সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭

জোছনা নেমেছে নীলপদ্ম পাতায়

হাসানাত রাজিব
জোছনা নেমেছে নীলপদ্ম পাতায়

শহরের মূল সড়কে ছোটখাটো একটা জটলা বেঁধেছে। সবাই বলাবলি করছে রাস্তায় অনেক যানজট লেগে গেছে, আপনারা আরেকটু সামনের দিকে গিয়ে সমস্যাটির সমাধান করুন। জটলাটা পিঁপড়ের দলের মতো একসাথে সামনের দিকে এগোতে লাগলো। সামনের দিকে কৃষ্ণচূড়া একটা গাছ রয়েছে। অনেক বড় গাছ। এখন যদিও গাছটার কদর কেউ করে না। গাছে ফুল ফোটেনি তখনও। গ্রীষ্মের ছোয়া এখনো লাগেনি। সেটার ঢের বাকি রয়েছে। শীত এখনও আসছি আসছি বলছে। সৌন্দর্যের কদর সবাই করে কিন্তু সেটা সাময়িক সময়ে না থাকলে আমরা ভুলে যাই তাদের অমায়িক মহিমার কথা। আকাশ পরিস্কার থাকলে এই সময় গাছের ডালের ফাঁকে চাঁদ আর তারার আলোগুলো নৃত্য করে যায়। এমন দৃশ্যে হৃদয় আটকে থাকার মতো মানুষ খুবই কম। তবে এই কম মানুষের মধ্যে একজন হলেন তাকরীম। গাছের পাশে অনেকগুলো চায়ের দোকান রয়েছে। একটা দোকানে চা খেতে খেতে তাকরীম জটলার দিকে তাকিয়ে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছে। কৌতূহল মিটাতে জটলার দিকে ইশারা করে দোকানদারকে জিজ্ঞেশ করলো, রাজনৈতিক কোন পথসভা হচ্ছে নাকি?

দোকানদার একটু ভালো করে দেখার চেষ্টা করে বললো, মনে হয় না। তাহলে একটু পর পর স্লোগান শোনা যেতো।

আচ্ছা আমি একটু গিয়ে দেখে আসি ব্যাপারটা কী!

কিছুটা ভিড় ঠেলে তাকরীম গিয়ে দেখে একটা শ্যামল বর্ণের খুব সুন্দরী মেয়ে বসে আছে চেয়ারে। বিয়ের শাড়ি পরনে। হাতে গলায় আর কানে গহনা দেখা যাচ্ছে। তবে আসল স্বর্ণ কিনা সন্দেহ আছে। মেয়েটার ডান হাতে একটা ব্রেইসলেটে ‘টি’ লিখা রয়েছে। তাকরীম তার নামটা আন্দাজ করার চেষ্টা করছে তানহা, তাসফিয়া, তাসনিয়া, তাসনিম...। ভাবতেই ভাবতেই মেয়েটা এসে তাকরীম-এর হাত ধরে জোরে জোরে কান্না শুরু করে দিয়েছে। আর কান্নাজড়িত গলায় বলে চলেছে, ‘কোথায় ছিলে তুমি? এতোক্ষণ বসিয়ে রেখেছো কেনো আমায়। তুমি কি ভুলে যাও আমি একটা মেয়ে? একটুও কি তোমার চিন্তা হয় না? সব ফেলে আমি চলে এসেছি তোমার কাছে।’

তাকরীম তাকে সরিয়ে দিয়ে বললো, আপনি ভুল করছেন। আমি আপনাকে চিনিই না।

তুমি এমন করছো কেনো আমার সাথে?

তাকরীম সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে কয়েকজন সামনে এসে বাঁধা দেয়। কেউ কেউ বলছে কোথায় যাচ্ছেন আপনি। মেয়েটা কি মিথ্যে বলছে! বাড়ি থেকে বের করে এনে এখন না চিনার ভান করছেন। যান ওনাকে বাড়ি পৌছে দিন।

তাকরীম নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে ধমক দিয়ে বললো, ‘আরে ফাইজলামি পাইছেন! আমি ওনার কেউ না।’

ভিড় থেকে একজনের প্রশ্ন, আপনার নাম কী?

