওভারল্যাপ, স্পেনের তিকিতাকার বিপক্ষে ব্রুনো-ক্যাসেমিরোর মিডফিল্ড কন্ট্রোল পুরো ম্যাচ নার্ভের পরীক্ষা হয়ে যাবে। নিজেদের দিনে আনচেলত্তির ট্যাকটিক্স আর সাম্বা ম্যাজিক ঠিকমতো ক্লিক করলে মারাকানা উল্লাসে ফেটে পড়বে।
স্কোর প্রেডিকশন : ব্রাজিল ২-১ ফ্রান্স/আর্জেন্টিনা/স্পেন! এবং ব্রাজিলের ঘরে উঠবে স্বপ্নের হেক্সা!








