বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০১:০৯

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৩৬

ফরিদগঞ্জে নতুন নেতৃত্ব ও তারুণ্যের রাজনীতি গড়তে চাই

................... লায়ন মো. আল-আমিন

প্রবীর চক্রবর্তী
ফরিদগঞ্জে নতুন নেতৃত্ব ও তারুণ্যের রাজনীতি গড়তে চাই
ক্যাপশন : সম্ভাব্য প্রার্থী লায়ন মো. আল-আমিন।

লায়ন মো. আল-আমিন। ছাত্র রাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে। আন্দোলন-সংগ্রামে বিগত দেড় যুগে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ঢাকার রাজপথে দাবড়িয়ে বেড়ানো শহীদ জিয়ার আদর্শের এক নির্ভীক সৈনিক লায়ন আল-আমিন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাওয়াল গ্রামের সন্তান তিনি। পাইকপাড়া ইউজি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে ডিগ্রি ও মাস্টার্স পাস করেন। এছাড়া তিনি ডিআইইউ থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে স্পিডি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। ব্যবসায়িক জীবনে যেমন তিনি সফল, তেমনি রাজনৈতিক জীবনেও সফল হয়েছেন এই রাজনীতিবিদ।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য লায়ন মো. আল-আমিন একাধারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)-এর সদস্য, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, সরকারি তিতুমীর কলেজ (রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ), ২০০০-২০০১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকাস্থ তিতুমীর কলেজ চাঁদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বৃহত্তর কুমিল্লা ছাত্র ফোরামের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। মনোনয়ন চেয়ে থেমে থাকেননি, দল যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে তাঁকে নিয়ে ধানের শীষের বিজয়ে ফরিদগঞ্জে নিরলস কাজ করেছেন।

দলের জন্যে নিবেদিতপ্রাণ লায়ন মো. আল-আমিন আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করার প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তিনি তাঁর ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছেন সাবলীলভাবে। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে নিম্নে তাঁর কথোপকথন প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো--

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ থেকে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?

লায়ন মো. আল-আমিন : সত্য বলতে, আমার দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফরিদগঞ্জে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের সমর্থনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে এবং জনগণের পাশে থেকে সরাসরি কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?

লায়ন মো. আল-আমিন : যেদিন থেকে রাজনীতিতে এসেছি, যেদিন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি, সেদিন থেকে 'মিশন এন্ড ভিশন ক্লিয়ার ফর ইলেকশন টুবি পাবলিক সার্ভেন্ট'। আমার লক্ষ্য ছিলো জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করা। রাজনীতিকে আমি ক্ষমতার মাধ্যম হিসেবে নয়, দায়িত্ব ও জনসেবার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখি।

তবে আমাদের রাজনৈতিক যাত্রার বড়ো একটি সময় দেশে ফ্যাসিবাদ চেপে বসলো সিলেকশনের, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত ছিলো, ইলেকশনের সুযোগ হলো কোথায়? ফলে প্রকৃত অর্থে জনগণের ভোটের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ খুব সীমিত ছিলো। তারপরও মাঠে থেকে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছি এবং ভবিষ্যতের জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

লায়ন মো. আল-আমিন : হ্যাঁ, হোয়াই নট ? আমি দলীয় সমর্থন ও মনোনয়ন প্রত্যাশা করি। আমরা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতি করছি, তাই দলের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, দল সবসময় ত্যাগী, যোগ্যজনসম্পৃক্ত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করে। সেই আস্থা থেকেই আমি আশাবাদী যে, দল জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?

লায়ন মো. আল-আমিন : নির্বাচনের সিস্টেমটাই হচ্ছে জনপ্রিয়তা যাচাই করা। পরিচিতি লাভের পরেই কিন্তু জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হয়। দুটো কিন্তু সম্পূরক নয়, পরিপূরক। সাঁতার জানলেই কেউ জলে নামে না, সাঁতার দেয়ার ইচ্ছা থাকলেই কেউ জলে নামে। হ্যাঁ, আমিতো মাঠেই আছি। আঁটঘাঁট বেঁধে নামাটা নির্ভর করবে জনগণ কী চায়। তারা কি যোগ্য নেতৃত্ব চায়? আদর্শ নেতৃত্ব চায়? নাকি এমন নেতৃত্ব চায় যেখানে তাদের কোনো অধিকার নেই । জনগণ যদি তাদের অধিকার চায়, আমি সেখানে নেতৃত্ব দিতে চাই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?