আমার নাম দিয়ে আবার কী হবে!

বেশি কথা না বলে নাম বলুন

তাকরীম!

এবার মেয়েটা আগ বাড়িয়ে হাতের ব্রেইসলেটের শব্দটা দেখিয়ে বললো, এই যে দেখেন এটা আমাকে ও কিনে দিয়েছে। নাহলে এটা আমি পরবো কেনো! আমার নাম হলো, প্রীতিলতা। আমার নাম হলে তো আমি ‘পি’ ওয়ার্ড-এর ব্রেইসলেটই কিনতাম, তাই না?

তাকরীম ভয়ে শুকিয়ে গেছে। হাত পা কাঁপছে। এখন তার ভাবনায় জটলা থেকে বাঁচা। ভিড় বেড়ে যাচ্ছে। পুরো ঘটনাটাই ভিডিও করে যাচ্ছে অনেকে। ফেসবুকে যে ছড়িয়ে পড়বে এটা নিশ্চিত ধরেই রেখেছে তাকরীম। পরিস্থিতিকে শান্ত করার জন্য তাকরীম সবাইকে বললো, ‘আচ্ছা ভাই আমার ভুল হইছে। আমাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। আমি এখনই তাকে বাসায় পৌছে দিচ্ছি। আপনারা প্লিজ আর বাড়াবাড়ি করবেন না।’

ভিড় থেকে একজন বলে উঠলো, আবার নিজের বাসায় নিয়ে যাইয়েন না। নিলে বিয়ে করে নিয়েন না হলে আবার জেলে যেতে হবে সাথে পাবলিকের মাইর ফ্রি।

তাকরীম কিছুটা রেগে গিয়ে বললো, ‘এতো অ্যাডভান্সড ভাবেন কেনো! আমাকে কি দেখে পাগল মনে হচ্ছে?’

মেয়েটা তাকরীম-এর হাত ধরে বাহিরে বের হয়ে এলো। হাতটা শক্ত করে ধরেছে। যেনো কোনো আসামীর হাত ধরে আছে। কিছুটা বিরক্ত হয়েই তাকরীম বললো, হাত ছাড়েন আমার।

সুযোগের সুবিধাটা কাজে লাগিয়ে প্রীতিলতা বললো, তাহলে আবার সবাইকে ডাকবো?

ভয় দেখাচ্ছেন কেনো?

আমার না খুব ক্ষুদা লাগছে। সারা সন্ধ্যা কিছুই খাওয়া হয়নি। কিছু কিনে দিবেন আপনি?

বাহ! এমনভাবে বলছেন যেনো আমি আপনার জন্যই রোজগার করি।

এতো কিপটেমি করছেন কেন? না হলে ১০০ টাকাই খাবো। আচ্ছা আচ্ছা দিয়ে দিবো আমি।

আচ্ছা আপনি তো তখন আমাকে তুমি তুমি বলছিলেন। এখন আবার আপনি হয়ে গেলাম কী করে?

আপনি কি বোকা? আমি সব মিথ্যে বলছিলাম। মিথ্যে না বললে আজ ঐখান থেকে ছাড়া পাওয়া সম্ভব হতো না।

সেটা তো বুঝলাম। কিন্তু আপা আমিই কেনো!

কী! আপনি আমাকে আপা বলে সম্বোধন করলেন!

আচ্ছা ভাবী বলেন, আমিই কেনো!

আচ্ছা আমি বুঝতে পারছি আপনাকে আবার বিপদে ফেলতেই হবে।

আরে ভুলটা আমি বললাম কোথায়। কারো জন্য বাসা থেকে পালিয়ে এসেছেন, এটা তো আমি বুঝতেই পারছি। ভাবী তো ডাকাই যায়।

আমি আপনাকে একবার ও বলেছি যে আমি কারো জন্য পালিয়ে এসেছি! সবকিছু আগ বাড়িয়ে বুঝে ফেলা ভালো না। আচ্ছা এবার বলছি আপনাকেই কেনো বেছে নিয়েছি। আমার চারপাশে একটা মানুষ ও ছিলো না যাকে আমি এভাবে বোকা বানাতে পারতাম। কেউ ছিলো দোকানদার, কেউ ছিলো ড্রাইভার, কেউ ছিলো নেশাখোর আর কেউ ছিলো শিক্ষিত যুবক, আর এরা কেউই বোকা হয় না। এদের সাথে কিছু বলতে গেলে অন্য বিপদে পরে যেতাম।

তো আমাকে দেখে বোকা মনে হলো আপনার?

