রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭

হাসপাতাল কি রোগীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ?

অনলাইন ডেস্ক
হাসপাতাল কি রোগীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ?

শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের স্বজনদের যদি নিজের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হারানোর আতঙ্কে থাকতে হয়, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। হাসপাতাল মানুষের আশ্রয়, চিকিৎসা ও ভরসার জায়গা। অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে যখন মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রাত কাটান, তখন তাদের নিরাপত্তাহীনতার সুযোগে চুরির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার) গভীর রাতে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে এক রাতেই অন্তত আটটি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীদের স্বজনেরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধ চোর চক্র এসব সামগ্রী নিয়ে যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাসপাতালটিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকার পরও এমন ঘটনা ঘটেছে। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, দায়িত্ব পালনের পরও কীভাবে চোরেরা এত নির্বিঘ্নে একাধিক রোগীর জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে গেল?

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে চুরির অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হলেও চুরির পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে, গৃহীত উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট পর্যালোচনা প্রয়োজন। আলোচনা, আশ্বাস কিংবা নির্দেশনা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করেন।

একটি সরকারি হাসপাতালের প্রধান দায়িত্ব রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সেবাকেন্দ্রেই যদি রোগী ও তাদের স্বজনেরা নিজেদের মালামাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে চিকিৎসাসেবার পরিবেশও ব্যাহত হয়। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি শিশুর স্বজনেরা এমনিতেই মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। তাদের ওপর চুরির মতো দুর্ভোগ চাপিয়ে দেওয়া শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানবিক বিবেচনায়ও অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত দায়িত্ব এড়িয়ে না গিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা। রাতে পর্যাপ্ত প্রহরা নিশ্চিত করা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নজরদারিতে রাখা, কার্যকর সিসিটিভি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে চুরির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু রোগী ও তাদের স্বজনদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এখন সেই নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়াই হবে দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

আমরা চাই না, চিকিৎসা নিতে এসে কোনো দরিদ্র রোগী বা স্বজনকে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় থাকতে হোক। হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা পাবেন, আর পাশে থাকা স্বজনেরা নিশ্চিন্তে তার সেবা করবেন—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, হাসপাতালের নিরাপত্তা কোনো বাড়তি সুবিধা নয়; এটি রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার অপরিহার্য অংশ। চুরির ঘটনার তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি এখন সময়ের দাবি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়