প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১৪:৩০
ব্রাজিলের খেলাধুলার দর্শন অনুকরণীয়
---পিপল দাস

একজন নৃত্যশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীর কলমেও ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ফুটে উঠেছে। তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজ নাট্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পিপল দাস, যিনি নৃত্যশিল্পীর পাশাপাশি নৃত্য কোরিওগ্রাফারও। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠকে তার প্রতিক্রয়া জানাতে গিয়ে লিখেছেন,
|আরো খবর
ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কিন্তু কিছু কিছু দল আছে, যাদের প্রতি সমর্থন শুধুমাত্র খেলার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা একটি সংস্কৃতি, একটি আবেগ এবং একটি জীবনদর্শনের অংশ হয়ে ওঠে। আমার কাছে ব্রাজিল ফুটবল দল ঠিক তেমনই একটি নাম।
একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, শিল্প ও ফুটবলের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। নৃত্যের মতোই ফুটবলেও প্রয়োজন ছন্দ, সৃজনশীলতা, গতি, কৌশল এবং সৌন্দর্য। আর এসব গুণের অপূর্ব সমন্বয় আমরা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি ব্রাজিল ফুটবল দলের খেলায়।
পিপল দাস আরো লিখেন, ব্রাজিলের ফুটবল মানেই জাদুকরি ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস, আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং দর্শকদের মুগ্ধ করার এক অনন্য শিল্প। যেমন একজন নৃত্যশিল্পী মঞ্চে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন দেহভঙ্গিমার মাধ্যমে, তেমনি ব্রাজিলের ফুটবলাররা মাঠে তাদের শিল্পীসত্তা প্রকাশ করেন বলের জাদুতে।
ফুটবল সম্রাট Pelé থেকে শুরু করে Ronaldo Nazário, Ronaldinho, Kaká এবং বর্তমান সময়ের Neymar— প্রত্যেকেই ফুটবলকে শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, বরং একটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের সাফল্য যেমন গৌরবের, তেমনি তাদের খেলাধুলার দর্শনও অনুকরণীয়। জয়-পরাজয় খেলারই অংশ, কিন্তু সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়ার যে ঐতিহ্য ব্রাজিল ধারণ করে, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড়ো শক্তি।
বাংলাদেশে ব্রাজিল সমর্থকদের সংখ্যা অসংখ্য। গ্রামের মাঠ থেকে শহরের অলিগলি— সর্বত্র হলুদ-সবুজ পতাকার উড়াউড়ি দেখা যায়। বিশ্বকাপ এলেই যেনো এক টুকরো ব্রাজিল এসে হাজির হয় আমাদের ঘরে, আমাদের হৃদয়ে। একজন সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, ব্রাজিলের ফুটবল আমাদের শেখায় সৃজনশীল হতে, আনন্দকে উদযাপন করতে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সৌন্দর্য খুঁজে নিতে। তাই ব্রাজিল আমার কাছে শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটি শিল্প, আবেগ, স্বপ্ন এবং উদযাপনের এক জীবন্ত প্রতীক। ফুটবলের সৌন্দর্য চিরজীবী হোক, আর মাঠের প্রতিটি ছন্দ আমাদের মনে করিয়ে দিক—খেলাও এক ধরনের শিল্প।








