শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩

ভালো মানুষ না হলে শিক্ষার সাফল্য যেখানে মূল্যহীন

অনলাইন ডেস্ক
ভালো মানুষ না হলে শিক্ষার সাফল্য যেখানে মূল্যহীন

শিক্ষার উদ্দেশ্য কি কেবল ভালো ফলাফল, জিপিএ-৫ কিংবা গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জন? নাকি শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি সৎ, মানবিক, দায়িত্বশীল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা? এই প্রশ্নটি নতুন নয়। কিন্তু প্রতিযোগিতামুখর বর্তমান সময়ে প্রশ্নটির গুরুত্ব যেন আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার হাজীগঞ্জের শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, ভালো ফলাফলের মাধ্যমে জীবনের প্রথম ধাপে সফলতা অর্জন করা গেলেও ভালো মানুষ হতে না পারলে সেই সফলতার কোনো মূল্য নেই। বক্তব্যটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানেই—শিক্ষার সাফল্যকে শুধু পরীক্ষার খাতার নম্বর দিয়ে পরিমাপ না করে চরিত্র ও মানবিকতার আলোকে দেখার আহ্বান।

নিঃসন্দেহে ভালো ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর মেধা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। একটি ভালো ফলাফল তার উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু শিক্ষার চূড়ান্ত সাফল্য সেখানে শেষ হয়ে যায় না। একজন মানুষ যদি উচ্চশিক্ষিত হয়েও অসততা, অন্যায়, দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও দায়িত্বহীনতার কাছে নৈতিকভাবে পরাজিত হন, তাহলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সমাজের জন্য কতটা কল্যাণ বয়ে আনতে পারে—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

শিক্ষা মানুষের চিন্তার পরিধি বাড়াবে, তাকে সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে—এটাই প্রত্যাশিত। একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়বে না; সে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখবে। তাই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গণিত, বিজ্ঞান, ভাষা কিংবা ইতিহাস শেখানোর পাশাপাশি সততা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষাও সমান জরুরি।

দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক সময় ফলাফলই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি হয়ে ওঠে। অভিভাবকের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের সুনাম এবং শিক্ষার্থীর সামাজিক পরিচয়—সবকিছুতেই পরীক্ষার ফলাফল বড় হয়ে দেখা দেয়। ফলে ভালো ফল করার চাপের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায়। অথচ জীবনের বড় পরীক্ষাগুলো কোনো প্রশ্নপত্রে আসে না। সেখানে সততা, বিবেক, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধই মানুষকে মূল্যায়িত করে।

শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং পুরস্কার বিতরণের উদ্যোগ অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক। বিশেষ করে গোল্ডেন এ-প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ এবং অন্য কৃতীদের শিক্ষাসামগ্রী ও বই দেওয়ার ঘটনা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে পারে। এ ধরনের স্বীকৃতি মেধাবীদের অনুপ্রাণিত করে এবং অন্যদেরও পরিশ্রমের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। তবে এমন আয়োজনের সার্থকতা আরও বাড়ে যখন মেধার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক গুণাবলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়