শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭

হুজুর (দ.) ভূমিষ্ট হলেন কীভাবে?

অনলাইন ডেস্ক
হুজুর (দ.) ভূমিষ্ট হলেন কীভাবে?

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

উক্ত ফতোয়া উল্লেখ করে মাওলানা আবদুল আউয়াল জৌনপুরী সাহেব নিজের মন্তব্য ও ফতোয়া এভাবে পেশ করেছেনÑ “আল্লাহর নিকট তৌফিক চেয়ে আমি (আব্দুল আউয়াল জৌনপুরী) বলছিÑ নবী করিম [দ.] আপাদমস্তক দেহধারী নূর।” যেমনÑ কোরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- “তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে একজন সম্মানিত নূর ও একটি স্পষ্ট কিতাব এসেছে।” পবিত্র হাসীসেও রাসূল [দ.]-কে নূর বলে প্রমাণ করা হয়েছে। যেমনÑ হযরত যাকওয়ান (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, “চন্দ্র-সূর্যের আলোতে নবী করিম [দ.]-এঁর ছায়া পড়তো না।”

কেননা, নূরের ছায়া হয় না। উক্ত হাদীস হাকিম তিরমিজী নিজ কিতাবে সংকলন করেছেন। হযরত ইবনে ছায়াব বর্ণনা করেন, “নবী করিম [দ.] ছিলেন আপাদমস্তক নূর। কেননা, যখন তিনি দিবাকরের আলোতে কিংবা চন্দ্রিমা নিশিতে চলাফেরা করতেন, তখন তাঁর ছায়া দেখা যেত না।”

নূরের প্রমাণবহ আরেকখানা হাদীস অন্য সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। নবী করিম [দ.] উক্ত হাদীসে এরশাদ করেছেন, “হে আল্লাহ! আমাকে নূর হিসেবে গণ্য কর।” (মাওয়াহেবে লাদুনিয়া)

নবী করিম [দ.] যে মায়ের গর্ভেও নূর হিসেবেই বিরাজমান ছিলেন, এ মর্মে আবু যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া কর্তৃক বর্ণিত হাদীসও এটার সত্যতা প্রমাণ করে। “সুতরাং নবী করিম [দ.] অন্যান্য মানব সন্তানের জন্মের চিরাচরিত নিয়মের ব্যতিক্রমধর্মী স্থান দিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছেন, এটা কোনো অসম্ভব ব্যাপারই নয়।” আল্লাহ যখন কিছু সৃষ্টির ইচ্ছা করেন, তখন পূর্ববর্তী চিরাচরিত যে কোনো নিয়ম ও রীতি ভঙ্গ করে নূতন পন্থায় সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে সৃষ্টি করতে পারেন।

তোমরাকি জানো না, কীভাবে আদম-হাওয়াকে চিরাচরিত নিয়মের ব্যতিক্রমধর্মী নিয়মে পয়দা করেছেন? হযরত ঈসা (আ.)-কেও চিরাচরিত নিয়মের বিপরীত ব্যবস্থায় শুধু মায়ের গর্ভে বীর্য ছাড়া পয়দা করেছেন।” সুতরাং নবী করিম [দ.]-কে ভিন্ন নিয়মে ভূমিষ্ট করানো অসম্ভব হবে কেন? Ñআব্দুল আউয়াল জৌনপুরী।

পাঠকবৃন্দ! জৌনপুরের মাওলানা আব্দুল আউয়াল সাহেব নবী করিম [দ.]-কে আপাদমস্তক নূর বলেছেন এবং মায়ের নাভির বামপার্শ্ব দিয়ে ভূমিষ্ট হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন। অথচ মাওলানা ফজলুল করিম তার ‘নূরে মুহাম্মদী’ বইয়ে নবীকে মাটি বলে উল্লেখ করেছে। ঢাকার দারুস সালামের আব্দুল কাহহার তার ‘অসিয়ত ও নছিহত’ বইয়ে বলেছে, “রাসূলে পাক [দ.] পিতার নাপাকী মায়ের নাপাকীর সাথে মিশে গর্ভে গিয়ে পুনরায় মায়ের নাপাক জায়গার ভিতর দিয়েই পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন।” (নাউজুবিল্লাহ!)

তাদের এই অশালীন ও অসভ্য উক্তি কুফরী পর্যায়ভুক্ত। (তাহকীরুল আম্বিয়ায়ে কুফরুন, ফয়যুল বারী শরহে বুখারী)।

আমরা এখানে জৌনপুরের মাওলানা আব্দুল আউয়াল জৌনপুরী ও দারুস সালামের আব্দুল কাহহার গংয়ের মধ্যে তুলনা করলে দেখতে পাবো, একজনের কথা সুপ্রমাণিত ও নূরে ভরপুর এবং অন্যজনের কথা দুর্গন্ধময় ও কুফরীতে ভরপুর এবং প্রমাণবিহীন। মাওলানা আব্দুল আউয়াল জৌনপুরী সাহেব ছিলেন বিজ্ঞ আলেম এবং কাহহার হচ্ছে নিরেট জাহেল ও মুর্খ। (চলবে)

সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়