সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪

ধর্মভিত্তিক ডায়াবেটিস প্রতিরোধ মডেলে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে বাংলাদেশ

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
ধর্মভিত্তিক ডায়াবেটিস প্রতিরোধ মডেলে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে আগামী ৬ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে 'ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেনশন সামিট ২০২৬'। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস এবং অসংক্রামক ব্যাধি (NCD) নিয়ন্ত্রণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও নীতিভিত্তিক জীবনধারাকে কাজে লাগানোর একটি সমন্বিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সকাল ৮:৩০ থেকে বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত চলমান এই সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবে ঐতিহাসিক 'ঢাকা ঘোষণা'।

বিজ্ঞানভিত্তিক সাফল্যের ভিত্তি

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে যে, স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা তৈরি ও ডায়াবেটিক ঝুঁকি বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব। ২০২৫ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মর্যাদাপূর্ণ সাময়িকী 'JAMA Network Open' -এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ধর্মীয় উপাসনালয়ভিত্তিক জীবনধারা পরিবর্তনের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক উদ্ভাবনী মডেল হিসেবে স্বীকৃত এই পদ্ধতিটি জনস্বাস্থ্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের এক অনন্য সংমিশ্রণ তৈরি করেছে, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অংশীদারিত্ব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF), ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশন (WDF), জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (JICA) এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (IsDB) মতো শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সামিটের সমন্বয় করছে। অনুষ্ঠানে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা এক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হবেন।

ঢাকা ঘোষণার প্রধান অঙ্গীকারসমূহ

সম্মেলনে উপস্থাপিত 'ঢাকা ঘোষণা' মূলত ডায়াবেটিস ও অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী নতুন নীতি নির্ধারণ করবে। এর প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো :

* *বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি :* ডায়াবেটিস ও অসংক্রামক ব্যাধি দূরীকরণে আন্তর্জাতিক নীতি জোরদার করা।

* *ধর্মীয় কাঠামোর সংযোজন :* রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক মূলধারার জনস্বাস্থ্য কৌশলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করা।

* *স্বাস্থ্য সমতা ও সচেতনতা :* সকল স্তরের মানুষের জন্য বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিশ্চিত করা।

* *দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা (South-South Collaboration) :* উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ বৃদ্ধি করা।

* *বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্ব :* বিশ্বব্যাপী এই মডেলটির প্রসারে বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের ঐক্যবদ্ধ করা।

বৈশ্বিক প্রভাব ও মডেল বিস্তার

বাংলাদেশের এই সাফল্য কেবল জাতীয় সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। সামিটের মাধ্যমে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (OIC)-এর ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্বে এই মডেল বিস্তারের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই বৈশ্বিক মডেলটি মূলত পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত :

১. *কমিউনিটি মোবিলাইজেশন :* স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামো ব্যবহার করে সচেতনতা বৃদ্ধি।

২. *জীবনধারা শিক্ষা:* পুষ্টি, শারীরিক ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সংক্রান্ত নির্দেশিকা।

৩. *প্রাথমিক স্ক্রিনিং :* তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ।

৪. *রেফারেল ব্যবস্থা :* জটিল রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণের সুসংগঠিত পথ।

৫. *ডিজিটাল হেলথ ইন্টিগ্রেশন :* প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ ও ফলো-আপ ব্যবস্থা।

"একসাথে আমরা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারি"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেনশন সামিট ২০২৬ বিশ্বব্যাপী অসংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলার লড়াইয়ে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে প্রেরিত এই বার্তা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য নীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী ও ফলপ্রসূ পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়