প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৭
আইন না মানার প্রতিযোগিতা চলছে লড়াইরচর গ্রামে

পৈত্রিক ও খরিদ সূত্রে অন্যের মালিকানা সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি করে প্রথমে বিজ্ঞ আদালতে ভুল তথ্য দিয়ে মামলা (দেওয়ানী মামলা নং ৪৯৫/২০২৩) দায়ের করেন সাহাবুদ্দিন বেপারী ওরফে সাবু উল্লাহ বেপারী। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলমান অবস্থায় বাদী নিজেই নালিশি সম্পত্তি হস্তান্তর করে দিয়েছেন অন্যজনকে, সেই সম্পত্তিতে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই বাদী ও তার লোকজন মিলে এ মামলার বিবাদী মিজানুর রহমানের বনজ ও ফলদ গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছেন। বাদীপক্ষের একজন সাইফুল ইসলামের নির্দেশে বিবাদীর অন্য মামলা আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞাকৃত সম্পত্তিতে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ করছে। অদ্ভুত এ ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের লড়াইরচর গ্রামের।
|আরো খবর
জানা যায়, ওই গ্রামের সাহাবুদ্দিন বেপারী ওরফে সাবু উল্লাহ বেপারীর বড়ো ভাই মো. লেদু মিয়ার কাছ থেকে সম্পত্তি ক্রয় করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। কাগজপত্র ও সরজমিন যাচাই-বাছাই শেষে সাহাবুদ্দিন বেপারী ওরফে সাবু উল্লাহ বেপারীর পরিবার ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে গত ২০২৩ সালের ৪ জুলাই বিক্রেতা মো. লেদু মিয়া সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেন ক্রেতা মিজানুর রহমানকে।
খরিদসূত্রে মালিক হয়ে মিজানুর রহমান এ সম্পত্তিতে বনজ ও ফলদ বাগান সৃজন করেন। লেদু মিয়ার ভাই সাবু উল্লাহ বেপারী হঠাৎ করেই বাদী হয়ে আদালতে (দেওয়ানী মামলা নং ৪৯৫/২০২৩) দায়ের করেন তার সম্পত্তি দখল হয়েছে মর্মে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নালিশি সম্পত্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু বাদী নিজেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছে নালিশি সম্পত্তির একাংশ বিক্রয় করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান নিরূপায় হয়ে আদালতে প্রতিকার চাইলেও সাবু উল্লাহ বেপারী ও তার সহযোগী সাইফুল ইসলাম নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাস্তবিক অর্থে আদালতকে অসহযোগিতা করে উল্লেখিত সম্পত্তিতে ভুক্তভোগীর সম্পত্তির সীমানা পিলার ও কাটা তারের বাউন্ডারি লুটপাট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর মালিকানাধীন লাখ লাখ টাকার গাছগাছালি কেটে সাবাড় করে ওই সম্পত্তির ওপর গভীর নলকূপ স্থাপন, দেয়াল ও বিল্ডিং নির্মাণ করছে।
মিজানুর রহমান বলেন, আমার কাছে সম্পত্তি বিক্রেতা লেদু মিয়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আমার বর্তমান প্রতিপক্ষদের উপস্থিতিতে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেয়। প্রথমে তারাই আদালতে মামলা করে, পরবর্তীতে আইন-আদালতের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সম্পত্তি বিক্রি, আমার মালিকানা সম্পত্তিতে থাকা বনজ ও ফলদ গাছ কেটে সাবাড় করে জোরপূর্বক দখল করছে। সাবু উল্লাহ বেপারী ও তার সহযোগী সাইফুল ইসলাম গংকে আদালত ডাকলে তারা বুঝায় আদালতকে মানে, কিন্তু সরজমিনে বাস্তবিক অর্থে আদালতের আদেশ নিষেধ কিছুই মানে না। এ বিষয়ে আমার পক্ষে একাধিক মামলার পুলিশি তদন্ত রিপোর্টসহ নানান প্রমাণ রয়েছে। আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে বিচার চাই।এদিকে এ বিষয়ে মামলাটির বাদী সাবু উল্লাহ বেপারী বলেন, মামলায় যা হওয়ার হোক, আমি সম্পত্তি বিক্রি করেছি, বাড়ির কাজ চলছে, আদালতের বিষয় পরে দেখা যাবে।
নালিশি সম্পত্তি জবরদখলদার সাইফুল ইসলাম আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে বাড়ি করছি। 'আপনার দ্বারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত হচ্ছে কিনা' এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিজানুর রহমান শুধু শুধু আদালতে ঘুরেন। সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, মিজানুর রহমান আদালতের সময় নষ্ট করে মিস গাইড করছেন।এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আইন না মানার একটি সংস্কৃতি এখানে দেখছি। যা মোটেও ভাল নয়। আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা সকলের জন্যে বাঞ্ছনীয়। যেহেতু বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।








