বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫০

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-১

৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এবার কাউন্সিলর পদে জয়ী হলে এলাকাবাসী প্রত্যাশিত সেবা পাবে ইনশাল্লাহ

---------মো. মহসিন মজুমদার লিটন

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট
৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এবার কাউন্সিলর পদে জয়ী হলে এলাকাবাসী প্রত্যাশিত সেবা পাবে ইনশাল্লাহ
ছবি: মো. মহসিন মজুমদার লিটন

খুব দ্রুতই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সে মতে চাঁদপুর কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হয়েছেন চাঁদপুর পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও এ ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মহসিন মজুমদার লিটন। প্রশ্নোত্তর আকারে সাক্ষাৎকারটি নিচে পত্রস্থ করা হলো--

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোথা থেকে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?

মহসিন মজুমদার লিটন : বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। ২০০৯ সাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমি ছয়বার চাঁদপুর পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছি। বারবার জনগণ আমার ওপর আস্থা রেখেছে এবং ভোটে রায় দিয়েছে। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সসয় এই জনরায় পাল্টিয়ে আমাকে হারানো হয়েছে। নির্বাচনী রেজাল্ট বানচাল করে জনগণ যাকে ভোট দেয়নি তাকে জয়যুক্ত করে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে এবং ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নমেন্ট ক্ষমতা নিয়ে ১৫ মাস পর একটি নির্বাচনকালীন পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে 'আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো' এই কথাটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনটি দেশের মানুষ দেশের সকল স্তরের রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ ও দেশ-বিদেশের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে বিপুল আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। স্বাধীনতার মহান ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশমাতা খালেদা জিয়ার সুযোগ্য বড়ো সন্তান জনাব তারেক রহমান এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করে ফেলতে। প্রধানমন্ত্রীর একটি কথা আমার ভালো লেগেছে, সেটি হলো, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয় নির্বাচন হিসেবে হবে না। এটি স্থানীয়ভাবেই দল মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই হবে। এ কারণে আমি এবার চাঁদপুর পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। যেটি আমি বিগত ছয়বারও করেছিলাম এবং জনগণ ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে সুফল পায়নি। তাই আশা করছি এবার জনগণ বিগতদিনের মতো আমাকে ভোট দেবেন এবং আমি তাদের আশা পূরণ করতে পারবো ইনশাল্লাহ। আমার নিজেরও একটা লক্ষ্য ছিলো মানব সেবার, যেটা দীর্ঘদিন থেকে আমি আমার হৃদয়ে লালন করছি। মানব সেবা করতে গেলে সরকারিভাবে একটি দায়িত্ব লাগে, যে কারণেই আমি বারবার নির্বাচনে গিয়েছি। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবক এই এলাকা থেকে পায়নি। তাই এবার যেহেতু ভোটের অধিকার মানুষ ফিরে পেয়েছে, তাই আমার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক, বৃদ্ধ, মায়েরা সকলেই আমাকে ভোট দিয়ে ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে জয়লাভ করাবে। ২০০৯ সালে এই ১৪ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। ব্রিজ, কালভার্ট, পানি নিষ্কাশন এবং সর্বশেষ ময়লা পরিষ্কারকরণ সব মিলিয়ে একটি চরম অবস্থায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণ আছে। তাই জনগণ চাচ্ছে একটি পরিবর্তন এবং এই এলাকার উন্নয়ন। মানুষ উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে আমাকে কাউন্সিলর পদে জয়লাভ করাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করেছেন? অতীতে কি কখনো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?

মহাসিন মজুমদার লিটন : আমি ২০০৯ থেকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন করে আসছি এবং জনগণ আমাকে বারবার ভোট দিয়েছে, কিন্তু তৎকালীন সরকারের হিংসামূলক নীতি ও বৈষম্যের কারণে জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবক পায়নি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

মহসিন মজুমদার লিটন : আমি একটি দলের আদর্শের সাথে যুক্ত আছি এবং জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি আমার আদর্শ। যদি দল দলীয়ভাবে নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় তবে সেটি ভিন্ন বিষয়। তবে আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন এ নির্বাচনটা হবে দল নিরপেক্ষ অর্থাৎ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না। তা-ই যদি হয়, তাহলে দলের অনেক কিছুই এখানে থাকবে না। তাই আমিও চাচ্ছি নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। হাসিনার মতো দলীয় নির্বাচন না হয়, ফ্যাসিস্ট না হয়। আমি নির্বাচিত হলে এই অবহেলিত ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিক্ষা খাতের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান, না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?

