বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৩

স্ট্যান্ড ছাড়াই ১৭ বছর ধরে ইজারা দিচ্ছে এবং টোল আদায় করছে চাঁদপুর পৌরসভা!

টোল বন্ধের দাবি সিএনজি চালকদের!

সমাধানের আশ্বাস পৌর প্রশাসকের

কবির হোসেন মিজি
টোল বন্ধের দাবি সিএনজি চালকদের!

চাঁদপুর শহরে সিএনজি চালিত অটোরিকশার নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড নেই। অথচ পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা দেয় এবং টোলও আদায় করে। চালকদের এবং জনগণের প্রশ্ন : স্ট্যান্ড ছাড়া এবং ন্যূনতম যাত্রীসেবা ছাড়া স্ট্যান্ড ইজারা ও টোল আদায় করা হয় কার স্বার্থে? খোদ চাঁদপুর পৌরসভায় ১৭ বছর যাবত চলে আসছে এই অনিয়ম। অথচ রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক কারোরই এ বিষয়ে কোনো কথা নেই। প্রকাশ্যে এমন বড়ো ধরনের একটা অনিয়ম, অনৈতিক কাজ বছরের পর হয়ে যাচ্ছে! অথচ এটি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না।

জানা গেছে, নির্ধারিত স্ট্যান্ড ছাড়াই দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চাঁদপুর শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এই অনিয়ম, অনৈতিক কাজটির বন্দোবস্ত খোদ পৌর কর্তৃপক্ষ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সাল থেকে চালকদের কাছ থেকে এ টোল নেয়া হলেও এখনো স্থায়ী কোনো স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন শহরের ওয়্যারলেস, বাবুরহাট, বাসস্ট্যান্ড এবং পালবাজার ব্রিজের গোড়ায় পৌরসভা থেকে ইজারা নিতে ইজারাদারের নিয়োগকৃত কর্মচারী সিএনজি চালকদের কাছ থেকে গাড়িপ্রতি ১৫ টাকা করে নিয়মিত টোল আদায় করছেন।

অথচ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, টার্মিনাল বা নির্ধারিত স্ট্যান্ড ছাড়া সড়ক বা মহাসড়কে কোনো ধরনের টোল আদায় করা যাবে না। এ বিষয়ে এর আগেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়। ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল এবং ২০১৯ সালের ২২ মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে স্ট্যান্ডবিহীন টোল আদায় বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এদিকে নির্ধারিত স্ট্যান্ড ছাড়া পৌর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে গত ১ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জাতীয়তাবাদী সিএনজি শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।

এদিকে সিএনজি চালকদের জন্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১৯ মে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের লেকের পাড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সাবেক বেবীস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রী ছাউনি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং চালকদের বিশ্রামাগার নির্মাণের জন্যে পৌর প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা গেছে, চাঁদপুর জেলা সদরে নিবন্ধিত প্রায় ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এছাড়া সদরের বাইরে আরও প্রায় ৫ হাজার মিলিয়ে মোট ১০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা এই শহরে চলাচল করছে। অথচ তাদের জন্যে কোনো নির্ধারিত ও পরিকল্পিত স্ট্যান্ড না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তি।

চাঁদপুর জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রিপন হোসেন, পৌর অটোরিকশা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মনির মিয়াজী এবং জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মঞ্জুর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কোনো বৈধ স্ট্যান্ড বা প্রয়োজনীয় সুবিধা না দিয়েই প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত টোল আদায় করে আসছে। চালকরা প্রতিদিন টোল পরিশোধ করলেও শহরে সঠিকভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছে না। এমনকি সড়কে যাত্রী তুলতে গেলে ‘রং পার্কিং’ দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। তারা আরও বলেন, যদি টোল আদায় করা হয়, তবে আগে নির্ধারিত স্থানগুলোতে বৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তোলা, পার্কিং সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, যাত্রী ছাউনি, টয়লেট এবং চালকদের বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে। লেকের পাড়সহ দুটি স্থানে টয়লেট নির্মাণের প্রাক্কলন সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও আগামী দু থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্ট্যান্ড স্থাপনের বিষয়ে তিনি জানান, সিএনজি চালকদের সঙ্গে খুব শিগগিরই বৈঠকে বসা হবে। আলোচনা করে পৌরসভার উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণের মাধ্যমে স্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ড ছাড়া টোল আদায় চলতে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে চালকদের মধ্যে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে--এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়