আমার আম্মু প্রায়ই বলতো আমার মধ্যে একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে। মানুষকে দেখেই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট বুঝে যাই। তো আর কি। এরপর তো সব আপনি দেখলেনই। এবার আমাকে কিছু খাওয়ান তারপর আপনাকে সব বলছি।

আমি তো খারাপ মানুষ হতে পারতাম!

নাহ। বোকা মানুষরা ভালোই হয়।

বোকারা ভালো হয় নাকি ভালো মানুষরাই বোকা হয়?

বোকা আর ভালো মানুষের মধ্যে একটা মিল রয়েছে। যেকোন একটা ভেবে নিন। তবে আমার ধারণা কি ভুল প্রমাণ হলো?

সেটা বোঝার দায়িত্ব আপনার। ততোক্ষণ পর্যন্ত টেনশনে থাকুন। আমাকে অলরেডি অনেক প্যারা দিয়ে ফেলছেন।

তাকরীম একটা রেস্টুরেন্টের দিকে ইশারা করে বললো, চলুন আপনার খাবারের ব্যবস্থা করি।

ভিতরে ঢুকেই প্রীতিলতা বিরিয়ানির অর্ডার করে বসলো। তাকরীমের দিকে তাকিয়ে তার অবাক হয়ে থাকা মুখটাকে ইঙ্গিতে করে প্রীতিলতা বললো, এমন মুখভঙ্গীর কারণ কী? টাকা নেই পকেটে?

আছে। এমন টেনশনের ভিতরে কেই বিরিয়ানি খেতে পারে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। অথচ সামান্য টেনশন হলেই আমি খাওয়া ছেড়ে দিই।

কে বলছে আমি টেনশন করছি! এখন আমি একদম মুক্ত। আপনি আছেন না!

হুম। আপনার খাওয়া পর্যন্ত।

দেখা যাক আগে আগে কেয়া হোতা হ্যয়!

এবার আমার কৌতুহল নিবারন করুন। আপনার এভাবে বাড়ি থেকে চলে আসার কারণ কী? আপনার বাবা মা কি খোঁজ নিইনি এখনো?

আরে বাবা! আপনি পাগল? দেখছেনই তো আমি খাচ্ছি। খাওয়ার সময় কেউ কথা বলে!

তাকরীম উপড়ে তাকিয়ে বলছে, ওরে আল্লাহ, আমি কি এমন অপরাধ করেছি যে আমাকে এমন অবস্থায় পরতে হলো!

প্রীতিলতা খাওয়াতে পুরোপুরি ব্যস্ত। কোন দিকে নজর নেই তার। খাওয়া শেষ করে প্রীতিলতা তাকরীম কে বললো, আচ্ছা আপনার নাম টা তো জানা হলো না।

আমার নাম জানার কোন প্রয়োজন নেই এখন। আচ্ছা আপনার নাম তো ‘টি’ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আপনার নাম যেনো কী বললেন?

আরে না। ব্রেইসলেটটা তো আমার বড় আপুর। ভাগ্য ভালো আপনার নামের সাথে মিলে গেছে না হলে আরো কতকিছু করতে হতো সবাইকে মানাতে। আমার নাম তো প্রীতিলতা।

নামটা বলা শেষ করতেই প্রীতিলতা দৌড় দিয়ে বাহিরে চলে গেলো। একটা ছোট মেয়ের হাতে কয়েকটা নীল পদ্ম ছিলো। বিক্রি করবে বোধহয়। প্রীতিলতা হাতে কয়েকটা নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখছে। তাকরীম পিছু পিছু বাহিরে এসে বললো, নীল পদ্ম আগে দেখেননি?

