প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪২
নিহতের দু বছর পর ময়নাতদন্ত
কবর থেকে তোলা হচ্ছে সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের দাফন করা হয়েছিলো। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশনায় ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
|আরো খবর
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ আহমেদ। তিনি
জানান, আদালতের নির্দেশনার পর কবর থেকে লাশ উত্তোলনের সুবিধার্থে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে লাশ উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান বালিয়া ইউনিয়নের ফারক্কাবাদ বাজার এলাকায় প্রথম জনরোষের মুখে পড়েন। সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পরবর্তীতে বাগড়া বাজার এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন তারা। সেখানে গণপিটুনিতে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সেলিম খান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'শাপলা মিডিয়া'র কর্ণধার ছিলেন। অন্যদিকে তার ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন। সেলিম খানের বিরুদ্ধে পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও
এলাকাকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারসহ একাধিক অভিযোগ ছিলো। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান ছিলো।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই আদালতের নির্দেশে মরদেহ দুটি কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে।








