প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:০৯
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার : তাজরিয়ান জামান নাহিন
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার জন্য অনেক পড়ালেখা করেছি

তাজরিয়ান জামান নাহিন। হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। বাবা শামসুর জামান চাকরিজীবী। মা আফসানা মেহের নিগার শিক্ষিকা। সম্প্রতি সে চাঁদপুর কণ্ঠের মুখোমুখি হয়। সাক্ষাৎকার নেন : তাইয়্যেব।
* অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাওয়ার খবর প্রথম কীভাবে জানলে? তখন তোমার অনুভূতি কেমন ছিল?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার খবর আমার মা এবং একজন আত্মীয় আমাকে প্রথমে জানান। আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি, পরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের রেজাল্ট চেক দিয়ে জানতে পারলাম আমি আসলেই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। এরপর মহান সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেয়া ছাড়া আর কোন রাস্তা ছিল না।
* তোমার এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা কে দিয়েছেন?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : আমার এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে আমার আব্বু-আম্মু এবং স্কুলের শিক্ষকরা বিশেষ করে আমাদের মিল্টন স্যার। তাছাড়া আমার অনলাইন কোর্সের কিছু ভাইয়ারা ও অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
* ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাওয়ার জন্য তুমি কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলে?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার জন্য মূলত আমি ধারাবাহিকভাবে পড়ালেখা চালিয়ে গেছি। আমার কাছে এখনো সেই লিস্ট আছে যে আমি বৃত্তি দেয়ার লাস্ট তিনমাস আগে কোন্দিন কতটুকু কত ঘণ্টা পড়েছিলাম। সবকিছু আমার একটা ট্রাকিংয়ের আন্ডারে ছিল।
* প্রতিদিন কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতে?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : প্রতিদিন আমার পড়ার সময় ছিল গড়ে ৬ ঘণ্টা। কোনদিন বেশি কম হতো তবে এটা হচ্ছে গড় হিসাব।
* কোন বিষয়টি তোমার সবচেয়ে প্রিয়? কেন?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : আমার ক্লাস অষ্টম শ্রেণীতে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল বিজ্ঞান। বিশেষ করে বায়োলজির অংশগুলো খুবই প্রিয় ছিল যা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে বাকি পড়াগুলো শেষ করার
* পড়াশোনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা কী ছিল? কীভাবে তা অতিক্রম করেছ?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : পড়াশোনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল সোশ্যাল মিডিয়া। বিশেষ করে রিলস অংশটুকু খুবই ক্ষতিকারক ছিল আমার জন্য। এটি কাটাতে আমার অনেক সময় লেগেছে। যদিও পরে ইনস্ট্রাগ্রাম অ্যাপটি ডিলিট করতে হয়েছিল।
* কখনো কি ভেঙে পড়েছিলে? তখন কীভাবে নিজেকে সামলেছ?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : হ্যাঁ ভেঙে পড়েছিলাম। আমি ক্লাস এইটের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষায় গণিতে ৫০ পেয়েছিলাম। মডেল টেস্টে ৫৫ পেয়েছিলাম, এবং ফাইনাল পরীক্ষা পেয়েছিলাম ৬৩। এসব ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তর করা ছিল আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। এখনো মনে আছে ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও অসংখ্য গণিতের সমস্যা সলভ করতে হয়েছিল। যা ছিল যন্ত্রণাদায়ক।
* এই সাফল্যের পেছনে তোমার পরিবার ও শিক্ষকদের ভূমিকা কতটা?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : অবশ্যই আমার পরিবারের ভূমিকা অনেক। তাদের আর্থিক মানসিক দুইটি সাপোর্ট পেয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। তাছাড়াও বিশেষ কিছু বন্ধু-বান্ধব ছিল, আত্মীয় ছিল, আমার প্রিয় শিক্ষক স্যাররা ছিলেন যাদের কারণে সম্ভব হয়েছে।
* বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও? কেন?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : বড় হয়ে আমি একজন ব্যবসায়ী হতে চাই। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের এডুকেশন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করানো। যাতে তা বৈশ্বিক পর্যায়ে ও দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।
* দেশের জন্য তুমি ভবিষ্যতে কী অবদান রাখতে চাও?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : দেশে একটি বৃহৎ মাল্টিন্যাশনাল এডুকেশনাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই। যাতে আমরা গলা উঁচু করে বলতে পারি যে এটি বাংলাদেশের কোম্পানি।
* তোমার মতে একজন ভালো শিক্ষার্থীর প্রধান গুণ কী?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : একজন ভালো শিক্ষার্থীর গুণ হচ্ছে, সে অবশ্যই নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার পড়ালেখাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যাকে পড়হংরংঃবহপু সধরহঃধরহরহম বলাও যায় । এই গুনটি থাকলে একজন শিক্ষার্থী জীবন হয়ে যায় অনেক সহজ।
* যারা ভবিষ্যতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেতে চায়, তাদের জন্য তোমার পরামর্শ কী?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : যারা ভবিষ্যতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেতে চায় তাদের বলব যে বছরের শুরু থেকে পড়াশোনা করা, অষ্টম শ্রেণীর সিলেবাস তুলনামূলক ছোটই বলা যায়। যদি মাস আকারে করে সিলেবাসটি শেষ করা যায়, যেমন এই মাসের প্রত্যেকটি বই থেকে একটি করে অধ্যায় পড়ব, পরের মাসে তার দ্বিগুণ করব এভাবে করলেই পড়া হয়ে যায়। বছরের শেষ দিকে শুধু শুধু অতিরিক্ত লোড নেয়া খুবই ক্ষতিকর। যা স্বাস্থ্যের এবং মানসিকভাবে খুবই ক্ষতি করে, যে সমস্যাটি আমি ফেস করে এসেছি।
* পড়াশোনার বাইরে তোমার প্রিয় শখ কী?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : পড়াশোনার বাইরে আমার বিশেষ শখ হচ্ছে ক্রিকেট খেলা, এবং বন্ধুদের সাথে গল্প করা।
* প্রিয় বই বা লেখকের নাম কী?
তাজরিয়ান জামান নাহিন : আমার প্রিয় বই স্টুডেন্ট হ্যাক, যার লেখক আয়মান সাদিক ভাইয়া।







