প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৭
ফরিদগঞ্জে ছয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনের নতুন ঘর নির্মাণ কাজ উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক
সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত ও উৎফুল্ল

ভাঙ্গাচুরা কুঁড়ে ঘরে মা ও ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইবোন একসঙ্গে বাস করেন। তাদের করুণ কাহিনীর সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের পর এগিয়ে আসে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অর্থায়নে এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সহযোগিতায় তিন রুম বিশিষ্ট টিনশেড পাকা ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান , উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য বিল্লাল হোসেন মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
|আরো খবর
নির্মাণ কাজের ফলক উন্মোচন শেষে ভবনের ইট গেঁথে কাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। পরে প্রতিবন্ধী পরিবারের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের জামা কাপড় ও চিনি সেমাই তুলে দেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের আজিম বাড়িতে এসে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তাদের প্রতিবন্ধী হওয়ার কাহিনী ও জীবন মান সর্ম্পকে জানেন। পরে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের আয়না যে গণমাধ্যম, তার আরেকটি বড়ো উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে ফরিদগঞ্জে। বিভিন্ন টিভি ও সংবাদপত্রে ছয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনের করুণ কাহিনী উঠে আসার পরই আমাদের নজরে আসে। শুধু আমরা নই, সমাজের যারা বিত্তশালী রয়েছেন তাদেরও উচিত সরকারের পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় এগিয়ে আসা। আমরাও এখানেই থেমে থাকবো না। ফরিদগঞ্জসহ পুরো জেলায় যেখানেই প্রতিবন্ধীসহ অসহায় লোকজন রয়েছেন সেখানে ছুটে যাবো। সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত ও উৎফুল্ল হয়েছি। আমি জীবনে মনে হয় যতোগুলো ভালো কাজ করেছি, তার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কাজ এটি।
উল্লেখ্য. ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের আজিম বাড়ির বাসিন্দা মনুহর ও ফুল বানু দম্পতির ৭ সন্তানসহ বর্তমানে ৮ সদস্যের পরিবারের ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে শুধু বড়ো মেয়ে সুস্থ আছেন। বাকি সন্তানরা সবাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাদের শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধলেও অর্থাভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা, অনাহারে কাটছে জীবন। থাকার নেই ভালো বাসস্থানের ব্যবস্থা। তাই পুরো পরিবারের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘরেই তাদের বসবাস চলছে। গাদাগাদি করে তারা থাকছেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা হলেন : মনুহর ও ফুল বানু দম্পতির ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৩), তাজুল ইসলাম (৪১), জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৭), বিল্লাল হোসেন (৩৬), মো. আবদুর রব (৩৪) ও রেহানা বেগম (২৫)। সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জন্ম হলেও ৬ থেকে ৭ বছর বয়সে সবাই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী জীবনে প্রবেশ করেন তারা।








