প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩৪
সেনাবাহিনীর পরিচয়ে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজির অভিযোগ
মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মানবন্ধন

কথিত সেনা সদস্য রাসেলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে এলাকার ২৩৪ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তার বোন সুরমার মাধ্যমে বিবাদীর কাছে মামলা থেকে নাম কেটে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করেন।
|আরো খবর
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে সাহেবগঞ্জ গ্রামে শতাধিক মানুষ জড় হয়ে অভিযুক্ত রাসেলকে আইনের আওতায় আনার জন্যে এবং তাদেরকে হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। রাসেলের হয়রানি থেকে নারী-পুরুষ অসহায় মানুষও রেহাই পায়নি বলে অভিযুক্তরা দাবি করেন। তারা বলেন, রাসেল সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়। তার সব ক'টি মামলাই ভুয়া। সেনাবাহিনীর কারণে লোকজন এতোদিন ভয়ে মুখ খোলেনি। তার মামলা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, পরবর্তীতে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নাটক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এই কৌশলে তিনি এ পর্যন্ত বহু লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : মোমিনের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন; আলমগীর হোসেন রাজার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করে ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন; হুমায়ুনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন; তছলিমের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন; সালমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন; আবুল হাশেমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন; ইউসুফ খন্দকারের কাছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দাবি করে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। এ তালিকা অনেক দীর্ঘ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে উল্লেখিত ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার শরীফ শাহরিয়ার বলেন, রাসেল সেনাবাহিনীতে চাকরি করে। সে সেনাবাহিনীর প্রভাব খাটিয়ে এবং এলাকার কিছু কুচক্রীমহলের সহযোগিতায় ক'দিন পর পর এটা-সেটা দেখিয়ে মামলা করে। তার মূল উদ্দেশ্যে হলো : সমঝোতার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এটা এক প্রকার চাঁদা।
ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, সে (রাসেল) শুধু শুধু আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আবার তার বোন সুরমাকে আমার কাছে পাঠিয়েছে, মামলা থেকে অব্যাহতি দিবে, যদি আমি ৫০ হাজার টাকা দেই। আস্তে আস্তে জানলাম, এই খেলা সে এলাকার অনেকের সাথেই খেলছে।
প্রতিবেশী সালমা আক্তার বলেন, রাসেল নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করে। আসলে সে সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ সৈনিক। সে চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমার স্বামী ঢাকাতে থাকেন। আমি সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ভয়ে দিনাতিপাত করছি। আমরা ওর হাত থেকে নিস্তার পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
ডিসিকে /এমজেডএইচ





