প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪১
কচুয়ায় বিষ প্রয়োগে মৎস্য খামারের ১৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া এলাকায় একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাটিকরপাড়া সংলগ্ন দক্ষিণ বিলে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারির নাম মো. আবুল খায়ের, তিনি ওই গ্রামের হাজী দুলাল মিয়ার ছেলে।
|আরো খবর
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারি আবুল খায়ের জানান, তিনি জমি ইজারা (লিজ) নিয়ে এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে ১২০০ শতাংশ জমিতে গত ৬ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাহারাদার ঘুমিয়ে পড়লে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা খামারে বিষ প্রয়োগ করে।
বুধবার সকালে খামারে গিয়ে তিনি দেখতে পান রুই, কাতলা, মৃগেল, কৈ, তেলাপিয়া, শিং ও সরপুঁটিসহ সব জাতের মাছ মরে ভেসে উঠছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে পানি থেকে মরা মাছ তুলতে তাকে সহায়তা করেন।
ক্ষতির কারণ সম্পর্কে আবুল খায়ের জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর কড়ইয়া এলাকায় একটি মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষণার পর তিনি পুরোপুরি মৎস্য খামারের ব্যবসায় মনোযোগ দেন। তবে স্থানীয় কিছু মাদকসেবী এতে ক্ষুব্ধ হয় এবং তাকে পুনরায় মাদকের সাথে যুক্ত হতে চাপ দেয়। মাদকসেবীদের কথায় রাজি না হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার খামারে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
খামারের পাহারাদার মো. ইব্রাহিম বলেন, “আমি রাত ১টা পর্যন্ত জেগে পাহারা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সেই সুযোগেই দুষ্কৃতকারীরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষপ্রয়োগে ১৫ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলায় ঋণগ্রস্ত আবুল খায়ের এখন পরিবার নিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারির ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।







