বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০১

বাবার শতকোটি টাকার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।
বাবার শতকোটি টাকার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাবার রেখে যাওয়া শতকোটি টাকার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে ভাইদের বিরুদ্ধে।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) রাত ৮টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজার এলাকার মৃত হাফেজ মুছলে উদ্দিনের কন্যা বিলকিস হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিলকিস হাসান বলেন, “আমার বাবা ২৩ বছর আগে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি শহরের বর্তমান পানসী রেস্টুরেন্টের জমি, স্টেশন রোডের পেট্রোল পাম্পসহ জমি, শাহজিবাজার পেট্রোল পাম্প ও তার পেছনের জমি, আশিদ্রোন গ্রামে ২২ কিয়ার ফসলি জমি, পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় ১১৪ শতক জমি, মারকাস মসজিদের পেছনে ১৫০ শতক জমি এবং পৌরসভার পোস্ট অফিস এলাকায় দুটি ভবনসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে যান। আমরা ৪ বোন ও ৭ ভাই। এর মধ্যে ২ ভাই ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ভাই ও মরহুম দুই ভাইয়ের সন্তানদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। ভাইয়েরা আমাদের ৪ বোনকে বাবার বৈধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে নিজেরাই অবৈধভাবে তা ভোগদখল করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী কামাল হোসেন মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে আমরা থানা-পুলিশ ও আদালতের দ্বারস্থ হলেও ভাইয়েরা তা মানছেন না; বরং আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।”

বিলকিস হাসান জানান, ভানুগাছ রোডের পানসী রেস্টুরেন্টের জমি থেকে প্রাপ্ত মাসিক ২ লাখ টাকা ভাড়া, প্রায় ৩০ লাখ টাকার লিজ এবং চারপাশের দোকান ভাড়া ও জামানতের লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করলেও বোনদের কোনো অংশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে পানসী হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধের জন্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে স্থাপনা নির্মাণকাজ ৬ মাস বন্ধ থাকার পর পৌরসভা থেকে অনুমোদন নিয়ে রেস্টুরেন্টটি আবার চালু করা হয়। কোনো কিছু না জানিয়ে পৌরসভা কীভাবে এর অনুমোদন দিয়েছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।

একপর্যায়ে গত ৪ মার্চ ২০২৬ মৌলভীবাজার আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন বিলকিস হাসান। পরদিন ৫ মার্চ আদালত ‘শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নোটিশ’ জারি করেন। নোটিশে বিবদমান জমিতে অনুপ্রবেশ ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রেখে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্দেশ অমান্য করে বিবাদীপক্ষ আদালতে অনুপস্থিত থাকে এবং স্থাপনা নির্মাণকাজ চালিয়ে যায়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, “গত আগস্ট মাসে ছেলেকে নিয়ে পানসী রেস্টুরেন্টের পেছনের অংশে মার্কেট করার উদ্দেশ্যে জমিতে গেলে বিএনপি নেতা নূর আলম সিদ্দিকী ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই নাহিদ)কে সাথে নিয়ে আমার বড় ভাই মফিজ উদ্দিন ও আলাউদ্দিন আমাদের কাজে বাধা দেন। তারা চলে যাওয়ার পরপরই মফিজ উদ্দিন আমাদের ওপর আক্রমণ করেন এবং আমার ছেলে কাইফকে লাঠিপেটা করেন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বড় ভাই সামসুদ্দিন মারা যাওয়ার আগে পোস্ট অফিসের ২টি ভবন ও পূর্বাশা এলাকার জমি ৪ বোনকে মৌখিকভাবে বণ্টন করে দেন। একটি ভবন মার্কেট হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং অপর ভবনটি দুই বোনকে দেওয়া হয়। কিন্তু অন্য ভাইয়েরা আমার অংশের কয়েকটি দোকান জোরপূর্বক নতুন ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেন। ওই ব্যবসায়ীরা আমাদের ভাড়া না দিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ব্যবসায়ী সমিতিতে বিচার চাইলেও ভাইয়েরা আমার দখলের অংশ দাবি করছে।”

ভাইদের মনোভাব তুলে ধরে বিলকিস হাসান প্রশ্ন তোলেন, “আমার ভাইয়েরা মৌখিকভাবে দেওয়া জায়গাটুকু নিয়েই খুশি থাকতে বলছে। প্রশ্ন হলো, বাবার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে ভাইদের কি এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো অধিকার আছে?”

তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করি এবং আমার সন্তানরা শ্রীমঙ্গলে থাকে। ভাইদের অব্যাহত হুমকির মুখে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। বাবার পৈতৃক সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা করুণা চাই না, দেশের আইন অনুযায়ী বিচার ও পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিলকিস হাসানের ভাই মফিজ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বোনদের জায়গা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মৌখিকভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেখানেই বসবাস করছেন।”

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়