প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯
ডাকাতিয়ার তীরে ক্রীড়াঙ্গনে দ্যুতি ছড়াচ্ছে পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ

পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়া নদীবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা ‘পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ’ ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য দীপ্তি ছড়াচ্ছে। চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দূরদর্শী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের আপ্রাণ চেষ্টায় গড়ে ওঠা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ কেবল শিক্ষাদানেই নয়, বরং সীমিত সুযোগ ও প্রতিকূলতাকে জয় করে ক্রীড়াক্ষেত্রে এক অনুকরণীয় মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ক্রীড়াচর্চা ও উৎসবমুখর পরিবেশ : প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসকে ক্রীড়ার মূল মৌসুম ধরে কলেজ প্রাঙ্গণে চলে নিবিড় ও পেশাদার প্রশিক্ষণ। ট্র্যাক ও ফিল্ড ইভেন্টের মধ্যে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় তিন ধরনের দৌড় প্রতিযোগিতা, হাই জাম্প, লং জাম্প, গোলক নিক্ষেপ এবং চাকতি নিক্ষেপ। মূল মাঠের পাশাপাশি জায়গার সংকট এড়াতে পেছনের মাঠটিকেও সমানভাবে কাজে লাগানো হয়। শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্যও ‘ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ’সহ নানা আকর্ষণীয় ইভেন্টের ব্যবস্থা থাকায় পুরো ক্যাম্পাস যেন আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হয়।
১৯৯৮ সাল থেকে ক্রীড়া শিক্ষকের গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছেন নিবেদিতপ্রাণ ক্রীড়া শিক্ষক মো. আকতারুজ্জামান খোকা। তাঁর দীর্ঘ সাধনা ও সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণের ফলস্বরূপ কলেজটি অর্জন করেছে বহু গৌরবময় সাফল্য। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাঁতার প্রতিযোগিতায় কলেজটি একাধিকবার রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সফল অংশগ্রহণ চাঁদপুর জেলায় কলেজটিকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।
জানা যায়, উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি (পাস) কোর্স ও অনার্স মিলিয়ে কলেজটিতে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিশাল এই শিক্ষার্থীগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও বিভিন্ন আন্তঃকলেজ টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নেয়। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ফুটবল টুর্নামেন্টে সফল অংশগ্রহণের পর শিক্ষার্থীরা এখন আসন্ন ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট’-এর জন্য পেছনের মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছে। বিজয়ের প্রত্যাশায় তাদের এই কঠোর অনুশীলন শিক্ষক ও অভিভাবকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
কলেজে খেলাধুলার অনুকূল পরিবেশ এবং প্রবল উদ্দীপনা থাকলেও একটি বড় আকারের আদর্শ (স্ট্যান্ডার্ড) মাঠের অভাব দীর্ঘদিনের এক প্রতিবন্ধকতা। ক্রীড়া শিক্ষকের মতে, একটি পর্যাপ্ত বড় মাঠ থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও বৃহৎ পরিসরে নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারতো। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগমের আন্তরিক সহযোগিতায় কলেজের ক্রীড়াঙ্গন এখন প্রাণবন্ত। অধ্যক্ষ মনে করেন, যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে সুস্থ ধারার ক্রীড়ামুখী করে তুলতে সরকারের সদিচ্ছা বাস্তবায়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। গভর্নিং বডির দূরদর্শিতা, শিক্ষকবৃন্দের নিরলস প্রচেষ্টা এবং শিক্ষার্থীদের অদম্য প্রাণশক্তি বজায় থাকলে আগামী দিনে এই প্রতিষ্ঠান থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন কাঁপানো বহু তারকা খেলোয়াড় তৈরি হবে—এমনটাই দৃঢ় বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট সকলের।







