বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫

সভাকক্ষে মোবাইল—প্রযুক্তির ব্যবহার, নাকি মনোযোগের অপচয়?

অনলাইন ডেস্ক
সভাকক্ষে মোবাইল—প্রযুক্তির ব্যবহার, নাকি মনোযোগের অপচয়?

অতি সম্প্রতি দুটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি ঘটনায় সভা চলাকালে এক সিভিল সার্জনের বারবার মোবাইল ফোনে কথা বলায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান প্রকাশ্যে বিরক্তি জানান এবং তাঁকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। অন্য একটি ঘটনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তাঁর বক্তব্য চলাকালে এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় নোট নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঘটনাগুলো আলাদা, ব্যক্তিরাও আলাদা; কিন্তু দুটির ভেতরে একটি অভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে—সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সভায় অংশগ্রহণকারীর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সীমা কোথায়? প্রশ্নটি নিছক শিষ্টাচারের নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রশাসনিক দক্ষতা, পারস্পরিক সম্মান, সিদ্ধান্তের মান, সময়ের মূল্য এবং রাষ্ট্রীয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ।

সভা নিছক বসে থাকার জায়গা নয়; এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্থান, আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল শর্তই হলো পূর্ণ মনোযোগ। আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে সভায় কেবল শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকাকেই অনেকে দায়িত্ব পালন মনে করেন, যা সঠিক নয়। আধুনিক প্রশাসনে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য কর্ম-উপকরণ হওয়ায় সভার ভেতরে এর প্রয়োজনীয় ব্যবহার (যেমন নথি দেখা বা জরুরি তথ্য নেওয়া) একেবারেই নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে সমস্যা হলো প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের সীমারেখা না থাকা। জরুরি অফিসিয়াল কল আর সভার মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা বা দীর্ঘ ব্যক্তিগত কথোপকথন এক বিষয় নয়। সুতরাং নীতিটি হওয়া উচিত—মোবাইল নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু সভার মনোযোগ নষ্ট করে এমন মোবাইল ব্যবহার আবশ্যিকভাবেই নিষিদ্ধ। একই সাথে সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে কাউকে প্রকাশ্যে অপমান না করে প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে সতর্ক করাই শ্রেয়। প্রশাসনিক সংস্কৃতি গঠনে নেতৃত্বের দৃষ্টান্তই সবচেয়ে বড় নির্দেশনা। মন্ত্রী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজে মনোযোগী হলে অধস্তনদের ওপরও ইতিবাচক চাপ তৈরি হয়। অন্যদিকে সভায় কথা শোনার পাশাপাশি নোট নেওয়ার অভ্যাস চালু করা দরকার, যাতে সভার পর সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। পাশাপাশি সভাগুলোকেও দীর্ঘ ও অপ্রাসঙ্গিক না করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পূর্ব-নির্ধারিত এজেন্ডা অনুযায়ী পরিচালনা করা উচিত।

ব্যক্তিগত বিতর্ক না বাড়িয়ে এখনই একটি সর্বজনীন ‘সভা আচরণবিধি’ বা নির্দেশিকা জারি করা প্রয়োজন। যেখানে মোবাইল ফোনে সাইলেন্ট মোড ব্যবহার, জরুরি প্রয়োজনে কক্ষের বাইরে গিয়ে কথা বলা, নোট গ্রহণ এবং সময়ানুবর্তিতার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই নিয়ম মন্ত্রী, এমপি, আমন্ত্রিত অতিথি ও সরকারি কর্মকর্তা—সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। প্রযুক্তির যুগে মোবাইল আমাদের কাজকে দ্রুত করেছে ঠিকই, কিন্তু তা যেন দায়িত্ববোধ ও মনোযোগ কেড়ে না নেয়। সভাকক্ষে ফোন নীরব রেখে আলোচনায় মনোযোগী হওয়াই হতে পারে এক নতুন ও কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কৃতির সূচনা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়