প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০১
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন : ফরিদগঞ্জের সম্ভাব্য প্রার্থী-১
২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন, প্রস্তুত প্রার্থীরা?

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানান, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে মোট পাঁচটি ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম ধাপ ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপ ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপ ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগে থেকেই মাঠে নামতে শুরু করেছেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় এবং নির্বাচনী মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উল্লেখ্য, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, পরিষদ গঠনের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই আইনি বিধান অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম কেবল ৮ নম্বর পাইকপাড়া দক্ষিণ ও ১৪ নম্বর ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন। ৮ নম্বর পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর এবং ১৪ নম্বর ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নে ভোট হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় এবার প্রথমবারের মতো বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগে রূপসা উত্তর ইউনিয়ন ছাড়া ফরিদগঞ্জের অন্য কোথাও জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা না গেলেও এবারের রাজনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেমন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো, এবার তা হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। তবে ফরিদগঞ্জ এখনো বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। উপজেলায় নির্বাচনী আবহ তৈরি হলেও বিগত কয়েক মাস ধরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রচারণায় কিছুটা স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মূল কারণ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন না হওয়া। কমিটি কোন গ্রুপের হাতে যাচ্ছে (সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক পদ), তার ওপর নির্ভর করছে দলটির চূড়ান্ত প্রার্থিতা। মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বা লায়ন হারুনুর রশিদের মধ্যে কাদের অনুসারীরা দলের নেতৃত্ব পাবেন—তার ওপর নির্ভর করে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে দ্বিধা করছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, "আশা করছি ফরিদগঞ্জে ইউপি নির্বাচন দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন যখনই হোক না কেন, আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।"
উল্লেখ্য, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। ধারাবাহিক এই বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পর্যায়ক্রমে ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান, ইউনিয়নের তথ্য-উপাত্ত, সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগ তুলে ধরবে। সেই সঙ্গে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে উঠে আসবে সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা। ফরিদগঞ্জের নির্বাচনী সব খবর জানতে চোখ রাখুন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে।








