প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
ঈদে মিলাদুন্নবী ও জন্মবার্ষিকী পালন
ইন্তেকাল দিবস পালন হয় না কেন?

পূর্ব প্রকাশিতের পর
আরেকটি বিষয় প্রশ্ন সাপেক্ষ! তা হচ্ছে, নবী করীম [দ.]-এঁর শুধু জন্ম তারিখ পালন করা হয় কেন, ইন্তেকাল তো একই তারিখে এবং একই দিনে হয়েছিল? সুতরাং একসাথে জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন করাইতো যুক্তিযুক্ত। যেমন অন্যান্য মহামানব ও ওলী-গাউসদের বেলায় মৃত্যু দিবসে ওরস পালন করা হয়ে থাকে।
প্রথম উত্তর হলো, আল্লাহ পাক কোরআন মাজীদে নির্দেশ করেছেন নিয়ামত পেয়ে খুশী ও আনন্দ করার জন্য। নিয়ামত পাওয়া জন্ম উপলক্ষ্যেই হয়। যেমন কোরআনে আছে—অর্থ : হে নবী! আপনি এ কথা ঘোষণা করে দিন, মুসলমানগণ খোদার ফযল ও রহমত পাওয়ার কারণে যেন নির্মল খুশি ও আনন্দোৎসব করে। এটা তাদের যাবতীয় সঞ্চিত সম্পদ থেকে উত্তম। (সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৫৮)।
তাফসীরে রুহুল মায়ানী উক্ত আয়াতে ‘ফযল’ ও ‘রহমত’ অর্থে হযরত মুহাম্মদ [দ.]-এঁর নাম উল্লেখ করেছেন। এটা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যা। রাসূল [দ.]-এঁর একহাজার চারশত নামের মধ্যে ‘ফযল’, ‘রহমত’, ‘বরকত’, ‘নেয়ামত’ ও ‘নূর’ প্রভৃতি অন্যতম গুণবাচক নাম, যা গ্রন্থের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং নেয়ামতপ্রাপ্তি উপলক্ষ্যে শোকরিয়া আদায়ের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান করাই কোরআনের নির্দেশ। সূরা ইউনুসের ৫৮নং আয়াতে নবীজীর জন্মোৎসব পালন করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সুতরাং ঈদে মীলাদুন্নবী [দ.] ও জশনে জুলুস কোরআনের আলোকেই প্রমাণিত।
দেখুন তাফসীরে রুহুল মায়ানী সূরা ইউনুসের ৫৮নং আয়াতের ব্যাখ্যা।)
মোদ্দাকথা, আল্লাহ পাক হুযুর [দ.]-এঁর আবির্ভাব উপলক্ষ্যে আনন্দোৎসব করার নির্দেশ করেছেন। কিন্তু ইন্তেকাল উপলক্ষ্যে শোক পালন করতে বলেননি। তাই আমরা আল্লাহর নির্দেশ মানি।
দ্বিতীয় উত্তর— নবী করীম [দ.] নিজে সোমবারের রোযা রাখার কারণ হিসেবে তাঁর পবিত্র বেলাদাত ও প্রথম ওহী নাযিলের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ বা ইন্তেকাল উপলক্ষ্যে শোক পালন করার কথা উল্লেখ করেননি। যদি করতেন, তাহলে আমরা তা পালন করতাম। সুতরাং একইদিনে ও একই তারিখে নবী করীম [দ.]-এঁর জন্ম এবং ইন্তেকাল হলেও মৃত্যু দিবস পালন করা যাবে না। এটাই কোরআন-হাদীসের শিক্ষা।
তৃতীয় উত্তর— নবী করীম [দ.] তো স্বশরীরে হায়াতুন্নবী। হায়াতুন্নবীর আবার মৃত্যু দিবস হয় কী করে? মৃত ব্যক্তির জানাজা হয়, নবীজীর কি জানাজা হয়েছিলো? তিনি নিজে জানাজা না করে দরূদ পড়তে আদেশ দিয়ে গেলেন কেন? কেউ কি জীবিত পিতার মৃত্যু দিবস পালন করে? আসলে ওরা কোনটাই পালনের পক্ষে নয়। শুধু ঈদে মীলাদুন্নবী [দ.] পালনকারীদেরকে ঘায়েল করার লক্ষ্যেই এইসব শয়তানী কূটতর্কের অবতারণা করে থাকে। ওরা শয়তানের প্রতিনিধি। আমরা কোরআন নাযিলের আনন্দোৎসব করি শবে ক্বদরে এবং নবীজীর আগমনের আনন্দোৎসব পালন করি ১২ই রবিউল আউয়ালে। ওরা কোনোটাই পালনের পক্ষপাতী নয়। আমরা সূরা ইউনুসের ৫৮নং আয়াতের নির্দেশ পালন করি।
সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।






