মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪১

জেলা ক্রীড়া সংস্থার লীগ -টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক শিরোপাসহ ফুটবলে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হবার রেকর্ড

ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন বিষ্ণুদী ক্লাব

মো. মিজানুর রহমান
ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন বিষ্ণুদী ক্লাব

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন ‘বিষ্ণুদী ক্লাব’ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। তাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পারফরম্যান্স ও শক্তিশালী দল গঠনের মাধ্যমে চাঁদপুর ফুটবল অঙ্গনে সবচেয়ে বড়ো দাপট দেখানোর রেকর্ড তথা ৫/৬ বার শিরোপা জয়ের আধিপত্য ভাঙ্গতে পারেনি অন্য কোনো ক্লাব।

চাঁদপুর জেলার সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. সেলিম আকবরের নেতৃত্বে নতুন কমিটির মাধ্যমে ক্লাবটি এখন খেলাধুলা,

এলাকার সামাজিক ঐক্য ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত রেখেছে। এটি মূলত স্থানীয়ভাবে জাতীয় মানের ফুটবলার তৈরি, জনসচেতনতা সৃষ্টি, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কাজে নিয়োজিত।

চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত বিষ্ণুদী ক্লাব ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বে জনপ্রিয় একটি ক্লাব। চাঁদপুর পৌর এলাকার বিষ্ণুদী মৌজার অধিবাসী তরুণ যুব সমাজ স্বাধীনতার আগে এই ক্লাবটি গড়ে তোলেন। তখন রকেট বিষ্ণুদী ক্লাব নামে ছিলো এটি। স্বাধীনতা পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে বর্তমান ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা হাজী শাহ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এলাকাবাসীকে সংগঠিত করে বিষ্ণুদী ক্লাব নামে পুনর্গঠন করেন। এ ক্লাবের প্রধান সঞ্চালক হাজী শাহ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, আমাদের ক্লাবটি পাকিস্তান আমলের। সিনিয়র ভাইয়েরা রকেট বিষ্ণুদী ক্লাব নামে এটি গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে অ্যাথলেটিক্স বিষ্ণুদী ক্লাব নামে ছিলো। সেখান থেকে আমরা

স্থানীয় ফুটবল খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে বিষ্ণুদী ক্লাব গঠন করি। এলাকায় পাড়ার ফুটবল এবং বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট বেশ জনপ্রিয়। ১৯৮৩ সাল থেকে চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা শুরু করে বিষ্ণুদী ক্লাব। আমাদের এই ক্লাবের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ফুটবলার দ্বারা ক্লাব দল গঠন করা এবং জাতীয় মানের ফুটবলার তৈরি করা। বিষ্ণুদী ক্লাব তাতে সফলও হয়েছে। চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা ফুটবল লীগের টানা তিনবার হ্যাটট্রিক শিরোপা অর্জন এবং ডিসিকাপ সহ টুর্নামেন্টে দুবারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব বিষ্ণুদী। শুধু ফুটবলেই নয়, স্থানীয় অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, কাবাডি, ভলিবলসহ অন্যান্য খেলাধুলায়ও অংশগ্রহণ ছিলো ক্লাবটির। এই ক্লাবের ফুটবলার আনোয়ার হোসেন মানিক, জাহাঙ্গীর গাজী, ইউসুফ বকাউল, বারেক, ফায়ার সার্ভিসের

মনিরসহ আরো অনেকে ন্যাশনাল টিমে খেলেছেন। সেজন্যে ক্লাবটিকে ফুটবলার তৈরির কারখানা বলা যায়।

ক্লাব সভাপতি অ্যাড. সেলিম আকবর বলেন, বিষ্ণুদী ক্লাব চাঁদপুরের ফুটবল অঙ্গনে সফল এবং জনপ্রিয় একটি নাম। যতোবারই ক্লাবচি