লায়ন মো. আল-আমিন : আমার মূল পরিকল্পনা হলো ফরিদগঞ্জকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত, সুশৃঙ্খলতারুণ্যনির্ভর উপজেলায় রূপান্তর করা। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কর্মসংস্থানসামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই।

সমাজসেবামূলক কাজ আমি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছি। হয়তো এখনও সবার কাছে পৌঁছাতে পারিনি, সেটাকে আমি আমার সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখি। তবে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। গণসংযোগও নিয়মিত চলছে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, জনগণের দোরগোড়ায় যাওয়া একজন নেতার দায়িত্ব।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

লায়ন মো. আল-আমিন : একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার কাঠামোতে কোথাও কি লেখা আছে যে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যাবে না? এই বডিটা তৈরি করা হয়েছে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্যে । আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিই হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্যেই প্রতিষ্ঠিত। তাই আমি আশাবাদী যে, ভবিষ্যতের নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে।

আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ও বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্যে বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি আশা করি তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণ একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ পাবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, ভোটারের নিরাপত্তা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

লায়ন মো. আল-আমিন : 'ফরিদগঞ্জে নতুন নেতৃত্ব ও তারুণ্যের রাজনীতি গড়তে চাই'। 'রাজনীতি আমার পেশা নয়, দেশ ও মানুষের প্রতি এক আদর্শিক দায়বদ্ধতার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত'।

আমি ভোটারদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি কথাই বলতে চাই : কেউই ডেকে এনে আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে না, আপনার অধিকার আপনাকেই রক্ষা করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা জনগণের সবচেয়ে বড়ো দায়িত্ব।

আমি এমন একটি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে জনগণকে অবহেলা করা হবে না, বরং সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিশ্বাস করি, একজন প্রকৃত নেতার মধ্যে সততা, দেশপ্রেম, আর্থিক সক্ষমতা, দূরদর্শিতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হয়। আপনারা যদি এমন নেতৃত্ব চান, যারা জনগণকে ব্যবহার করবে না, বরং পাশে দাঁড়াবে, তাহলে আমি সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ফরিদগঞ্জের উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তান্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।

লায়ন মো. আল-আমিন : রাজনীতি আমার কাছে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার পথ নয়, এটি একটি আদর্শ, একটি দায়িত্ব এবং দেশ ও মানুষের প্রতি এক ধরনের অঙ্গীকার। আমার রাজনীতির প্রথম ভিত্তি বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ভিত্তি এদেশের জনগণ এবং তৃতীয় ভিত্তি আমার দল। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে বিশ্বাস করি। এই আদর্শ থেকেই আমি রাজনীতি করি।

রাজনীতি আমার পেশা নয়, এটি আমার নেশা, আমার আত্মিক দায়বদ্ধতা। আমি কখনও রাজনীতিকে ব্যক্তিগত ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করিনি, করছি না এবং ভবিষ্যতেও করবো না। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত রাজনীতি হচ্ছে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আমি আমার রাজনৈতিক আদর্শ ও শিক্ষক মনে করি। তাঁর দেশপ্রেম, সততা, কর্মমুখী নেতৃত্ববাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন আমাকে অনুপ্রাণিত করে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ত্যাগ, দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের জন্যে সংগ্রাম আমার কাছে দৃষ্টান্ত। আর তারেক রহমানের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতাআধুনিক বাংলাদেশ গড়ার চিন্তাধারাকে ধারণ করেই আমি বিএনপির রাজনীতি করি।

আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি তখনই সফল হয় যখন সেটি জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচারদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়