বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৮

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-১৯

খুব কাছ থেকে জনগণের সেবা করতে হলে জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই

..................উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া

কামরুজ্জামান টুটুল
খুব কাছ থেকে জনগণের সেবা করতে হলে জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই

হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিএম কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া। ২০২১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এ সময় পর্যন্ত তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ দায়িত্বে আসার আগ থেকে একনিষ্ঠভাবে ও বিশ্বস্ততার সাথে সাংগঠনিক অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির বাইরে তিনি হাজীগঞ্জ আল কাউসার স্কুলের মাধ্যমিক শাখার সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেন,

"জামায়াতে ইসলামীর হাতেই স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্র নিরাপদ থাকবে। আমরা সকল লোভের ওপরে থেকে দায়িত্ব পালন করি।" চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক আয়োজন 'স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি'-এর কাছে মো. কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়ার দেওয়া সাক্ষাৎকারটি সরাসরি নিচে তুলে ধরা হলো--

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতি বলুন।

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : আলহামদুলিল্লাহ, ২০০৩ সাল থেকে জামায়াতের সাথে জড়িত হই। শুরুতে আমি কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করি। মুন্সীগঞ্জ জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট পর্যায়ে কাজ করা শুরু করি। সেখান থেকে আমার নিজ এলাকা হাজীগঞ্জের ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে চলে আসি। এখানে আসার পরে আমার নিজ এলাকা ৮নং ওয়ার্ড নোয়াপাড়া ইউনিটে কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করি। অতঃপর উক্ত ওয়ার্ডের সেক্রেটারী ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এর পরে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী, তারপরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। উপজেলা জামায়াতের আমির হিসেবে ২০২১ সালে উপজেলার দায়িত্বে চলে আসি। উপজেলা এমারতের নির্বাচনে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমি উপজেলা সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পাশাপাশি উপজেলা বাইতুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন (উপজেলা/পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ)-এ কোত্থেকে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আমি হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো। সংগঠন থেকে এই পদে নির্বাচন করার জন্যে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের আলোকে আমাকে এ পদে মনোনীত করা হয়েছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে আমি বা আমাদের সংগঠন ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমি এ পদে নির্বাচন করবো এ রকম আমার ব্যক্তিগত আশা ছিলো না। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আমাকে এখানে আসতে হয়েছে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ও মেনে চলতে বাধ্য। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই মূলত আমি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।

হ্যাঁ, আমি এর আগে আমার নিজ ইউনিয়ন ৪নং কালচোঁ ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফ্যাসিস্টের কালো থাবায় পরাজিত হই। কিন্তু এলাকার জনগণ আমাকে পূর্বের মতো এখনো সেখানে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করে থাকে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ যা-ই বলেন, দলীয়ভাবে আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে থাকে। তাই এখানে আমার নিজস্ব কোনো মতামত নেই। জামায়াতে ইসলামীর নির্দলীয় নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সবাই মানে এবং মানতে বাধ্য। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেবার কোনো সুযোগ নেতা বা কর্মীর নেই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা হলো : সাংগঠনিকভাবে প্রতিটি ইউনিট থেকে আমাদের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনশক্তিকে আমরা ভোটের মাঠে কাজ করাবো। ইনশাল্লাহ আমাদের যে সাংগঠনিক জনশক্তি রয়েছে তাদেরকে আমরা আরও ব্যাপক এবং বিস্তৃতভাবে মাঠে কাজ করাচ্ছি। আমাদের যে ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে তা ধরে রাখার জন্যে আমরা নির্বাচনে নামবো, নির্বাচনে থাকবো ইনশাল্লাহ। জ্বি আমরা ভোটারদের কাছে যেতে শুরু করেছি। আরো আগে থেকেই আমাদের নির্বাচনে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং চলমান রয়েছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : সম্প্রতি শেরপুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনের হাল দেখলে আমরা মনে করি, এ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়াটা সন্দেহজনক। তারপরেও সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে সম্পন্ন হয় সে লক্ষ্যে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আমরা আশা করি।

অন্যথায় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে জনগণকে সাথে নিয়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : হ্যাঁ, আমি নির্বাচিত হতে পারলে আমার কাছে জনগণের যে অধিকার বা প্রত্যাশা থাকবে তা পালনে সচেষ্ট থাকবো। আমি একজন জামায়াতকর্মী হিসেবে মনে করি, আমি একজন সমাজকর্মী রূপে সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম, আছি ও থাকবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : জামায়াতে ইসলামী মূলত ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজে ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে এবং জনগণের জন্যে বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধাগুলো যথাযথভাবে পৌঁছে দেয়া হবে আমার একান্ত লক্ষ্য।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরুন।

কলিম উল্লাহ্ ভূঁইয়া : আমার বাবা মরহুম আব্দুল মালেক, আমি এক বাবার এক সন্তান। আমার স্ত্রী একজন শিক্ষিকা। ৪ মেয়ের মধ্যে বড়ো মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, মেজো মেয়ে একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষে, সেজো মেয়ে অষ্টম শ্রেণি ও ছোটজন প্রাথমিকে অধ্যয়নরত।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়