শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৯

মোলহেডে বারবার উচ্ছেদের সাথে সাথে ট্যুরিস্ট পুলিশও চাই

অনলাইন ডেস্ক
মোলহেডে বারবার উচ্ছেদের সাথে সাথে ট্যুরিস্ট পুলিশও চাই

চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশনে তিন নদীর মিলনস্থল ‘মোলহেড’ পর্যটন এলাকায় অবৈধ সব দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে পৌরসভা। রোববার (৩১ মে ২০২৬) বিকেলে সেখানে এক পর্যটকের ওপর ফুচকা বিক্রেতার হামলার জের হিসেবে পৌর কর্তৃপক্ষ এই অ্যাকশনে যায়। সোমবার (১ জুন ২০২৬) দুপুরে এই যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চাঁদপুর পৌরসভা, রেল পুলিশ ও চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। জানা যায়, রোববার (৩১ মে ২০২৬) বিকেলে বড় স্টেশন পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসা এক পর্যটক স্থানীয় একটি চটপটির দোকানে ফুচকা অর্ডার করেন। ফুচকা খাওয়ার পর তিনি খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ফুচকা তেমন ভালো হয়নি। এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওই দোকানির সঙ্গে পর্যটকের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দোকানি পর্যটকের ওপর হামলা চালিয়ে তার পরিধেয় কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলে। সেদিন বিকেলের পর থেকে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। ফেসবুকজুড়ে এ নিয়ে নানা মতামত ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার (১ জুন ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর পৌরসভা, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে বড় স্টেশন বিনোদন কেন্দ্র ‘মোলহেড’ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পর্যটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ভাসমান ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে দোকানিদের পর্যটকদের সঙ্গে শালীন আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের জন্যে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পর্যটন এলাকার সুনাম রক্ষা এবং অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন জানান দিয়েই যেনো দায়িত্ব শেষ করে ফেলে। মোলহেডের অবৈধ দখলদাররা সাময়িক উচ্ছেদ সামলে আবার ওঁৎ পেতে থাকে পুনঃদখলের। ওরা বেহারা প্রকৃতির। কান কাটা গেলেও ওদের ইজ্জত যায় না। ওরা আবার তাদের স্বার্থে পর্যটককে হেনস্তা করার ঔদ্ধত্য দেখাবেই। সেজন্যে বাংলাদেশের একমাত্র তিন নদীর মিলনস্থল চাঁদপুর বড় স্টেশনস্থ ‘মোলহেড’কে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা, পর্যটন কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ভাসমান রেস্তোরাঁ ও আবাসিক হোটেল সহ ছোট-বড় স্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি এখানে পর্যটক তথা ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়োগ দিতে হবে।

উল্লেখ করা দরকার, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ট্যুরিস্ট পুলিশ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সাগর ও পাহাড়ি এলাকায় (কক্সবাজার, কুয়াকাটা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে) নিজেদের কার্যক্রম সীমিত রেখেছে। সাগর ও পাহাড়ের বাইরেও যে দেশের নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এলাকা এবং রিসোর্ট ও পার্ককেন্দ্রিক পর্যটন এলাকা কতো সমৃদ্ধ হয়েছে, সেটা চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, নরসিংদী, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর সহ আরো কিছু স্থানের দিকে ভালো করে তাকালেই উপলব্ধি করা যায়। সে উপলব্ধি থেকে চাঁদপুর সহ উল্লেখিত স্থানগুলোতে পর্যটকদের নিবিড় নিরাপত্তার স্বার্থে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রমের বিস্তার ঘটানোর জন্যে সরকারের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়