প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫১
ফরিদগঞ্জে মারধর ও চুরির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ গ্রেপ্তার ৪

ফরিদগঞ্জে মারধর, ক্যাশ টাকা, চেক বই ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে গত ১৪ অক্টোবর রাতে ফরিদগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
|আরো খবর
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছবুর পাটওয়ারী ওরফে রুবেল (৪০), যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী (৪০), রাজু পাটওয়ারী (৪২) এবং আরিফ তপাদার।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জের স্থানীয় পাটওয়ারী বাজার এলাকার শোশাইরচর গ্রামের মো. কামাল হোসেন ওরফে মোস্তফা (৩৬) বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে ৯ থেকে ১২ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া এই চার নেতার। মামলার ১ থেকে ৮ নম্বর আসামিদের বাড়ি চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ থানা এলাকায়।
ঘটনার নেপথ্য ও বাদীর অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদীর বাবা তাঁর মালিকানাধীন ‘এম আর কে ট্রেডার্স’ নামের দোকান ও ভূমিসহ একটি পাকা ভবনের বিপরীতে ব্যাংক লোন গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সম্পত্তিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করে দুই লাখ টাকা বায়নাবাবদ গ্রহণ করে বালিথুবা গ্রামের আবু সাইদের ছেলে শরীফুল ইসলামের (৩৮) সাথে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর একটি বায়না চুক্তি করা হয়।
তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও ১ নম্বর আসামি শরীফুল ইসলাম সম্পত্তি রেজিস্ট্রি না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। উপায়ন্তর না দেখে বাদীর পরিবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করে এবং গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শরীফুলের বায়নার দুই লাখ টাকা তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেয়।
বাদীর দাবি, বায়নার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকা ফেরত দেওয়া সত্ত্বেও গত ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শরীফুলের নেতৃত্বে ১৫–২০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অনধিকার প্রবেশ করে তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। বাদী বাধা দিলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং টেনে-হেঁচড়ে রাস্তায় এনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এতে তাঁর মাথা, কান, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয় এবং তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
এ সময় সাক্ষীরা উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। আসামিরা দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকার ক্ষতি করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৮০ হাজার টাকা চুরি করে নেয়। এছাড়া ভীতি প্রদর্শন করে বাদীর বাবার স্বাক্ষর করা ৪টি ব্যাংক চেক (যার একটিতে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা লেখা ছিল), ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার আগে আসামিরা দোকানের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়।
পরে ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ এসে বাজার কমিটির সহায়তায় গেটের তালা খোলে। আহতদের উদ্ধার করে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দল ও পুলিশের বক্তব্য :
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান টিপু বলেন, “আমাদের চার নেতাকর্মী ঘটনার শেষ দিকে ঘটনাস্থলে যান। মারামারি বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন না। তবে পুলিশের তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দল সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।”
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদ উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই চাঁদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।








