প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০২
মৌলভীবাজারে চা বাগানে গলা কেটে হত্যা, আলামতসহ আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার মৌলভী চা বাগানের বাংলো টিলায় গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার আলামতসহ মৌলভী চা বাগানের বাসিন্দা আকাশ রবি দাশ, (২০) ও স্বাধীন আহমেদ (২০) নামের দুই আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম জাকির হোসেন। তিনি মৌলভীবাজারের স্টেডিয়াম এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সাংবাদিকদের জানায়, গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে মৌলভী চা বাগানের বাংলো টিলার ঢালে গলা কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতযুক্ত অবস্থায় একটি লাশ পাওয়া যায়। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশের সুরতাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। মৃত ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন বলে জানতে পারে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে ভিকটিম জাকির হোসেনের স্ত্রী আনজিলা বেগম বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
(সদর থানার মামলা নং-৬, তারিখ-৬ জানুয়ারি, ২০২৬; ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড।)
ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্দ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়েরসহ সদর থানার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস), সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে সদর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার এসআই উৎপল সাহা, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই হিরণ বিশ্বাস, এএসআই রানা মিয়া, এএসাই সাইদুর রহমান, কং পিন্টু শীলসহ একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার তদন্তে ভিকটিমের পরিবারের দেওয়া তথ্য, পুলিশের গোপন সোর্স এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আকাশ এবং স্বাধীন নামে দুই যুবককে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বুধ (৭ জানুয়ারি ২০২৬) ভোরে তাদেরকে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন ছুফুয়া বাবুর্চি বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে ৮ জানুয়ারি সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থল এবং তার আশেপাশে তল্লাশি করে ঘটনাস্থল থেকে ৩০০ মিটার দূরে গ্রেপ্তারকৃত দুজনের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা এবং আসামি স্বাধীনের রক্তমাখা হুডি জব্দ করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, জাকিরের সাথে শারীরিক সম্পর্ক এবং তার বিকাশে থাকা টাকার লোভে পড়ে আসামিরা তাকে হত্যা করেছে।








