প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫
হাসান আলী, মাতৃপীঠে নয়, বাবুরহাটে ভর্তির জন্যে আকুতি!

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে অপেক্ষমান তালিকায় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভর্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। অভিভাবক প্রতিনিধি মো. মাসুদুর রহমান পালোয়ানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহারের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে তাঁকে অবহিতকরণ এবং অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে তাঁর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি পাঠানোর জন্যে তাদেরকে অনুরোধ করেন। এ প্রেক্ষিতে নাগরিক সেবা কেন্দ্রে অভিভাবকদের স্বাক্ষরিত পত্র ও আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, শহরতলীর বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রথম পর্বে ২৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু শতাধিক শিক্ষার্থী এখন ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এই বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। জেলার ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার মান ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয় সহজলভ্য হওয়ার কারণে এবং আশেপাশে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় এই বিদ্যালয়টিতে প্রতিবছর ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আসন সংখ্যার চেয়েও বেশি হয়। বিগত বছরগুলোতে আসন সংখ্যার বিপরীতে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে পাঠদান করেছে এবং উপরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়েছে। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং সকলের জন্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্যে অভিভাবক মহল আশা করছে, জেলা প্রশাসন দ্রুত যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরাও চাই জেলা প্রশাসন বাবুরহাট হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষিতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিক। শত বছরের অধিক সময়ের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য নির্মিত হয়েছে ক’জন কৃতী প্রধান শিক্ষক, বহু কৃতী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কারণে। এমন একটি বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়াটা অনেক সৌভাগ্যের ও অনেক গৌরবের। সেজন্যে এ বিদ্যালয়ের চারপাশের ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়ার আকুতিটা সঙ্গত। তারা তো জেলা প্রশাসনের কাছে চাঁদপুর জেলার সেরা দুটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির আকুতি জানায় নি। তাদের বাড়ির কাছের স্কুলে পড়ার আকুতি জানিয়েছে। ‘প্রয়োজন জানে না কোনো আইন’ (ন্যাচেসিটি নো’জ নো ল’) এ প্রবাদের আলোকে, বাস্তবতার নিরিখে ও যুক্তিসঙ্গত কারণে এই আকুতি বিবেচনাযোগ্য বলে যে কোনো বিবেকবান, সংবেদনশীল ও অধিকারসচেতন মানুষ মাত্রই মনে করে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।




