রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮

ফরিদগঞ্জে বিএনপির মাথাব্যথা স্বতন্ত্র, সুযোগ নিতে মরিয়া জামায়াত

ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ

পোস্টাল ব্যালট ও সুইয়িং ভোটাররা জয় পরাজয়ের ফ্যাক্টর হতে পারে

প্রবীর চক্রবর্তী
ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে মোট ৮জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এঁরা হলেন : বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ (প্রতীক ধানের শীষ); বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ও সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান (প্রতীক চিংড়ি); জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (প্রতীক দাঁড়িপাল্লা); ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক আল্লামা মকবুল হোসাইন (প্রতীক হাতপাখা); জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম (প্রতীক লাঙ্গল); গণফোরাম প্রার্থী, গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মুনীর চৌধুরী (প্রতীক উদীয়মান সূর্য); ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুল মালেক বুলবুল (প্রতীক মোমবাতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন (প্রতীক ঘুড়ি) ।

সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুসারে এই উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৩১জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২লাখ ৮ হাজার ৬০৩জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ২৭জন।

২০০৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী যারা ভোটার হয়েছেন অর্থাৎ বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ভোট দিতে পারেন নি এমন ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৬২ হাজার ৩৬৯ জন। যা মোট ভোটের ৩৫ ভাগ। এর মধ্যে ৯ হাজারের বেশি রয়েছে পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগকারী প্রবাসী ও সরকারি চাকুরিজীবীগণ।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনা করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে এই প্রার্থীরা বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা অংশ নিতে না পারায় ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছানোর জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

সরেজমিন ভোটার, দলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলার অন্য ৪টি আসন থেকে এই আসনের ভোটের চিত্র আলাদা। কারণ স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সদ্য দল থেকে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ হান্নান নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেয়ায় ভোটের হিসেব নিকেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। আর এই সুযোগ নিতে সর্বোচ্চ দিয়ে তৎপর জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় জোট। তাদের প্রত্যাশা, বিএনপির ভোট দু ভাগ হওয়ার সুযোগে তারা এই আসনটিতে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বরাবরের মতোই চাঁদপুর জেলার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফরিদগঞ্জ আসনটি । ১৯৯১ সাল থেকে টানা ২০০৮ পর্যন্ত এই আসনটি বিএনপির দখলে ছিলো। ১৯৯১ সাল থেকে টানা ৪বার এমপি হন প্রয়াত আলমগীর হায়দার খান। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের ভূমিধস জয়ের মধ্যেও মাত্র তিনদিন পূর্বে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া বিএনপির বর্তমান প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ জয় তুলে নিয়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে এই আসনটিকে চিহ্নিত করেন। এরপর আওয়ামীলীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, রাতের ভোটে এবং আমি-ড্যামি নির্বাচনে এই আসনে বিজয় লাভ করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিগত দিনের হিসেবে বিএনপি সহজেই এই আসনটিতে বিজয়ের সম্ভাবনা থাকলেও মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মনোনয়ন বঞ্চিত ও সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ হান্নানের নির্বাচনে অংশগ্রহণ। বিগত ত্রিশ বছর ধরে দান-অনুদানের মাধ্যমে উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি দানবীর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ফলে দল মনোনয়ন না দিলেও দলের একটি অংশ ও সাধারণ মানুষের চাপে তিনি প্রার্থী হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এম এ হান্নান জানান। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রমাণ হবে দল ভুল করলেও জনতা ভুল করে না।

অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদ বলেন, এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। তাই যে যাই বলুক, দিনশেষে বিএনপির লাখো ভোটার ও নেতাকর্মীরা দলের বাইরে যাবেন না। আপামর জনসাধারণ প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ করবেন। কারণ ব্যক্তির চেয়ে দল বড়ো। দলের চেয়ে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

এদিকে বিএনপির ভোট দু ভাগ হওয়ার ফাঁকে সুযোগ নিতে মরিয়া দীর্ঘদিন ধরে গোপনে থেকে দলকে শক্তিশালী করা জামায়াতে ইসলামী। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, মানুষ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসন দেখেছে। এখন তারা পরিবর্তন চায়। বিগত সময়ে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও শোষণের রাজনীতি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সৎ লোকের শাসন ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশ গড়তে চায়। আর তাই ত্যক্ত ও বিরক্ত মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লাকেই এই আসন থেকে বিজয়ী করবে।

একটি সূত্র জানায়, এই আসনটি জামায়াতের 'সি' ক্যাটাগরিতে থাকলেও পর্যায়ক্রমে এটি এখন 'এ' ক্যাটাগরিতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে শেষ মূহূর্তে শেষ হিসাব নিকেশে এই আসনটিকে জেলার আকর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রায় সকলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোলে একবার একেক জন বিজয়ী হচ্ছেন। তবে এই মাধ্যমটিতে জামায়াত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রচারে অনেকখানি এগিয়ে।

নির্বাচন নিয়ে অভিজ্ঞ লোকজন জানান, ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ৫ থেকে ১০ ভাগ লোক তাদের ভোট প্রদানে মত পরিবর্তন করেন, যাদেরকে বলা হয় সুইয়িং ভোটার। এছাড়া প্রথম বারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী ও সরকারি চাকুরিজীবীরা। অনেকের মতে, এই দুই শ্রেণির ভোট যার বাক্সে বেশি পড়বে, তিনিই হতে যাচ্ছেন আগামী দিনের ফরিদগঞ্জের সংসদ সদস্য।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়