মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫৮

রামপুর হাইস্কুল মাঠের দিনগুলো

মিজানুর রহমান রানা
রামপুর হাইস্কুল মাঠের দিনগুলো

শৈশবের সেই মাঠ যেন ছিলো আমাদের ছোট্ট পৃথিবী। সকালবেলা রোদ উঠলেই মাঠে ছুটে যেতাম, আর বিকেলের আলো গাঢ় হতে হতে সন্ধ্যা হলেই তবে বাড়ি ফিরতাম। মাঠের চারপাশে ছিলো কচি ঘাস, মাঝখানে ধুলো উড়ানো জায়গা—সেখানেই গড়ে উঠতো আমাদের খেলাধুলার আসর। আমার বেশি পছন্দ ছিলো ফুটবল ও ভলিবল। ফুটবল খেলতাম ক্লাসমেটদের সাথে, আর ভলিবল খেলতাম বড়ো ভাইদের সাথে। এর মধ্যে ছিলো রবিউল ভাই, বিমল দাদা সহ এলাকার আগের ক্লাসের বড়ো ভাইরা, যারা আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতো এবং তাদের সাথে ভলিবল খেলার সুযোগ করে দিতো। বেশ আনন্দ হতো বড়োভাইদের সাথে ভলিবল খেলতে। আজও তাদেরকে মাঝে মাঝে দেখি, সালাম বিনিময় হয়।

খেলাধুলার রঙিন স্মৃতি

খালি পায়ে দৌড়ে বেড়ানো ফুটবল, বাঁশের ব্যাটে টেপ মোড়ানো বলের ক্রিকেট, দল বেঁধে আমাদের সহপাঠীরাসহ বিকেলে খেলতাম। সবই ছিলো আমাদের বাল্যকালের এক আনন্দের উৎস। বর্ষার দিনে মাঠ কাদায় ভরে যেতো, কিন্তু খেলা থামতো না। কাদা মাখা শরীর নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফেরা ছিলে এক অমূল্য সুখ।

মাঠের সামাজিকতা

মাঠ শুধু খেলার জায়গা ছিলো না, ছিলো বন্ধুত্বের কেন্দ্র। সেখানে আমরা শিখেছি একসঙ্গে লড়াই করা, হেরে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানো, আর জয় পেলে সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। মাঠে দাঁড়িয়ে আমরা প্রথম বুঝেছি দল মানে কী, সহযোগিতা মানে কী। তাপস, বাবুল, শাহজাহান সহ আমাদের খেলার সাথীরা আজ একেকজন একেক স্থানে, তবে মাঝে মাঝে দেখা হয়, কথা হয় আর সময় ও সুযোগ থাকলে চা পানের আসরও চলে।

সময়ের পরিবর্তন

আজ সেই মাঠে খেলাধুলা হয়, কিন্তু আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য নেই। ক্রিকেট ও ফুটবল এখনো আছে, তবে মোবাইল গেমস, ইউটিউব, রিল আর টেলিভিশনের টানে মাঠে ভিড় কমে গেছে। কাবাডি, দাড়িয়াবান্ধা কিংবা গুলি-ডান্ডার মতো দেশীয় খেলাগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে। মাঠে এখন স্কুলের অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা কিংবা স্থানীয় মেলা বেশি হয়।

ব্যক্তিগত অনুভূতি

যখন মাঠে দাঁড়িয়ে দেখি আগের মতো ছেলেমেয়েদের ভিড় নেই, তখন মনে হয় সময় যেন আমাদের শৈশবের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। তবুও মাঠের প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে আমাদের হাসি, দৌড়ঝাঁপ আর বন্ধুত্বের গল্প। হাজীগঞ্জের রামপুর হাইস্কুল মাঠ আমার কাছে শুধু একটি জায়গা নয়, বরং জীবনের প্রথম পাঠশালা—যেখানে খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকে মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা পেয়েছি।

আমাদের সময়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন সৈয়দ আহমেদ স্যার, শিক্ষক আলী নেওয়াজ স্যার (প্রয়াত), পুলিন বিহারী স্যার (প্রয়াত), ধীরেন্দ্র স্যার, হাবিব স্যারসহ অনেকেই। এর মধ্যে আলী নেওয়াজ স্যার ছিলেন শরীর চর্চার শিক্ষক। তার হাতের মার যে খেয়েছে সে হয়তো মানুষ হয়েছে অথবা স্কুল পালিয়ে আর পড়াশোনা হয়নি। ওই স্যারগণ আসলেই ছিলেন জিনিয়াস, যাদের ইঙ্গিতে আমরা মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আজকের ছেলেরা স্যারদেরকে অতোটুকু সম্মান করতে জানে বলে আমি দেখি না। আর এ কারণেই ওরা অটোপাসের জন্যে ব্যাকুল হয়ে থাকে হয়তো। যাই হোক, যুগ পাল্টাবে, শিক্ষক, শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও ধরণও পাল্টাবে, আর স্কুলের গণ্ডির মধ্যের সেই খেলাধুলা আর ওভাবে ফিরে আসবে কিনা তা অনিশ্চিত।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়