প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০০:৫৯
সৌন্দর্য ও নকশায় অতুলনীয়
ইতিহাসের সাক্ষী পশ্চিম গাব্দেরগাঁও পাঁচ গম্বুজ জামে মসজিদ

ঐতিহ্যের ধারক কিন্তু অবহেলিত এবং আলোচনার বাইরে উপজেলার পুরোনো গাব্দেরগাঁও পাঁচ গম্বুজ জামে মসজিদ। অনেকটা নিরবে নিভৃতে শত শত বছর পার করেছে মসজিদটি। জনশ্রুতি রয়েছে মসজিদটির বয়স ৪শ’ থেকে ৫শ’ বছর হবে। তবে এর সপক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সঠিক গবেষণায় বেরিয়ে আসবে মসজিদের আসল বয়স। এ জনপদে বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার সময়কালের অবকাঠামো রয়েছে। ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলার হুগলিতে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। এক সময় তা পুরো বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। কৃষকদের নীল চাষে বাধ্য করতে বৃহত্তর কুমিল্লার ফরিদগঞ্জের সাহেবগঞ্জে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নীল উৎপাদনের প্রশাসনিক অফিস ‘নীলকুঠি’ স্থাপন করা হয়। ১৭৫৭ সালের পর থেকে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ঔপনিবেশিক শাসনের যুগ শুরু হয়। তবে এই শাসন দু পর্বে বিভক্ত ছিলো। প্রথম পর্ব-১৭৫৭ থেকে ১৮৫৮ সালের ইস্ট-ইন্ডিয়ান কোম্পানির শাসন, দ্বিতীয় পর্ব-১৮৫৮ থকে ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ সরকারের শাসন। সাহেবগঞ্জের নীলকুঠির সাথে গাব্দেরগাঁও পাঁচ গম্বুজ মসজিদের সরাসরি যোগাযোগের একটি রাস্তার কথা উল্লেখ রয়েছে পুরানো কিছু কাগজে। তবে কত খ্রিস্টাব্দে সাহেবগঞ্জ নীলকুঠি স্থাপন করা হয় তার সঠিক সাল জানা যায়নি। যদি ধরে নেই ঔপনিবেশিক শাসনের শুরুর দিকে মসজিদটি স্থাপন করা হয়, তাহলে মসজিদের বয়স ২৬৯ বছর।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম গাব্দেরগাঁও গ্রামের ভূঁইয়া বাড়িতে মসজিদটি অবস্থিত। উল্লেখ্য গাব্দেরগাঁও গ্রামটি এতোই বড়ো যে, ৩টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করতে হয়। ৭নং ওয়ার্ডে বদরপুর এবং ৯নং ওয়ার্ডে বারপাইকার কিছু অংশ থাকলেও ৮নং ওয়ার্ড পুরোটাই গাব্দেরগাঁও গ্রামে। এ গ্রামেই শত শত বছর ধরে বৈশাখী মেলা বসে। ঐতিহ্যের মুকুটে আরেকটি পালক হলো পাঁচ গম্বুজ জামে মসজিদটি। মূল মসজিদের আয়তন ছোট হলেও এর ভাবগাম্ভীর্য বিশাল। মাঝখানের বড়ো গম্বুজের পরিধি নিয়ে মূল মসজিদ। বড়ো গম্বুজের চার কোণায় তুলনামূলক ছোট আরো ৪টি গম্বুজ রয়েছে। উপজেলায় আরো যে ৪/৫টি মসজিদ রয়েছে সে মসজিদের নকশা আর এই মসজিদের নকশা অনেকটাই আলাদা। শুধু গম্বুজের মিলটা আছে। টেরাকোটাসহ অন্যান্য নকশা ব্যতিক্রম। ছাদের মাঝে মাঝে একাধিক কলস বা হাড়ির নকশাও রয়েছে। মূল মসজিদের উপর এবং পশ্চিম, দক্ষিণ পাশ ছাড়া বাকি অংশ সংস্কার করতে গিয়ে নষ্ট করা হয়। ভেতরের অংশে টাইলস বসানোর কারণে মূল সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। মূল মসজিদটি এতোই ছোট যে সেখানে ৩৫/৪০ জনের বেশি মানুষ একসাথে নামাজ পড়তে পারেন না। তাই মুসল্লিদের চাহিদা অনুযায়ী ২০০৮ সালে পেছনে আরেকটি ভবন তোলা হয়। ২০২০ সালে মসজিদটি দ্বিতল করা হয়। সব মিলিয়ে এখন সেখানে ২৫০ জন মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন।
পশ্চিম গাব্দেরগাঁ পাঁচ গম্বুজ জামে মসজিদটি ৫ শতাংশ ভূমির ওপর স্থাপিত। মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া। খতিব ও পেশ ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা রাসেল।








