প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২
খোশ আমদেদ মাহে রামাদ্বান
রমজানকে স্বাগত জানিয়েই যেনো নতুন বাংলাদেশের পদযাত্রা শুরু হলো

খোশ আমদেদ মাহে রামাদ্বান। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বারতা নিয়ে সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হলো আজ থেকে। তবে এবারের রমজানকে আমরা একটু ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে পারি। সেটা হচ্ছে : এবারের রমজান এবং নতুন বাংলাদেশের পদযাত্রা একসাথে। উভয়ের প্রাসঙ্গিকতা অনেকটা কাকতালীয়। আর তাৎপর্যের দিক থেকেও উভয়ের মাঝে রয়েছে বেশ সামঞ্জস্য। রমজানের সিয়াম সাধনার যে শিক্ষা তার শতভাগ বাস্তবায়ন নতুন বাংলাদেশের পদযাত্রার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চেহারায় ফুটে উঠুক এমনটাই আমাদের বুকভরা আশা এবং প্রত্যাশা।
পবিত্র কোরআনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়া সংক্রান্ত আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, “আমি ঈমানদারদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছি এ জন্যে যে, যাতে তারা মুত্তাকী হয়।” এখানে আল্লাহ পাক রোজা পালনের উদ্দেশ্য বলে দিয়েছেন-মুত্তাকী হওয়া। এক মাসের সিয়াম সাধনা করলে একজন মুমিন মুত্তাকীতে পরিণত হবেন। আর মুত্তাকীদের সমাজই হতে পারে বৈষম্যহীন, শোষণ-বঞ্চনাহীন, ইনসাফভিত্তিক এক সাম্য-মৈত্রীর সমাজ। যার দৃষ্টান্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের স্বর্ণযুগ। আর এটাই ছিলো জুলাই বিপ্লব এবং আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট।
সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা হয়, রিপুর তাড়না তথা মনের কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা হয়। মুত্তাকী, তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি-এগুলো সমার্থবোধক শব্দ। যার সহজ বাংলা হচ্ছে খোদাভীরুতা অর্জন। ‘তাকওয়া’র অর্থ হচ্ছে, সব ধরনের অমানবিক এবং শরীয়তবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিজেকে উৎসর্গ করা। মিথ্যাচার, পাপাচার, প্রতারণা, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি করা ইত্যাদি গর্হিত কাজ থেকে নিজেকে নিরাপদ এবং বিরত রাখাই হলো রমজানের মূল বৈশিষ্ট্য। দেখা যাচ্ছে যে, একজন মানুষকে পরিপূর্ণ সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ বৈশিষ্ট্যগুলোই হচ্ছে মূল। রোজা সহমর্মী, সমব্যথী হওয়া শেখায়। ফকির, মিসকিন, হতদরিদ্রকে তার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ তথা জাকাত-ফিতরা শরীয়ত সম্মত পন্থায় আদায় করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনে রমজান মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। আর এগুলোই হচ্ছে তাকওয়া অর্জন তথা মুত্তাকী হওয়ার বৈশিষ্ট্য। একেই বলা হয় সিয়াম সাধনা। একজন মানুষ যদি পুরো একটা মাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে তার মধ্যে তাকওয়ার গুণাবলি অর্জন করে নেয়, তাহলে বছরের বাকি ১১ মাস সে মানুষটি তাকওয়াভিত্তিক জীবন পরিচালিত করবে। তখন আর তার দ্বারা অপরাধ, অমানবিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হবে না। তখনই তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠন হয়ে যাবে। সে জন্যেই রমজান মাসের সিয়াম সাধনা হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। আমরা যদি গভীরভাবে লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাই, মানবগড়া কোনো মতবাদ, কোনো দর্শন, কোনো তন্ত্র-মন্ত্র, কোনো বন্দোবস্ত সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই। তাই এটাই প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, সমাজ এবং রাষ্ট্রে ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে খোদায়ী বিধানের দিকেই ফিরে যেতে হবে। যার প্রমাণ খোলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফত রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা। দিনশেষে আমাদেরকে সেদিকেই ফিরে যেতে হবে। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা যেনো আমাদেরকে সেদিকেই ধাবিত করে নেয় এমনটাই মহান স্রষ্টার কাছে প্রত্যাশা করছি।







