মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৭

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক তারেক হোসেন জানালেন

মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী পর্যাপ্ত নেই, যা আছে তা অনেকটাই অকেজো

আলমগীর কবির
মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী পর্যাপ্ত নেই, যা আছে তা অনেকটাই অকেজো

মো. তারেক হোসেন। বিপিএড ডিগ্রিধারী একজন পরিপূর্ণ ক্রীড়া শিক্ষক নন, তবুও হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চায় ব্যাপৃত রাখার চেষ্টা করে চলছেন। এক-দু বছর নয়, একেবারে ১২ বছর যাবৎ। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠের ‘ক্রীড়াকণ্ঠ’ বিভাগের মুখোমুখি হয়েছেন নির্দ্বিধায়। অকপটে বলেছেন নানা কথা। ক্রীড়াকণ্ঠের নয়টি প্রশ্নের জবাবে তিনি যেসব কথা বলেছেন, নিচে তা’ তুলে ধরা হলো :

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে আপনার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়েছেন বিপিএড পাস করা সহ আপনার অতীত ক্রীড়া নৈপুণ্যের জন্যে, না অন্য কোনো যোগ্যতার কারণে? কতোদিন ধরে আপনি কর্মরত আছেন এখানে?

তারেক হোসেন : আমি মো. তারেক হোসেন মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে ক্রীড়া শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আমি প্রায় ১২ বছর দক্ষতা ও সুনামের সাথে এ দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠানে কি প্রতিদিন ক্লাস শুরুর পূর্বে সমাবেশ বা অ্যাসেম্বলি হয়? সেটা কি আপনি পরিচালনা করেন?

তারেক হোসেন : আমার প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সকালে ক্লাস শুরুর পূর্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং অত্র সমাবেশ আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে আপনি জেলা বা উপজেলা ক্রীড়া অফিসের নির্দেশনা, প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশনা অনুসরণ করেন, নাকি নিজের খেয়েল খুশি মত করেন?

তারেক হোসেন : আমি শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে মাউশির নির্দেশনা মোতাবেক জেলা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশক্রমে এবং অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরামর্শক্রমে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি বিদ্যালয়ে ক্রীড়াচর্চার ব্যাপারেই বেশি ব্যস্ত থাকেন, না প্রতিদিন শ্রেণিতে পাঠদানে ব্যস্ত থাকেন? আপনি প্রতিদিন কতোটি শ্রেণিতে পাঠদান করেন তথা ক্লাস নেন? কোন্ কোন্ শ্রেণিতে কোন্ কোন্ ক্লাস নেন?

তারেক হোসেন : আমার প্রতিষ্ঠানের সকল ক্রীড়া বিষয় আমার তত্ত্বাবধানে ও প্রধান শিক্ষকের পরামর্শক্রমে হয়ে থাকে। ক্রীড়াচর্চার পাশাপাশি শ্রেণি-পাঠদান করে থাকি। দৈনিক চারটি ক্লাস নিতে হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির শারীরিক শিক্ষা, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর সার্বিক শিক্ষা বিষয় এবং নবম ও দশম শ্রেণীর গার্হস্থ্য বিজ্ঞান।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ে কী কী ক্রীড়া সরঞ্জাম আছে? আপনাকে যদি ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে আপনার প্রতিষ্ঠানের ফুটবল বা ক্রিকেট দল নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বলা হয়, আপনি সেটা পারবেন কি?

তারেক হোসেন : আমার বিদ্যালয়ে ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, দাবা, ক্যারাম, ভলিবল সহ অন্যান্য খেলার জন্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরঞ্জাম নেই। যা আছে তা অনেকটাই অকেজো। যদিও খেলার উপকরণ কম, তবুও আমার প্রতিষ্ঠান সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছে যে কোনো খেলায় অংশগ্রহণ করার জন্যে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর কখনো কি আন্তঃশ্রেণী ফুটবল বা ক্রিকেট বা অন্য টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন কি? না করে থাকলে করার পরিকল্পনা আছে কি?

তারেক হোসেন : আমি আমার প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার পরে আমার প্রতিষ্ঠান উপজেলার ক্রীড়া সম্পর্কিত সকল প্রোগ্রামে এবং অত্র ইউনিয়নের সকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে আসছি এবং ভবিষ্যতে সর্বদাই সকল খেলায় অংশগ্রহণ করার জন্যে আমার প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত রয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার প্রতিষ্ঠানে দাবা, ক্যারাম ইত্যাদি ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা আছে কি?

তারেক হোসেন : আমার প্রতিষ্ঠানে দাবা, ক্যারাম এবং ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ খেলায় অংশগ্রহণ করে থাকে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রীড়াচর্চায় মোবাইল ফোন প্রধান প্রতিবন্ধক, না অন্য কিছু?

তারেক হোসেন : বর্তমানে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে দিন দিন আসক্ত হয়ে পড়ায় সেটি ক্রীড়ায় তাদের নিরুৎসাহিত করছে। শিক্ষার্থীরা যদি মোবাইল ফোনের সদ্ব্যবহার না করে, তাহলে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা অন্ধকার জগতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে--এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আমাদের প্রশ্নমালার বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে বলতে পারেন।

তারেক হোসেন : আপনাদের প্রশ্নগুলো সময়োপযোগী এবং যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন ছিলো। আপনাদের মাধ্যমে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে আমার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরতে পেরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়