লীগ-টুর্নামেন্ট খেলেছে, চ্যাম্পিয়ন হবার যোগ্যতা রেখেছে। আমাদের ক্লাবটি ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাব। যার রয়েছে অর্ধশত বছরের চেয়েও বেশি সময়ের ইতিহাস।

জানা যায়, বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাফজয়ী বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বিষ্ণুদী ক্লাবের হয়ে চাঁদপুর জেলা লীগে খেলেছেন। এছাড়াও খেলেছেন তৎকালীন সময়ের জনপ্রিয় ফুটবলার মোনায়েম মুন্না, চুন্নু, আমানুল্লাহ, কুমিল্লার ফরহাদ, ফায়ার সার্ভিসের চন্দনসহ আরো অনেক নামকরা প্লেয়ার। বিষ্ণুদী ক্লাব দল নিয়ে মাঠে নামলে জমজমাট হয়ে উঠতো চাঁদপুর স্টেডিয়াম।

বিষ্ণুদী ক্লাবকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্যে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হাজী শাহ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ বিএ, বর্তমান সভাপতি অ্যাড. সেলিম আকবর, মরহুম অ্যাড. দেওয়ান আব্দুল আলী, নূর মোহাম্মদ দেওয়ান, নূর মোহাম্মদ গাজী, আব্দুল জলিল মোল্লা, জহির পাটোয়ারী, নাজিরপাড়ার ইরান, জিলানী, প্রফেসর পাড়ার চারু মাঝি, সিরু মাঝি, আমির মাঝি, ফায়ার সার্ভিসের এডি ফরিদ আহমেদ মনির, স্টেডিয়াম সড়কের কামরুল হায়দার টুটুল চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

চাঁদপুরের আলোচিত এবং জনপ্রিয় এই ক্লাবটি ক্রীড়াঙ্গনে সুনামের পাশাপাশি মানব কল্যাণ সংগঠন হিসেবেও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজের সাথে জড়িত।

এই এলাকায় স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ক্লাবটি বেশ জনপ্রিয়, যা স্থানীয়ভাবে মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বর্তমানে ক্লাবটির অবস্থান চাঁদপুর পৌর বাস স্ট্যান্ড। পৌর বাস স্ট্যান্ড মার্কেটের একটি কক্ষে ক্লাব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুদী ক্লাবের নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর। সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সভাপতি অ্যাড. সেলিম আকবর। তিনি বলেন, এই ক্লাবটির সুনাম ও ঐতিহ্য রয়েছে। আমি চাই এই এলাকার সকলকে নিয়ে আমরা এই ক্লাবের মাধ্যমে সকল সামাজিক কাজে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখতে। এলাকার যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে আমরা সব সময় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

অচিরেই আমরা বিষ্ণুদী ক্লাবের মাধ্যমে একটি শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করবো। এতে ব্যাডমিন্টন ও ক্যারাম খেলার আয়োজন থাকবে । এই ক্লাবটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে এই এলাকার সকল মানুষের সুখে-দুখে সব সময় পাশে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকলে সকলের মন ও শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একটি সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, বিষ্ণুদী ক্লাবটি চাঁদপুর শহরের মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। এই ক্লাব থেকে বহু জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। চাঁদপুর জেলার মধ্যে এই ক্লাবটির যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। আমি চাই ভবিষ্যতেও ক্লাবটির সুনাম ধরে রাখতে। সকলেই যদি আমার পাশে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই ক্লাবের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে পারবো।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মানিকের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপদেষ্টা শোহেবুর রহমান, মাহবুব সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মাঝি, কার্যকরী সদস্য মিজান লিটনসহ আবুল খায়ের ছৈয়াল, মো. হোসেন আহমেদ প্লেটু, মহসিন পাটোয়ারী। সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ক্লাবের উপদেষ্টা চান মিয়া মাঝি, আমিন, মনির মিজি, মঞ্জু মিজি, জাকির বন্দুকসী, খালেক মিয়াজি, মনির গাজী, দুলাল মিজি, করিম গাজী, পল্লব পাটোয়ারী সহ আরো অনেকে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়