মহসিন মজুমদার লিটন : ওই যে আমি বললাম, আমি ইতোমধ্যেই ছয়বার নির্বাচন করেছি। আমি যদি নির্বাচিত হই, যে দুর্ভোগগুলো আমার এই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডবাসী প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হয়ে চলছেন, এগুলোর যাতে লাগাম টেনে ধরা যায় প্রধানত সে চেষ্টাই করবো । আমি আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের একজন কর্মী হিসেবে তাঁর সহযোগিতা নিয়ে এই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে যাতে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে পারি সে লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছি। চাঁদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং বাবুরহাটকে চাঁদপুরের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। সাংবাদিকদের, লেখকদের এবং জ্ঞানীগুণীদের ভাষায় আসলে বাবুরহাটের অনেক কাজ আছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ :

নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা জনসংযোগ শুরু করেছেন?

মহসিন মজুমদার লিটন : আমাকে একটু পেছনে যেতে হয়। ২০০১ সাল থেকে আমি যখন ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম, তখনই আমি নির্বাচন করার ব্যাপারে মনোনিবেশ করি। সেখানে ২০০৩ সালে আমি দল থেকে একটি সমর্থন কিংবা সাপোর্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য ওই সময় জাতীয় ভোটার লিস্ট থেকে আমার নামটি গায়েব হয়ে যায়। ২০০৩ সাল থেকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির পর থেকে আমি দীর্ঘদিন নির্বাচন এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রোগ্রামের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। আসলেই মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে। আমি আমার এই পথচলায় মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, চিকিৎসা, প্রতিবন্ধী ও এই সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে আমার অংশীদারিত্ব রেখেছি। রাস্তায় সমস্যা হয়েছে, সরকারের দিকে না তাকিয়ে নিজের থেকেই অনেক ক্ষেত্রে কাজ করেছি এবং সকলকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। যাতে করে মানুষের দুর্ভোগের লাগাম টেনে ধরা যায়। আগামী দিনগুলোতে আমার এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। আমাকে এই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণ দায়িত্ব দিলে সরকারের ও আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সমস্ত উন্নয়নগুলো আরো গতিশীল হবে এবং গতি পাবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনে সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

মহসিন মজুমদার লিটন : নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে আমি যে কারণে আশাবাদী, সেটা হচ্ছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরের নির্বাচনগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ এগিয়ে যেতে চায়, কেউ আর পেছনে যেতে চায় না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উভয়ই বলেছেন, সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও নির্দলীয় । সে কারণে আমি আশাবাদী, অবশ্যই বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন জনগণের রায়ে। তাই আমিও চাই নির্বাচন হোক জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এ বিষয়ে আমি আশাবাদী। নির্বাচনে আল্লাহ আমাকে জয়যুক্ত করলে আমি মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং সব সময় থাকবো। আমি চাই আসলেই মানুষের দুর্ভোগের লাঘব হোক। আমি দীর্ঘদিন থেকে মানুষের সেবা করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি, কিন্তু জানি না বিধিবাম। আমার এখন মেয়র নির্বাচন করার কথা ছিলো, যাই হোক। তবে আমি এবার আশাবাদী এবং জনগণও চাচ্ছে। আমি এবার আমার প্রাপ্তিটুকু পাবো বলেও আশাবাদী।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

মহসিন মজুমদার লিটন : আমি বিগত ছয়বার নির্বাচন করেছি এবং জনগণকে আশ্বাস দিয়েছি এবং এবারও একই আশ্বাস দিতে চাই। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড নবগঠিত এবং এখানে অনেক নদী ভাংতি পরিবার বসতি স্থাপন করেছে। তাদের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আমার আছে। দেখা যায়, অল্প পড়াশোনা করে অনেকেই বিদ্যালয় থেকে ঝরে যাচ্ছে, এদেরকে নিয়ে আমার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের এই বাবুরহাটের ময়লা, আবর্জনা, জলবায়ু দিন দিন দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আমার কাজ করার পরিকল্পনা আছে। আপনি জানেন, বাবুরহাটে দুটি খাল রয়েছে। একটি খাল চলে গেছে মহামায়া পর্যন্ত। আরেকটা খাল চলে গেছে বাবুরহাট হয়ে মতলব পর্যন্ত। এই দুটি খাল ময়লা আবর্জনায় একেবারে দূষিত। এ খালের পাশ দিয়ে যে সড়ক চলে গেছে সেখান দিয়েও চলাচল করতে জনগণের কষ্ট হয়। বাবুরহাট বাজারটিও ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাজার। সেই বাজারে এখন দোকানদাররা কাস্টমার পাচ্ছে না। আবার দোকানদার বাজারের বর্জ্য নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে তাদের নিয়মিত দোকানদারিও সঠিকভাবে করতে পারছে না। বরঞ্চ এখানে আরো মানুষের রোগ বালাই বেড়েছে। যেমন শ্বাসকষ্ট, কাশি, এলার্জিসহ অন্যান্য রোগ । অন্যদিকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাঘাটেরও বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। সামনে বৃষ্টির দিন আসছে। দেখা যাবে বিভিন্ন রোডে পানি জমে গেছে, মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেক রাস্তায় উপরের বাকলা পচে গেছে। কিন্তু এগুলোর কোনো প্রতিকার নেই। কারণ এখানে জনসেবা দেয়ার জনপ্রতিনিধি দীর্ঘদিন থেকে নেই।

