বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:০৪

ড. মিলন দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় কচুয়ায় উৎসবের আমেজ

ড. মিলন দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় কচুয়ায় উৎসবের আমেজ
মো. নাছির উদ্দিন

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের খবরে কচুয়াসহ গোটা চাঁদপুর জেলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীরকে পরাজিত করেন। এরপর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ কচুয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. মিলন। তিনি রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং নিউইয়র্ক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলোজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ব্রুকলীন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিলো 'বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা'। অনেকে মনে করেন, এই গবেষণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং দেশ-বিদেশে অর্জিত উচ্চশিক্ষা ড. মিলনকে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ভিত্তি দিয়েছে। কচুয়া আসনে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে ‘অবিসংবাদিত নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উল্লেখ্য, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন কচুয়া আসনের সংসদ সদস্য ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বিকেলে তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়