প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৪
ফরিদগঞ্জে ‘রাজনৈতিক তালাক’ নিয়ে তোলপাড়

ফরিদগঞ্জে ‘রাজনৈতিক তালাক’ নিয়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তালাক নিয়ে চলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র দু গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
|আরো খবর
এর শুরুটা হয়েছে বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ। আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ হান্নান। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীসহ বেশ ক'জনকে বহিষ্কার করে বিএনপি। একই সাথে স্থগিত করা হয় উপজেলা বিএনপিসহ যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি। যদিও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে এম এ হান্নান বিজয়ী হন।
নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি কার্যত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে—ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে এক পক্ষ, এমপি নির্বাচিত হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে এক পক্ষ এবং অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর পক্ষে তৃতীয় পক্ষ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নানের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসায়, মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে শুরু হয় দল থেকে বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের নতুন পথচলা। সেই অনুযায়ী গত ২৭ আগস্ট বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে দু পক্ষের সকলের উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৯ আগস্ট শনিবার ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি সভায় উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী, মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতরা তালাকপ্রাপ্ত নারীর মতো। তিনি কীভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়ে তালাকপ্রাপ্ত ও দলের বিরুদ্ধাচারণকারীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করেন?
মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী এর পাল্টা জবাব দেন ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে নিজের অনুসারী, দল থেকে বহিষ্কৃত এবং ধানের শীষের বিরুদ্ধাচারণকারীদের নিয়ে আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে। তিনি নাছির পাটওয়ারীকে ‘টুপি ছাড়া হুজুর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন হারুনকে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান অর্থাৎ তালাক দিয়েছে। তারা কীভাবে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত নেতার সাথে ঘর-সংসার করছেন?
এদিকে ‘রাজনৈতিক তালাক’ নিয়ে দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ফরিদগঞ্জে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে যে কোনো সময় ঘোষিত হতে পারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি। এ নিয়ে চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা। দু পক্ষই যে কোনো উপায়ে কমিটি হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর মাঝেই এমন বিতর্ক ফরিদগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে সংকট বাড়িয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, মূলত ফরিদগঞ্জের বিএনপি রাজনীতিতে কোন্দল জিইয়ে রেখেছে দলেরই একটি অংশ, যা প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে সকলেই জানেন। কিন্তু সমস্যা হলো ‘ভাসুরের নাম’ কেউ মুখে আনতে চান না। তাছাড়া চাঁদপুর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে জেলার সব ক'টি উপজেলায় একজন করে সমন্বয়কারীকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও ফরিদগঞ্জে দেওয়া হয় দুজনকে। কাকতালীয়ভাবে ফরিদগঞ্জে অনুষ্ঠিত দুটি সমাবেশেই দুই সমন্বয়ক উপস্থিত ছিলেন এবং দুজনই ঝাঁজালো বক্তব্য প্রদান করেন। ফলে আগামী দিনে ফরিদগঞ্জে বিএনপির রাজনীতির বিভেদ যে আরও প্রকট হবে, তা স্পষ্টতই দৃশ্যমান।








