শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮

ড্যাফোডিলের এ শ্রেষ্ঠত্ব হোক টেকসই

অনলাইন ডেস্ক
ড্যাফোডিলের এ শ্রেষ্ঠত্ব হোক টেকসই

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল কোনো আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো মানসম্মত শিক্ষা, বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ ও মানবিক মানবসম্পদ তৈরি এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখা। সেই বিবেচনায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশনের ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৭’-এ ৩৮.৪২ ওয়েটেড স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ডিআইইউ। বৈশ্বিক তালিকায় ৮০১-১০০০ ব্যান্ডে অবস্থানের পাশাপাশি ‘গবেষণার মান’ সূচকে বিশ্বে ২৯৪তম স্থান অর্জনও বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।

চঁাদপুরের কৃতী সন্তান ড. মো. সবুর খান প্রতিষ্ঠিত ড্যাফোডিলের এই অর্জন শুধু প্রতিষ্ঠানটির জন্য নয়, চঁাদপুরবাসীর জন্যও আনন্দ ও গর্বের। বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারে, ডিআইইউর অগ্রযাত্রা তার একটি দৃষ্টান্ত।

তবে অর্জন যত বড়, দায়িত্বও তত বড়। একটি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জন যেমন গৌরবের, তেমনি সেটি ধরে রাখা এবং আরও এগিয়ে যাওয়া আরও কঠিন। ফলে বর্তমান সাফল্যকে আত্মতুষ্টির কারণ না বানিয়ে ভবিষ্যতের আরও বড় উৎকর্ষের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোই হবে ডিআইইউর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

এ ক্ষেত্রে গবেষণার মান ও পরিধি বাড়ানো, শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করা, শিক্ষকতার উৎকর্ষ নিশ্চিত করা, মেধাবী গবেষক ও শিক্ষক তৈরি, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনের সঙ্গে শিক্ষাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন।

ডিআইইউর আগের অর্জনগুলোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। টাইমস হায়ার এডুকেশনের সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান অর্জনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়।

তবে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং কখনোই চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। র‍্যাংকিংয়ের অবস্থান কিংবা অর্জিত স্কোর তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তার সুফল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও দক্ষতায়, গবেষণার নতুন ফলাফলে, দেশীয় সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধানে এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে দৃশ্যমান হয়।

ডিআইইউর সামনে তাই এখন নতুন এক দায়িত্বÑঅর্জনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং মানের প্রশ্নে কোনো আপস না করা। স্বচ্ছতা, একাডেমিক সততা, গবেষণার স্বাধীনতা, মেধার মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই হতে পারে সেই পথের প্রধান ভিত্তি।

ড. মো. সবুর খানের উদ্যোগ ও স্বপ্নে গড়ে ওঠা ড্যাফোডিলের পথচলা ইতোমধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পেঁৗছেছে। এখন প্রত্যাশা, এই অর্জন আরও শক্তিশালী গবেষণা, উন্নত শিক্ষা এবং বৃহত্তর সামাজিক অবদানের পথ খুলে দেবে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনাকেও আরও দৃশ্যমান করবে।

ড্যাফোডিলের আজকের শ্রেষ্ঠত্ব তাই শুধু উদ্যাপনের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যতের প্রতি একটি অঙ্গীকার। অর্জনের এই অবস্থান যেন সাময়িক সাফল্যে থেমে না যায়Ñবরং মান, গবেষণা, উদ্ভাবন, সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপর দঁাড়িয়ে হয়ে উঠুক দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই উৎকর্ষের ভিত্তি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়