শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:২০

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-১০

আমার রক্তে মাংসে বিএনপি, আমার বিশ্বাস দল আমাকে মূল্যায়ন করবে

----চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মানিকুর রহমান মানিক

গোলাম মোস্তফা
আমার রক্তে মাংসে বিএনপি, আমার বিশ্বাস দল আমাকে মূল্যায়ন করবে

চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা যুবদলের বর্তমান সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক বলেছেন, আমার রক্তে মাংসে বিএনপি। ছাত্রজীবন থেকে এই দলের রাজনীতি করে আসছি। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা এবং

অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। অতএব আমার আত্মবিশ্বাস, দল আমাকে অবশ্যই চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন দেবে।

ছাত্রজীবনে জনগণের সেবার ব্রত নিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে এসে তৃণমূলের ছাত্রদলের একজন কর্মী থেকে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মানিকুর রহমান মানিক। বর্তমানে জেলা যুবদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলাবাসীর সেবা করার শপথ নিয়ে আসন্ন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। নির্বাচন বিষয়ে তাঁর সাথে কথোপকথন প্রশ্নোত্তর আকারে নিচে তুলে ধরা হলো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চাঁদপুর সদর

উপজেলা পরিষদের কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?

মানিকুর রহমান মানিক : আমি ছাত্রজীবন থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৃণমূলের একজন কর্মী থেকে বিভিন্ন ইউনিটে বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছি। ছাত্র রাজনীতি শেষে বর্তমানে যুব দলের রাজনীতি করছি। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনে নিজ গ্রাম থেকে অর্থাৎ তৃণমূল থেকে জনগণের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে ছিলাম। অতএব স্থানীয় জনগণের অনুরোধে আমি আসন্ন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?

মানিকুর রহমান মানিক : ছাত্রজীবনে জনগণের সেবা করার উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতিতে পা রেখেছি। সে থেকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছে আমার রয়েছে।

হ্যাঁ, আমি ২০১৪ সালে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। চাঁদপুর জেলা বিএনপির দুঃসময়ের কাণ্ডারী ও সভাপতি, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শ্রদ্ধেয় শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের অনুরোধে সে সময় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

মানিকুর রহমান মানিক :

ছাত্রজীবন থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতিতে প্রবেশ করি। ছাত্র রাজনীতির তৃণমূল থেকে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছাত্রদের নেতৃত্ব দিয়েছি। বর্তমানে চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। যার ফলে আমাকে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিনতেন ও বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আমাকে চিনেন। তাছাড়া দলের দুঃসময়ে এবং বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের চাঁদপুরের প্রিয় অভিভাবক চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। বিগত সরকারের পুলিশি নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছি, মামলা হামলার শিকার হয়েছি।

এক কথায় আমাদের চাঁদপুরের বিএনপির অভিভাবক শেষ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি মহোদয় সকল কিছু অবগত রয়েছেন। আমার বিশ্বাস, তিনি সকল কিছু সুবিবেচনায় এনে আমাকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নের

বিষয়ে ভূমিকা নিবেন।

দেখুন, আমি যেহেতু বিএনপির রাজনীতি করি, জেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, অতএব দলের বাইরে গিয়ে আমার একক কোনো সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছে নেই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?

মানিকুর রহমান মানিক : একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো কোনো অন্যায় করার চেষ্টা করিনি এবং কোনো অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত হইনি। ফলে আজকের এই অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে শুধু আমার আচার-আচরণ এবং আমার সততা নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তাছাড়া জনপ্রিয়তা আছে বলেই সেটি আমাকে এ পর্যায়ে এনেছে। তাই জনপ্রিয়তা যাচাই করার প্রশ্নই উঠে না। মাঠে বা নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হওয়ার জন্যেই নির্বাচন করবো, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?

মানিকুর রহমান মানিক :

নির্বাচনকেন্দ্রিক অবশ্যই আমার চমকপ্রদ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনাগুলো আমি আমার নির্বাচনের মাঠে অবশ্যই প্রয়োগ করবো। সেগুলো প্রকাশ করার বিষয় নয়।

রাজনীতি হলো সমাজসেবার একটি অংশ। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির মধ্য দিয়ে আমার নিজ এলাকাবাসীসহ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের সুখ দুঃখের পাশে ছিলাম এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছে পোষণ করে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে, মহল্লা, এলাকায় আমার যাওয়া হয়েছে। সকলের সাথে আমার শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়েছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

মানিকুর রহমান মানিক : দেখুন বিএনপির জন্ম হয়েছে গণতন্ত্রের জন্যে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে। যে কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে নানা পরিকল্পনা করেও জনগণের মন

থেকে বিএনপিকে ভালোবাসার জায়গা থেকে মুছতে পারেনি। জনগণের হৃদয়ের দল হচ্ছে বিএনপি।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সেই ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে বিএনপি বদ্ধপরিকর। অতএব নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে, এটি আমি শতভাগ বিশ্বাস করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

মানিকুর রহমান মানিক : আমাদের এলাকার উন্নয়নে সবচেয়ে বড়ো অন্তরায় হচ্ছে নদী ভাঙ্গন। আমার উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন কম-বেশি নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা। সকল এলাকা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় আমি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবো।

শুধু তাই নয়, আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সকল ইউনিয়নের উন্নয়নে সমভাবে কাজ করবো। আমি ছাত্রজীবন থেকেই পরীক্ষিত একজন কর্মী। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে কোনো কাজ করি না। কিন্তু আমি দায়িত্ব নিয়ে আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। অতএব জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই উন্নয়ন কাজ বা সমস্যা সমাধানে আমার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।

মানিকুর রহমান মানিক :

বিগত সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে জনগণকে শাসনের নামে শোষণ করেছে। উন্নয়নের নামে লুটপাট ছাড়া আর কিছুই করেনি। এই উপজেলার গ্রাম অঞ্চলের এখনো ৮০ ভাগ রাস্তাঘাট একেবারেই বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। মানুষের চলাফেরায় নিদারুণ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় আমি গত ৫ আগস্টের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টসহ জনগণের নানা সমস্যার বিষয় নিজে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কখনো সরকারের সহযোগিতা নিয়ে সমাধান করার চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছি।

বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হচ্ছে, মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়ে তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। বিভিন্ন ইউনিয়নে ও গ্রামে

মাদকবিরোধী ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন অব্যাহত রেখেছি। সর্বোপরি আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ বিএনপির রাজনীতি করছি। দীর্ঘ এ রাজনৈতিক জীবনে যাদের সাথে রাজপথে একসাথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, সে সকল বন্ধুর মধ্যে আজ অনেক বন্ধু মহান জাতীয় সংসদের সদস্য, কেউ কেউ মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন। অনেকে দলের সিনিয়র নেতৃত্বে এসেছেন।

আমার বিশ্বাস, চাঁদপুরের বিএনপির অভিভাবক, দুঃসময়ে যার নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলা বিএনপি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়েছে, প্রিয় নেতা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই আমার বিগত দিনের কর্মকাণ্ড অবগত রয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান প্রিয় নেতা তারেক রহমান নিজেও আমার বিষয়ে অবগত আছেন। অতএব সকল কিছু বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমাকে দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন দিবেন বলে আমি আশাবাদী।

উল্লেখ্য, মানিকুর রহমান মানিক ১৯৯২ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন। এরপর চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাহিত্য সম্পাদক, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সভাপতি, চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্র রাজনীতি শেষে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তিনবার জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি সিনিয়র সহ-সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সর্বশেষ বর্তমানে জেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়