আপনি জানেন, বর্তমানে এই পৌরসভার কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। ১৫ টি ওয়ার্ডের কোনো কাউন্সিলর নেই, মেয়র নেই। সেজন্যে জনগণের দুর্ভোগ অনেক। এ পরিস্থিতিগুলো নিয়ে পৌরসভায় গেলে সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে সেবাও পায়নি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরে উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।

মহসিন মজুমদার লিটন : আমার এই ১৪নং ওয়ার্ডের এখন পর্যন্ত কোনো কাউন্সিলর অফিস নেই। যে কারণে বিভিন্ন কাজে আমার এলাকার মানুষজনকে চাঁদপুর সদরে পৌরসভায় যেতে হয়। আল্লাহ যদি আমাকে নির্বাচিত করে, তবে আমি মেয়র সাহেবের ও আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক সাহেবের সহযোগিতা নিয়ে একটি কাউন্সিলর অফিস করবোই। এর পাশাপাশি আমরা পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছি, যদিও আমাদের নদীর পাশে বাড়ি। বাবুরহাটে কিংবা চাঁদপুর পৌরসভায় ভালো মানের পানি সরবরাহ নেই। যা-ই আছে শুধু সীমাবদ্ধ চাঁদপুর শহরের জন্যে। ৫-৭ ওয়ার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের ১৪নং ওয়ার্ডে একটি ভালো ডিপকলও নেই। আমি যদি নির্বাচিত হই, তাহলে নদী থেকে হোক অথবা পাতাল থেকে হোক পানির ব্যবস্থা করবো ইনশাল্লাহ। এটিও আমার একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার যে, সকলের জন্যে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরুন।

মহাসিন মজুমদার লিটন : আমার বাড়িটা হচ্ছে সাবেক ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নেে দক্ষিণ দাসদি গ্রামে, একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার মজুমদার বাড়ি। আমজাদ আলী মজুমদারের আমি নাতি, আমার বাবার নাম আব্দুল হালিম মজুমদার। আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন চাঁদপুরের এতিমখানা এখন শিশু পরিবার সেখানে জিয়াউর রহমান এসেছিলেন, রাস্তার দুপাশে অনেকের সাথে ওনাকে স্বাগত জানানোর জন্যে আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো উনার সাথে করমর্দন বা হাত মিলানোর। সেখান থেকেই যে আবেগ আমার মধ্যে এসেছে, সেখান থেকেই আমি বিএনপি করি। এর পাশাপাশি ওনার ১৯ দফা কর্মসূচির একটি বড়ো কাজ হলো খাল কাটা। আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন সড়ক ও জনপথের পাশে যে খাল এইখানে,

আমি মাটি কেটেছি। সেই সময় থেকে আমি বিএনপি করি।‌ আমি আমার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বিএনপি'র রাজনীতি করে যেতে চাই। আসলে রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের সেবা করা। অনেকেই এই সেবামূলক কাজ করে না বিধায় মানুষ অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করে না, যেটা অনেক ফিল্মে দেখায়। আমরা রাজনীতিকে খারাপভাবে ব্যবহার করেছি। আমরা রাষ্ট্রের টাকা, জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করেছি, বাড়ি করেছি, গাড়ি করেছি। কিন্তু এগুলো জনগণের কোনো উপকারে আসেনি। তাই আমি চাই বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের দল এবং আগামী দিনের পথচলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এই দলের প্রতি আমার আত্মবিশ্বাস এবং সেই সুবাদেই মানুষের সাথে কাজ করার চিন্তা-চেতনা আমার আছে এবং সব সময় থাকবে।

তিনি সর্বশেষ তার ১৪নং ওয়ার্ডবাসীকে শুভেচ্ছা জানান ও আসন্ন পৌর নির্বাচনে তাকে জয়যুক্ত করার ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা, দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়