মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২

খেলাধুলায় হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

কাজী আজিজুল হাকিম নাহিন
খেলাধুলায় হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

দীর্ঘদিন পর হকারমুক্ত পরিবেশে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে ফিরেছে খেলাধুলার প্রাণচাঞ্চল্য। বর্তমানে মাঠটিতে সকাল-বিকেল আশপাশের পাড়া-মহল্লার কিশোর-তরুণ এবং দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আনাগোনা লেগেই থাকে।

জানা যায়, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সপ্তাহে পাঁচ দিন হাসান আলী সরকারি হাই স্কুল ও হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করে। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার কিশোর-তরুণ এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনের খেলোয়াড়দেরও মাঠে খেলতে দেখা যায়।

বর্তমানে ফুটবল মৌসুম হওয়ায় মাঠে প্রতিদিনই ফুটবল খেলা হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলার আয়োজনও হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় খেলাধুলার নির্ধারিত কোনো সময়সূচি নেই। তবে বর্তমানে মাঠে কোনো দারোয়ান বা নাইটগার্ড না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠের দক্ষিণ পাশের মূল ফটকের নিচের একটি অংশ দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করেছে, তবে এ ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এসব কথা জানান হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবক কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম। এছাড়া তিনি বলেন, “মাঠটি একটি উন্মুক্ত সরকারি মাঠ। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে।”

তিনি জানান, চলতি বছর পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ৬২ জন শিক্ষার্থী সরকারি বৃত্তি অর্জন করেছে। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

হাসান আলী হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুল হক সর্দার বলেন, “মাঠটি দিনে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও রাতে তেমন কেউ খেলে না। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঠে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ এবং চাঁদপুরের এমপি মহোদয়ের উদ্যোগে মাটি দিয়ে মাঠটি ভরাট করা হয়েছে। খেলাধুলার সুবিধা বিবেচনায় মাঠে এ বছর বৃক্ষমেলা করতে দেওয়া হয়নি এবং মাঠে খেলাধুলার জন্য এমপি মহোদয় ফুটবল উপহার দিয়েছেন। শীত মৌসুমে ওয়াজ-মাহফিল বা অন্য কোনো বড় আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজন হলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ বছর ধরে কোনো ক্রীড়া শিক্ষক নেই, তা সত্ত্বেও আমরা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করি।”

কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছোট শিশুর সাথে কথা বললে তারা বলে, “মাঠটি এখন খোলামেলা। আমরা সকালে ও বিকেলে শান্তিপূর্ণভাবে খেলাধুলা করতে পারি এবং খেলা উপভোগ করি।”

এছাড়া পথচারীরাও মাঠের খেলা দেখে বেশ আনন্দ পান। কাউকে কাউকে বাউন্ডারির পাশে রাস্তার ধারে বসেও খেলা উপভোগ করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের আশা, এভাবে খেলাধুলা চললে শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক বিকাশও দ্রুত ঘটবে। তাছাড়া রাতের বেলায় অনেক নারী, পুরুষ ও তরুণদের মাঠটিতে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়