অনেক দেখেছি। আমার এতো এতো ভালো লাগে ফুলগুলো! কিনে দেননা একটা।

প্রীতিলতার আবদার টা এতো মায়ায় ভরা ছিলো যে তাকরীম কোন কথাই বলতে পারলো না। সে ভাবছিলো মানুষ এতো সুন্দর করে কিছু চাইতে পারে! পকেট থেকে টাকা বের করে ৩ টি নীলপদ্ম কিনে তার হাতে দিলো। পদ্ম ফুল হাতে পেয়ে প্রীতিলতা এতো খুশি হলো যে তাকরীমকে জড়িয়ে ধরলো। তাকরীম ২ মিনিট ধরে কিছুই বলতে পারলো না। প্রীতিলতাকে সরাতে ইচ্ছে করছে না বরং হাতগুলোকে প্রসারিত করে তাকে আঁকড়ে ধরতে চাইছিলো। সম্ভিত ফিরে পেয়ে তাকরীম তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো, কথায় কথায় এভাবে অপরিচিত একটা মানুষকে জড়িয়ে ধরা কিন্তু আমাদের দেশে নিষিদ্ধ। এটা পাশ্চাত্য দেশে হতে পারে।

প্রীতিলতা হেসে উত্তর দিলো, তাহলে প্রথমেই ছাড়িয়ে নিলেন না কেনো, হা? কিছুটা সময় যে কিছুই বললেন না!

মেয়েটার এতো খোলাখুলি কথাগুলো তাকরীমকে একটুও বিরক্ত করছিলো না। বোবা দর্শক হয়ে তাকে দেখছিলো আর ভিতরের হৃদয়টা প্রফুল্লতায় ভাসছিলো।

তাকরীমের প্রশ্ন, ”আপনি জোছনা রাত ভালোবাসেন? ”

সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে প্রীতিলতা বললো, এমন মানুষ কোথাও খুঁজে পাবেন না যে জোছনা রাত ভালোবাসেন না।

তাকরীম বললো, জোছনা রাতে পুকুরে ফোটা নীলপদ্মগুলো খুব হাসে। হাসির পসরা সাজিয়ে চারপাশটাকে একটা নীল আকাশ বানিয়ে দেয়। আপনি একবার দেখলে, সারারাত দেখবেন।

হুম। কিন্তু এর জন্য আপনার খুব ভাগ্যবান হতে হবে বৈকি। একসাথে জোছনা রাত আর পুকুরে নীলপদ্ম পাওয়া কিন্তু খুব সহজ না।

ঠিক বলেছেন আর আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন। আল্লাহ আমাকে দুটোই দিয়েছেন। আমার বাড়ির পেছনে একটা পুকুরে প্রায়ই নীলপদ্ম ফোটে। তাই আমার এমন অকৃতিম সৌন্দর্য্যরে আঁধার কোনভাবেই মিস হয় না।

আমাকে দেখাবেন একদিন? আমি কিন্তু কাউকে কিছু অনুরোধ করি না। আসলে অনুরোধ করার প্রয়োজনই পরেনি! আচ্ছা আপনি যে আর জিজ্ঞেশ করছেন না আমি কোথা থেকে আসলাম আর কেনো এমনটা করছি!

কথার উত্তর না দিয়ে তাকরীমের ভিন্ন প্রশ্ন, ‘চা খাবেন?’

আপনি কি আমার মনে ভিতরে আছেন নাকি? এখন ঠিক চা খেতেই আমার ভীষন ইচ্ছে করছে। কিন্তু আপনি যে কিপটে!

