প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৪:৩২
নান্দনিক ফুটবলের রাজত্ব টিকে থাক: হাসানাত রাজিব

হাসানাত রাজিব, যিনি চাঁদপুর সদরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা। চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করে এখন একটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তিনি অনুবাদ, কবিতা লিখা এবং ছোটগল্প রচনা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে লিখেছেন একটি লেখা, যাতে আর্জেন্টিনার প্রতি তার অনুরাগের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। নিচে হুবহু উপস্থাপন করা হলো তার লেখা--
|আরো খবর
আকাশি-নীল জার্সির মোহে আমার আবদ্ধ হওয়ার গল্প শুরু ২০০২ সালের বিশ্বকাপ থেকে। সেবার শুধু নাম শুনেই মুগ্ধ হয়েছিলাম কিংবদন্তি গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার প্রতি। সেই মুগ্ধতাই আমাকে আর্জেন্টিনার সমর্থকে পরিণত করেছিলো। তখনও জানতাম না, এই ভালোবাসা একদিন জীবনের দীর্ঘতম আবেগময় যাত্রাগুলোর একটি হয়ে যাবে। এরপর এলো ২০০৬। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে খেলার মাঠ—সবখানেই এক নতুন বিস্ময়ের নাম উচ্চারিত হতে লাগলো। নাম তার লিওনেল মেসি। নিজের চোখে তার প্রথম ঝলক দেখার পরই যেন বুঝে গিয়েছিলাম, ফুটবল নামক শিল্পের নতুন এক জাদুকরের আবির্ভাব ঘটেছে। সেই থেকে আর্জেন্টিনার শৈল্পিক, ছন্দময় ও নান্দনিক ফুটবলের সঙ্গে শুরু হয় আমার নিরন্তর পথচলা। সময় যত গড়িয়েছে, প্রত্যাশার পারদও তত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একটাই স্বপ্ন—কবে দেখবো ফুটবলের এই মহাজাদুকরের হাতে সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফি? ২০১০ পেরিয়ে এলো ২০১৪। স্বপ্ন তখন হাতের নাগালে। কিন্তু ভাগ্য যেনো নির্মম এক পরিহাস করলো। ট্রফি ছুঁয়ে দেখার এতো কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা অধরাই থেকে গেলো। সেই রাতের হতাশা শুধু আর্জেন্টিনার নয়, যেন বিশ্বের কোটি কোটি মেসি-ভক্তের হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছিলে। আমিও ভেবেছিলাম, হয়তো আর কখনও সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। কিন্তু কিছু স্বপ্নের নিজস্ব নিয়তি থাকে। সোনালি ট্রফিটিও যেন একগুঁয়ে ছিলো—তার শেষ ঠিকানা হতে হবে মেসির হাত। তাই ২০২২ সালের FIFA World Cup Qatar 2022-এ মেসি তাঁর অসামান্য প্রতিভা, নেতৃত্ব ও জাদুকরি ফুটবলে পূরণ করলেন সেই বহুদিনের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা। অবশেষে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি চুম্বন করলেন তিনি, আর পূর্ণতা পেলো এক প্রজন্মের স্বপ্ন।
চার বছর পর আবারও এসেছে বিশ্বকাপের দুয়ারে দাঁড়ানোর সময়। হয়তো এটাই সর্বকালের সেরাদের একজন মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তাই হৃদয়ের গভীরতম প্রার্থনা একটাই—শেষ অধ্যায়টি যেন লেখা হয় আরেকটি সোনালি ট্রফির দীপ্তিতে। বিশ্বমঞ্চে আবারও আকাশি-নীল পতাকা উড়ুক, আর মেসির হাতেই উঠুক সেই মহামূল্যবান ট্রফি। আর্জেন্টিনার ফুটবল এক গল্প। আর সেই গল্পের রাজত্ব—নান্দনিক ফুটবলের রাজত্ব—চিরকাল টিকে থাক।








