বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯

ফরিদগঞ্জে অবৈধ ড্রেজারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কৃষিজমি ও আবাদ

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জে অবৈধ ড্রেজারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কৃষিজমি ও আবাদ
ছবি : প্রতীকী

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন যেনো মহামারির আকার ধারণ করেছে। ফরিদগঞ্জের সর্বত্রই এখন এই অবৈধ ড্রেজিংয়ের উপদ্রব। এর ফলে কৃষির আবাদ নষ্ট হচ্ছে, কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে এবং বাড়িঘর ভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চির্কা চাঁদপুর ও মধ্য চাঁদপুর গ্রামের একাধিক কৃষিজমি নষ্ট করে চলছে এই অবৈধ ড্রেজিং

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফসলি জমি গ্রাস করে বালু তুলে বিক্রি করায় এলাকার কৃষি আবাদ অনেকটাই বিলুপ্ত হতে বসেছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরজমিনে দেখা গেছে, মধ্য চাঁদপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের দোকানের সামনে জনৈক কুদ্দুস খানের মালিকানাধীন জমিতে বাউন্ডারি দিয়ে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চলছে। আর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্য একটি কৃষিজমিতে ওই বালু ভরাটের কাজ চলছে। এর আগেও একই কায়দায় আরেকটি জমি থেকে বালু তুলে বিভিন্নজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. লতিফ নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই ড্রেজার দিয়ে ঠিকাদারি ভিত্তিতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে ড্রেজার মালিক লতিফকে পাওয়া যায়নি। এসব কাজে গণমাধ্যমের পরিচয়ধারী কিছু অসাধু লোকও জড়িত, যারা প্রশাসন ও সাংবাদিক ম্যানেজের নামে এসব কাজে সহায়তা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, একসময় এ গ্রামে প্রচুর কৃষি আবাদ হতো। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করায় ফসলি জমি ও বাড়িঘর যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। এ কারণে তারা কৃষিজমি নষ্ট করে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের বা প্রজেক্ট তৈরি করছে। যৌথ পরিবার ছেড়ে আলাদা হওয়ার নামেও অনেকে কৃষি আবাদ নষ্ট করে বাড়িঘর নির্মাণ করছে; এতে আগের চেয়ে কৃষি আবাদ অনেক কমে গেছে। যেহেতু ড্রেজার মেশিন চালানো সরকারিভাবে নিষিদ্ধ, আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ড্রেজার পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, এ উপজেলাটি কৃষিঅধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে আগে কৃষি আবাদের অনেক রেকর্ড রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনফসলি জমি নষ্ট করে বাড়িঘর নির্মাণসহ নানা কারণে কৃষি আবাদ হুমকিতে পড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কৃষি আবাদ রক্ষা করার জন্যে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, অবৈধ এসব ড্রেজার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এখনই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়