চলুন ভিতরে গিয়ে বসে চা খাই।

নাহ। আমি ঐ টং দোকানে বসে দুধ চা খাবো।

সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে তাকরীম বললো, আচ্ছা চলেন তাহলে।

প্রীতিলতার এভাবে রাস্তায় ঘুরাঘুরির কারনটা জেনে গেছে কিছুক্ষন আগেই। প্রীতিলতা যখন রেস্টুরেন্ট থেকে দৌড়ে বের হয়ে এসেছিলো তখন ব্যাগটা রেখে এসেছিলো। তাকরীম কোন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার আসায় ব্যাগের বাহিরের পকেটে হাত দিতেই একটা চিরকুট পেলো। তাতে লিখা ছিলো, ”আমার মেয়েটা আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত। ডাক্তার বলেছে এই বয়সে ওর এই রোগে আক্রান্ত হওয়াটা খুব রেয়ার। সবকিছু ভুলে যায়। যদি বাসার ঠিকানা ভুলে যায় আর আপনি এই চিরকুটটা পড়ে থাকেন তবে দয়া করে নিন্মোক্ত ঠিকানায় পৌছে দিবেন”

দুজন এর চা খাওয়া শেষ হয়ে গেলে তাকরীম বললো, ”চলুন আপনাকে বাসায় দিয়ে আসি। ”

আপনি কি চিনেন আমার বাসা?

আপনার ব্যাগ থেকে ঠিকানা নিয়েছি।

ভালো করেছেন। আমি আমার বাসার ঠিকানা ভুলে গিয়েছি। আমি অসুস্থ। সব ভুলে যাই। ঠিকানা যে ব্যাগে ছিলো সেটাও ভুলে গিয়েছিলাম।

বাসার সামনে এসে সি এন জি থেকে নেমে তাকরীম বললো, এসে গেছি আপনার বাড়িতে। চলুন ভিতরে যাওয়া যাক।

প্রীতিলতা শুধু মাথা নাড়ালো। ভিতরে ঢুকতেই প্রীতিলতার বাবা দৌড়ে আসলো আর রাগ ঝাড়া শুরু করলো। প্রীতিলতার বাবা দেখতে এখনো যুবকের মতো। ভীষন স্মার্ট। চশমা পড়া। ডান পাটা একটু ছোট বিধায় সামান্য খুঁড়িয়ে হাঁটে। ওনার ওয়াইফ এর সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে। প্রীতিলতার মাথাটা বুকে ধরে রেখে বললো, এমন বউর মতো সেজে কোথায় গিয়েছিলি?

আমার বউ হতে ইচ্ছে করছিলো তাই সেজেছি। এমনিতেও এমন পাগল মেয়েকে কেউ বিয়ে করবে না বাবা।

তোকে পাগল কে বলছে? হয়তো কিছু কিছু জিনিস ভুলে যাস, এতোটুকুই।

পাগল নই তো কি! সন্ধ্যা থেকে এই মানুষটাকে জ্বালিয়ে মেরেছি।

প্রীতিলতার বাবা তাতরীমের দিকে তাকিয়ে বললো, তুমি কিছু মনে করোনা বাবা। ও নিশ্চই তোমার অনেক টাকা নষ্ট করেছে। আমি দিয়ে দিচ্ছি।

না না। এটা নিয়ে আপনি ভাববেন না। আমি প্রীতিলতা কে আগে থেকেই চিনি। এই জন্যই বাসাতে নিয়ে আসছি।

কি বলছো তুমি। শুনে খুব ভালো লাগলো। তাহলে তুমি চিরকুটটা পড়োনি, তাই না?

নাহ। আমি জানি সবকিছু।

তাকরীম অপরিচিতের ব্যপারটা কেনো গোপন রাখলো তা সে নিজেও বুঝতে পারছিলো না। কিন্তু তার গোপন রাখতেই ভালো লাগছিলো। প্রীতিলতার পরিচিত হয়ে থাকতেই ভালো লাগছিলো। প্রীতিলতার বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তাকরীম বাসায় যেতে লাগলো আর পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো দোতলার বারান্দায় আবছা আলোয় প্রীতিলতা দাঁড়িয়ে তাকে দেখছে। আবছা আলোয় তার মুখটা দেখতে তাকরীমের ভালোই লাগছিলো। তার চোখগুলো ছলছল করছিলো। বিদায়ের বেদনায় দুজনের হৃদয়টা কেমন যেন ভেঙ্গেচুরে যাচ্ছিলো।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়