প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৫
সুজনের আয়োজনে ‘জনগণের মুখোমুখি’ প্রার্থীগণ
জয়-পরাজয়কে ছাড়িয়ে মিলেমিশে বাসযোগ্য চাঁদপুর গড়ার অঙ্গীকার

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর আয়োজনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চাঁদপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদেরকে নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটার ও প্রার্থীদের অংশগ্রহণে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সুজন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের সভাপ্রধানে এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা।
নাগরিকদের পক্ষে বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, মাওলানা আব্দুর রউফ, উসিম উদ্দিন মাল এবং নারী সমাজের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন নারীনেত্রী রোজিনা আফরোজ মুক্তা। তারা চাঁদপুরের নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক ৪ লেন, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে স্টেশনগুলো চালু করা, নতুন ট্রেন চালু করা, চাঁদপুর-কক্সবাজার ট্রেন চালু করা, বড় স্টেশন মোলহেডকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, যানজট নিরসন, মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার বিষয়গুলো বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রার্থীদের বক্তব্যের পূর্বে প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামার সারাংশ তুলে ধরেন সুজন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী সৈয়দ নাছির উদ্দিন।
চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা হেভিওয়েট প্রার্থীরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাধারণ জনগণের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া,
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মাও. এএইচএম আহসান উল্লাহ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী কমরেড জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষকে সমর্থন দেয়া গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার উপস্থিত প্রার্থী ও নাগরিকদের দুর্নীতিমুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে শপথ বাক্য পাঠ করান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফ, সুজন-এর জেলা সহ-সভাপতি আলম পলাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীবৃন্দ। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি প্রাণবন্ত নির্বাচনী জনসভায় রূপান্তর করে।
প্রার্থীদের বক্তব্যে এইচএম আহসান উল্যাহ বলেন, রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার হলে কোরআন ও সুন্নার আলোকে রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবেন। বিজয়ী না হলেও তিনি বিজীয় প্রার্থীর সাথে থেকে উন্নয়নে কাজ করবেন।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সুজনের অঙ্গীকারে জুলাই আন্দোলনের বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় তিনি অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করেননি। এটি সংশোধন করে দিলে তিনি স্বাক্ষর করবেন। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য চাইলে উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন না। তিনি সকলের অংশগ্রহণে চাঁদপুরের উন্নয়ন করার অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, দল থেকে তারেক রহমানের ঘোষিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি নির্বাচিত হলে চাঁদপুরে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে চেষ্টা করবেন। তিনি সকলের কাছে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানান।
প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন বক্তব্যে বলেন, ভোটে প্রতিযোগিতা হবে, তবে জনে জনে নয়। নিরাপদ ভোটের পরিবেশ চান এই প্রার্থী। তিনি বলেন, চাঁদপুরের জুটমিলগুলো চালু করা এবং চরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক জোন করা হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বেকরাত্ব দুর হবে।
প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া বক্তব্যে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নির্বাচনী এলাকায় ন্যয় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। চাঁদপুরবাসীর প্রধান সমস্যা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ, সরকারি হাসপাতালকে ৫০০শয্যায় উন্নীতকরণ, মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবে রূপ দেয়ার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নে কাজ করবেন। এরপর অনুষ্ঠানে ভোটারদেরকে অঙ্গীকার পাঠ করানো হয়।
প্রশ্নোত্তর পর্বে এক ভোটার এএইচএম আহসান উল্যাহকে প্রশ্ন করেন তিনি নির্বাচিত হলে ওসমান হাদির বিচার করবেন কিনা। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই দেশের প্রচলিত নিয়মে এর বিচার হবে।
প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদকে প্রশ্ন করা হয় তিনি নির্বাচিত হলে অন্ধদের নিয়ে কীভাবে কাজ করবেন। উত্তরে তিনি বলেন, তারেক রহমান অন্ধসহ সকল প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনের জন্য যে পরিকল্পনা করেছেন তা বাস্তবায়ন করবেন। আরেক ভোটারের প্রশ্ন ছিলো নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৫ আগস্টের পরে বিএনপি নেতা আজম খানের ওপর হামলা এবং ইব্রাহীম কাজী জুয়েলের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে পরিস্থিতি কেমন হবে। উত্তরে তিনি বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে চাঁদপুরে কোনো ধরনের মব সন্ত্রাস করতে দেয়া হবে না।
প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়াকে প্রশ্ন করে এক নতুন ভোটার। তার প্রশ্ন হচ্ছে আল-আমিন একাডেমিতে তার প্রচার কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখা হয়। কেন এটি করা হচ্ছে। তিনি উত্তরে বলেন, বিষয়টি এমন নয়। একটি পরিত্যক্ত ঘরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানও হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আল-আমিন একাডেমি পতিত সরকারের সময় ডাকাতদের হাতে পড়েছিলো। ৫ আগস্টের পর এটি আবার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পরিচালনা করছেন। আরেক প্রশ্ন ছিলো জুলাই আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের কয়জন শহীদ হয়েছেন। উত্তরে তিনি বলেছেন, আমাদের আমিরে জামায়াত এই বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে যতজন শহীদ হয়েছেন তারা সকলেই দেশের বীর সন্তান। কোনো দলের হিসেবে তারা চিহ্নিত হবেন না।








