বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৬

জনদুর্ভোগ নিরসন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে চাঁদপুরে ১১ দলীয় জোটের স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার
জনদুর্ভোগ নিরসন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে চাঁদপুরে ১১ দলীয় জোটের স্মারকলিপি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চাঁদপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন জোটের শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলা ১১ দলীয় ঐক্যজোট এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ কমানোর আকুল আবেদন

স্মারকলিপি প্রদানকালে চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট দূর করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। এছাড়া জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ বিলে অযৌক্তিক চার্জ যুক্ত করার তীব্র সমালোচনা করা হয়। পরিবণে চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

৮ দফা দাবি

দায়িত্বশীল বিরোধী জোট হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট স্মারকলিপিতে নিম্নোক্ত ৮ দফা দাবি পেশ করে :১. গণভোটে পাস হওয়া ‘জুলাই সনদ’ অবিলম্বে বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। ২. রান্নার এলপিজি ও এলএনজি গ্যাসের দাম কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় নির্ধারণ।৩. অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈধ গ্রাহকদের পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।৪. সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনা। ৫. বিদ্যুৎ বিলে ডিমান্ড চার্জসহ সকল প্রকার অযৌক্তিক অতিরিক্ত চার্জ বাতিল।৬. অঘোষিত ও ভোগান্তি সৃষ্টিকারী বিদ্যুতের লোডশেডিং চিরতরে বন্ধ করা। ৭. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পরিবহন ও বাজার থেকে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করা। ৮. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি অভিযান জোরদারসহ প্রশাসনের কার্যকর বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম, এনসিপি চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম, খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা তারেকুল ইসলাম এবং এলডিপি নেতা সারোয়ার হোসেনসহ ঐক্যজোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়