বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৫

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারণার হিড়িক

সংসদ নির্বাচনের আমেজ না কাটতেই শাহরাস্তিতে স্থানীয় নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে প্রার্থীরা

সংসদ নির্বাচনের আমেজ না কাটতেই শাহরাস্তিতে স্থানীয় নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে প্রার্থীরা
মো. মঈনুল ইসলাম কাজল

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ না কাটতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই শাহরাস্তিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রার্থীদের ছবি দিয়ে দোয়া চাওয়ার হিড়িক পড়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব বাতিল করেন। একই সাথে পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে শুরু করেছেন। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় একাধিক প্রার্থী তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিভিন্ন উপায়ে ভোটারদের নজরে আসতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শাহরাস্তিতে এ মুহূর্তে পৌরসভার চেয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে বেশি তোড়জোড় শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, বিএনপির নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছানাউর রহমান পাটোয়ারী মেশকাত উল্লেখযোগ্য। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা কামালকে। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল করিম মিনার ও যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল। জামায়াতে ইসলামীর ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন আল আমিন একাডেমির শিক্ষক শাহ্ আলম।এছাড়াও আরও একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমান তালে চলেছ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী নিয়ে আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিয়াজী, যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন পাটোয়ারী। এঁদের মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম দিকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে মো. মোস্তফা কামাল বিজয়ী হন। বিএনপি সরকারের সময় পৌর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হেরে যান আক্তার হোসেন পাটোয়ারী। বিগত পৌর নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে মেয়র পদে লড়েছিলেন তৎকালীন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিয়াজী। ইতোমধ্যেই জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বাদশা ফয়সাল মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

প্রথম শ্রেণির তালিকাভুক্ত শাহরাস্তি পৌরসভার

১২টি ওয়ার্ডে অর্ধ শতাধিকের বেশি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে এবার দেখা যাবে তরুণ ও নতুন মুখ। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। ওয়ার্ডগুলোতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী দেখা গেলেও জামায়াতের একক প্রার্থী দেখা যাবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইফতার মাহফিল ও নিজস্ব বলয়ে জনসমর্থন আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক অবস্থান, সামাজিক উন্নয়ন ও বিগত দিনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নিজেদের পক্ষে অবস্থান সুদৃঢ় করতে অনেকেই নেমে পড়েছেন। শেষ পর্যন্ত তফসিল ঘোষণার পর জানা যাবে কারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে উপজেলা ও পৌরবাসীকে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়